অপি করিম, বাংলাদেশের নন্দিত জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী। সাধারণত তাকে দর্শক একজন অভিনেত্রী হিসেবেই পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। তবে উপস্থাপনাতেও তিনি অনবদ্য। বহু আগে থেকেই অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনা করেন তিনি। এবার তিনি ‘ভিসা প্রেজেন্টস গোল্ডেন ডিকেডস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার মাঝে দারুণ মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরাটনের বলরুমে ‘ভিসা প্রেজেন্টস গোল্ডেন ডিকেডস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন অপি করিম। পুরো আয়োজনের, বিশেষত এ প্রজন্মের শিল্পীদের সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন গায়ক, সংগীত পরিচালক শুভেন্দু দাশ শুভ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অপি করিমের আহ্বানে মঞ্চে আসেন শুভেন্দু দাশ শুভ। তার সংগীত পরিচালনায় শুধু যন্ত্রশিল্পীদের উপস্থাপনায় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ গানটি (ইনস্ট্রুমেন্টাল) পরিবেশন করা হয়। শুভর নির্দেশিত এই পরিবেশনা দারুণ মুগ্ধ করে সবাইকে। এর পর মঞ্চে এসে একে একে উপস্থিত শ্রোতা-দর্শককে গানে গানে মুগ্ধ করেন নন্দিতা, ঋতুরাজ, সুনিধি নায়েক, অর্ণব।
নন্দিতার কণ্ঠে রুনা লায়লার ‘শেষ করোনা’, ঋতুরাজের কণ্ঠে আব্দুল জব্বারের ‘ওরে নীল দরিয়া’, সুনিধির কণ্ঠে এসডি বর্মণের ‘শোনো গো দখিনা হাওয়া’ এবং অর্ণবের কণ্ঠে ‘ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে’ গানগুলো শ্রোতা-দর্শককে বেশি মুগ্ধ করে।
তবে প্রত্যেক শিল্পীই বাংলাদেশের ও ভারতের কিংবদন্তি শিল্পীদের আরও বেশকিছু গান পরিবেশন করেও মুগ্ধ করেছেন। স্টেজে দেশের কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ওঠার আগে অপি করিমসহ শুভেন্দু, নন্দিতা, সুনিধি, অর্ণব ও ঋতুরাজ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দে’র গাওয়া সেই বিখ্যাত গান ‘কফি হাউজের আড্ডাটা আজ আর নেই’ গানটি পরিবেশন করেন। এই পরিবেশনায় অর্ণব অপি করিমকে ডেকে নেন তাদের সঙ্গে পরিবেশনায় থাকার জন্য। আয়োজনের এই মুহূর্তটিই ছিল সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়ে যেমন গান শুনছিলেন, ঠিক তেমনি সবাই শিল্পীদের সঙ্গে গাইছিলেনও বটে।
অপি করিম বলেন, ‘এই আয়োজনে বিশেষত এই প্রজন্মের যারা সংগীত পরিবেশন করেছেন, তারা প্রত্যেকেই ভীষণ সুন্দর গান করেন এবং এটা সত্যি যে, তারা যখন একে একে সবাই গান গাইছিলেন, তখন আসলে এমনই মনে হয়েছিল যে কার গান রেখে কার গান শুনব। আর সবার শেষে শ্রদ্ধেয় সাবিনা ইয়াসমিন আপার পরিবেশনা ছিল মনোমুগ্ধকর।’
অর্ণব, সুনিধি, ঋতুরাজ, নন্দিতার পরিবেশনা শেষে মঞ্চে ওঠেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি একে একে সুন্দর সুবর্ণ, সে যে কেনো এলো না’সহ আরও দুই/তিনটি গান পরিবেশন করেন। প্রজন্মের শিল্পীদের প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘তারা প্রত্যেকেই খুউব ভালো গাইছিল, আমি শুনছিলাম। সত্যি বলতে কী এখনকার ছেলেমেয়েরা সত্যিই খুউব ভালো গাইছে। আমি চাই, আমি দোয়া করি তারা আগামীতেও আরো ভালো করবে, বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।’
/এমএস