আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা’য় আজ ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ও ৮টা ১৫টা মিনিটে প্রাচ্যনাট (বাংলাদেশ) ও উঙ্গা ক্লারা (সুইডেন)-এর সম্মিলিত প্রয়াসে মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গডস’। রচনা: এরিক উডেনবার্গ, বাংলা রূপান্তর: প্রজ্ঞা তাসনুভা রুবাইয়াত। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন গুস্তাভ দাইনফ।
এই প্রযোজনাটি ২০২৫ সালজুড়ে পাঁচ মহাদেশের ২৫টি দেশে মঞ্চায়িত হয়েছে, যার বৈশ্বিক প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩০ মে তুরস্কের দিয়ারবাকর শহরে। এরই ধারাবাহিকতায় নাটকটি ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে প্রিমিয়ার হবে। নাটকটি ‘দ্য চাইল্ডহুড প্রজেক্ট’-এর একটি অংশ— যা মূলত বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ফিনল্যান্ড পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী থিয়েটারগুলোর একটি যৌথ আন্তর্জাতিক প্রয়াস। এর মূল লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী শিশু ও তরুণদের জন্য সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করা।
‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গডস’ কথা বলে শিশুদের নিয়ে। এই পৃথিবীর সব শিশুই একটিমাত্র কারণে একই সুতায় বাঁধা- তারা সবাই বাস করে এমন এক পৃথিবীতে যা প্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই শিশুদের— আরও স্পষ্ট করে বললে— পাঁচ মহাদেশের ১১টি দেশের শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এরিক উডেনবার্গের লেখা এবং গুস্তাভ দাইনফের নির্দেশিত এই নাটকটি তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালজুড়ে এই নাটকটি ওই ১১টি দেশে তাদের নিজ নিজ ভাষায় মঞ্চস্থ হবে।
নাটকটিতে অংশগ্রহণকারী নাট্যদল-অ্যালি থিয়েটার, হিউস্টন– যুক্তরাষ্ট্র
মরদেম আর্টস সেন্টার, দিয়ারবাকর– তুরস্ক থিয়েটার ডিরেক্ট, টরন্টো – কানাডা
লা কোভাচা তেয়াত্রো, মেক্সিকো সিটি– মেক্সিকো থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল/ আসিতেজ, ওয়ারসো–পোল্যান্ড উঙ্গে ভিকেন থিয়াতের, লিলেস্ত্রাম–নরওয়ে
সোয়েন্সকা থিয়োতেন, হেলসিঙ্কি– ফিনল্যান্ড ড্রামা ফর লাইফ, জোহানেসবার্গ– দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রাচ্যনাট থিয়েটার– বাংলাদেশ, কমপ্লেহো থিয়াত্রাও দে বুয়েনস আইরেস– আর্জেন্টিনা, উঙ্গা ক্লারা, স্টকহোম– সুইডেন।
নাটকের অভিনেতা ও উপদেষ্টা তৌফিকুল ইমন বলেন, ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গডস’ শুধু একটি নাটক নয়— এটি একটি বৈশ্বিক অভিযান, বাংলাদেশ থেকে একজন অভিনেতা ও উপদেষ্টা হিসেবে যার অংশ হয়েছি আমি। নাটকটি সুইডেনের উঙ্গা ক্লারা থিয়েটার কোম্পানির গুস্তাভ দাইনফ পরিচালনা করেছেন এবং এর নাট্যকার এরিক উডেনবার্গ। আর বাংলায় অনুবাদ করেছেন প্রজ্ঞা তাসনুভা রুবাইয়াত। এটি সমন্বয় করেছে উঙ্গা ক্লারা এবং অর্থায়ন করেছে সুইডিশ সরকার।’
তিনি আরও বলেন, নাটকটির বিশেষত্ব হলো এখানে প্রাপ্তবয়স্করা উপস্থাপন করেন শিশুদের অভিজ্ঞতা ও তাদের ভেতরের জগৎকে। কেন্দ্রীয় চরিত্র দুটি— এ এবং বি— রূপ বদলাতে পারে, তাদের আছে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা। তাদের এই জাদুকরী ক্ষমতা আমাদের সুযোগ করে দেয় শিশুদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের জটিল সম্পর্কের ভেতর দিকটা দেখার, আমাদেরকে শেখায় শিশুরা কীভাবে এই সম্পর্কগুলোর ভেতর দিয়ে এগোয়, এদেরকে প্রতিরোধ করে, কিংবা সংলগ্ন থাকে এমন এক পৃথিবীর সঙ্গে, যা আদতে প্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারাই শাসিত।
এই নাটকে বাংলাদেশ থেকে আমার সহযাত্রী নাহিদা আখি (অভিনেত্রী) ও ডায়ানা মেরিলিন (কোরিওগ্রাফার)। আমি সম্মানিত বোধ করছি তাদের সঙ্গে একই সঙ্গে নির্বাচিত হওয়ায়। একই সঙ্গে অভিনেতা ও উপদেষ্টা হিসেবে স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলতা থেকেও আমি শিখেছি। তা ছাড়া ১১টি দেশের ২২ জন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করা মানে প্রতিটি মহড়াই ছিল সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক অফুরন্ত সুযোগ, যেখানে প্রত্যেক শিল্পী তাদের নিজস্ব অভিনয়ভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রযোজনাটিকে সমৃদ্ধ করেছেন।
/এমএস