চিত্রনায়ক শাকিব খান। ক্যারিয়ার দীর্ঘ হলেও তা বিতর্ক ও সমালোচনায় ঠাসা। প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং অস্ট্রেলিয়ায় এক নারী প্রযোজককে ধর্ষণ সবকিছু যেন তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে ফুল আর কাঁটা সম্পর্ক। বর্তমানে সাবেক স্ত্রী চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী ও ছোট ছেলে বীরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সময় কাটাচ্ছেন দেশের এই নায়ক।
গত ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শোক জানিয়ে পোস্ট করেন শাকিব। সেটিকে ঘিরে তুমুল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য টিএসসিতে শাকিব খানসহ শোক প্রকাশ করা তারকাদের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেছেন ছাত্র-জনতা।
এদিকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ছিল শাকিব খানের ঘনিষ্ঠতা। সেটার প্রমাণও তিনি দিয়েছেন বারবার। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন এমপি ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ছিল তার নিয়মিত ওঠাবসা। সেই সুবাদে বাগিয়ে নিয়েছেন নানা সুবিধা। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে করেছেন ভোটের ক্যাম্পেইনও। ভিডিও বার্তায় পলাতক শেখ হাসিনার প্রশংসা করে চেয়েছেন নৌকা মার্কায় ভোটও।
শুধু তাই নয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার কথাও গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন শাকিব খান। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি তিনি। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় শাকিব খান ছিলেন সরব। আওয়ামী ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সরকারি অনুদানের সিনেমা বাগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও বগলদাবা করেছেন এই নায়ক। সেইসঙ্গে তার বাড়ি গোপালগঞ্জ বলেও সবাইকে ফলাও করে বলেছেন আওয়ামী সুবিধাভোগী এই নায়ক।
বর্তমানে সময় পাল্টেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের উন্নয়নে নানা সংস্কার করে যাচ্ছেন। স্বৈরাচারী সরকারের সময় শোবিজ অঙ্গণের সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শাকিব খান। কিন্তু তিনিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের বোল পাল্টে নিজেকে অরাজনৈতিক দাবি করে পল্টি দিচ্ছেন। নিজেকে অরাজনৈতিক দাবি করে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দেশের একটি গণমাধ্যমকে।
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শোক জানানো নিয়ে সেই সাক্ষাৎকারে শাকিব খান বলেন, ‘এখন আমাদের দেশে তো সব সেক্টরে সংস্কার চলছে। বিশ্বাস ছিল আমাদের চিন্তা ভাবনাতেও এই সংস্কার প্রতিফলিত হবে। এমন প্রেক্ষাপটে দলমত নির্বিশেষে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদদের যেমন স্মরণ করা উচিত তেমনি দেশের জন্য অতীতে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন জাতির সেইসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরও সম্মান জানানো উচিত। তাদের স্মরণে শ্রদ্ধা প্রদর্শন কোনো রাজনৈতিক দলের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ থাকা উচিত নয়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা সবসময় রাজনীতির ঊর্ধ্বেই থাকুক। দুঃখজনকভাবে অনেক সময় আমাদের জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নাম, সম্মান এবং ত্যাগ শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। এটা থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত। যারা আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য জীবনের সর্বস্ব দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। তাদের নিয়ে বিভাজন তৈরি নয়, বরং আমাদের সম্মিলিত একতা ও সংহতি গড়ে তোলা উচিত। দেখুন আমি শাকিব খান কখনও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কোনো রাজনৈতিক পদ বা দায়িত্বও আমার নেই। সম্প্রতি দেওয়া আমার পোস্ট কাউকে মনঃক্ষুণ্ণ করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। যারা এটাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ন্যারেটিভ খুঁজছেন তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং কর্ম সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের জন্য।’
তবে আওয়ামী লীগ থেকে শাকিব খানের মনোনয়ন চাওয়ার সংবাদ এখনো দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে রয়েছে। এছাড়া নৌকায় ভোট চাওয়া শাকিব খানের ভিডিও বার্তাটি রয়েছে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে। সিনেমাসংশ্লিষ্টদের অনেকেই বলছেন শাকিব শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও একজন নন্দিত পল্টিবাজ।