নন্দিত অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। তার অভিনীত নাটক-সিনেমা এ দেশের দর্শককে মুগ্ধ করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ে নেই। কারণ বেশির ভাগ সময়ই সুদূর আমেরিকাতে বসবাস করছেন। এরই মধ্যে বিপাশা হায়াতের স্বামী জনপ্রিয় অভিনেতা, নির্মাতা তৌকীর আহমেদ দেশে এসেছিলেন। সে সময় তিনি বিটিভির জন্য ধারাবাহিক নাটক নির্মাণের পাশাপাশি ‘সোলজার’ সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। কাজ শেষে আবারও আমেরিকায় উড়াল দিয়েছেন। আমেরিকায় যাওয়ার সময়ে বিপাশার জন্য বিপাশারই মায়ের হাতে বানানো একটি সোয়েটার নিয়ে গেছেন। আর মায়ের হাতে বানানো সেই সোয়েটারটি হাতে পেয়ে বিপাশা হায়াত আবেগি হয়েছেন। এই অভিনেত্রী তার মা এবং সোয়েটারকে নিয়ে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকে।
বিপাশা হায়াত লিখেছেন, ‘কজন নিখুঁত মস্তিষ্কসম্পন্ন মানুষ এবং নিখুঁত জীবনযাপনকারী মানুষের কথা বলছি। যিনি আমার জন্মদানকারী মানুষ। একজন সুন্দরের পূজারি, একজন সাধক যিনি পৃথিবীর সকল কিছুর ভেতরে, সকল কর্মের ভেতরে, সকল বস্তুর অভ্যন্তরে কেবলই সুন্দর এবং শুদ্ধতার সন্ধান করেন। তার চারপাশের সকল মানুষকে তিনি আজীবন কেবল শিল্পকলার আলোর পথে চলার সাহস জুগিয়েছেন এবং জুগিয়ে চলেছেন। এমন এক প্রাণ তিনি- নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণ করেছেন অন্যকে আলোকিত করে। নিজেকে উৎসর্গ করেই তার জীবনের অর্থ খুঁজে ফেরেন। আমরা তাকে কতটাই বা চিনতে পেরেছি! আমার মা। কিছুদিন আগে একটি সোয়েটার বুনে দেওয়ার দাবি করেছিলাম। আম্মা বলল, আমি মরে যাব বলে স্মৃতি রাখবে? আমি বললাম, আমিও তো আগে মরতে পারি। তোমার শিল্প আমার ছোঁয়ায় রাখতে চাই। আম্মা বলল- বাজারে কত সোয়েটার, আমারটি কি সে রকম হবে? আমি বললাম- আমি শুধু মানুষের হাতে বানানো সোয়েটার চাই না- চাই সেই মানুষটির হাতে তৈরি- যার কারণেই এই পৃথিবীতে আমার অস্তিত্ব এবং সকল কর্মকাণ্ড। যার কারণেই আমার যা কিছু ভালো, যা কিছু খারাপ তার দায় কেবলই আমার।’
বিপাশা আরও লেখেন, ‘আজ তৌকীর এই সোয়েটারটি সাত সমুদ্র পার হয়ে নিয়ে এল। বহু নাটকীয় ঘটনার পর এর সৃষ্টি এবং আগমন। রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আমাদের গন্তব্য শূন্য- ‘ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।’