কেজি-টু পড়ুয়া ছাত্র অনিন্দ্য দাশ। সংস্কৃতিমনা বাবা ও মায়ের সঙ্গে থেকে শিশু বয়সেই সংস্কৃতি অন্তঃপ্রাণ। তার একটি দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
অনিন্দ্যর মা সংগীতশিল্পী সোনিয়া সুভদ্রা বলেছেন, গানটিতে অনিন্দ্য ‘সঙ্গত’ করেছে।
ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে রীতিমতো লিড গিটারিস্টের ভূমিকায়। দৃশ্যপটে সবাইকে ‘লিড’ দিয়ে অনিন্দ্য গিটার বাজাচ্ছে। এমন দৃশ্যপট ‘ও কাজল ভোমরা’ গানের চিত্রায়ণে।
জানা গেছে, অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’র সুরকার এবং বরেণ্য শিল্পী আব্দুল লতিফের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত ‘ও কাজল ভোমরা’ নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করছেন এ প্রজন্মের শিল্পী সোনিয়া সুভদ্রা।
গানটি মূলত আব্দুল লতিফের কথা ও সুরে চিত্রায়িত এক অনবদ্য সৃষ্টি, যা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী নিনা হামিদের কণ্ঠে ‘উজান গাঙের নাইয়া’ অ্যালবামের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
পল্লীগীতির সেই চিরায়ত মাধুর্য বজায় রেখে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে গানটি নতুন করে গেয়েছেন সোনিয়া সুভদ্রা।
গানটি প্রসঙ্গে শিল্পী সোনিয়া সুভদ্রা বলেন, ‘আব্দুল লতিফ স্যার আমাদের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ভাষার মাসে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এর চেয়ে ভালো মাধ্যম আর কিছু হতে পারে না। ও কাজল ভোমরা গানটি আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব প্রিয় একটি গান। চেষ্টা করেছি মূল সুরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজের কণ্ঠে গানটিকে তুলে ধরতে।’
গানটির চিত্রায়ণে লিড গিটারিস্টের ভূমিকায় তার সন্তান অনিন্দ্য দাশকে দেখা গেছে।
সোনিয়া জানান, তার ছেলে অনিন্দ্য দাশ এই প্রথমবারের মতো তার সঙ্গে গানে সঙ্গত করেছে।
অনিন্দ্য সিলেটের স্কলার্সহোম-এর কেজি-টু শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা অরূপ বাউল ‘নগরনাট’খ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক।
তিনি জানান, শিশুরা যেমন ছোটবেলা খেলনার সঙ্গে সখ্যতা থাকে, অনিন্দ্য ছিল ভিন্ন। সে খেলা বাদ দিয়ে বাদ্যযন্ত্র আর গানে মগ্ন থাকে। সেই মগ্নতা থেকে তাকে একের পর এক বাদ্যযন্ত্র কিনে দেওয়া হয়। খেলাচ্ছলেই সেই সব বাদ্য-বাজনা রপ্ত করেছে। বিখ্যাত গানটির ভিডিও চিত্রায়ণে অনিন্দ্য গিটার বাজনার তালিম নিয়েছে তার মা সোনিয়া সুভদ্রার কাছ থেকে।
সামাজিক যেগাাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ও কাজল ভোমরা’ গানটি উপস্থাপন কথায় শিল্পী সোনিয়া সুভদ্রা বলেছেন, ‘আমাদের মাটির গানের এই উত্তরাধিকার বেঁচে থাকুক নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে। এই প্রথমবারের মতো আমাদের সঙ্গে সঙ্গত করেছে অনিন্দ্য। তার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।’
গানটির চিত্রায়ণ হয়েছে পড়ন্ত বিকেলে। চিত্রগ্রহণ করেছেন আলোকচিত্রী সাংবাদিক আনিস মাহমুদ। একতারা বাজিয়েছেন অরূপ বাউল। হাতবায়ায় ছিলেন বর্ষণ চক্রবর্তী। হারমোনিয়াম ও বাঁশি বাজিয়েছেন আলী আকবর। শব্দ সম্পাদনা করেছেন সুদীপ চক্রবর্তী।
চিত্রগ্রহণ করার অভিজ্ঞতায় আনিস মাহমুদ জানান, কয়েকটি ধাপে ভিডিও ধারণ করে যখন চিত্র সম্পাদনা করা হচ্ছিল, তখন দেখা গেছে শিশু অনিন্দ্য দাশের অবাক করা স্বতন্ত্র উপস্থিতি। দক্ষ একজন গিটারিস্টের ভূমিকায় তার সব রকম চিত্র ধারণ করা হয়। কাট-আনকাট মিলিয়ে সবই ছিল আকর্ষণীয়।
চিত্রগ্রাহক আনিস বলেন, ‘ভিডিও দৃশ্যপটে অনিন্দ্যর স্বতঃস্ফূর্ততা পুরোনো গানটিকে নিউ লুক তথা নতুন রূপ দিয়েছে।’
অমিয়/