চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে সেন্ট্রাল শপিং কমপ্লেক্সের পাওয়ার লাইন কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী রাখাল চন্দ্র নাথ ২০০৬ সাল থেকে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ব্যবসা করছেন। খবরের কাগজের সঙ্গে এই ব্যবসার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যুরো প্রধান ইফতেখারুল ইসলাম-
খবরের কাগজ: দেশে সিসি ক্যামেরার চাহিদা কেমন?
রাখাল চন্দ্র নাথ: মানুষ এখন বাসা, দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গায় ক্যামেরা লাগাচ্ছে। যে কারণে প্রচুর চাহিদা বাড়ছে। মূলত নিরাপত্তার জন্যই মানুষ এই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। ২০০৬ সালে আমরা এই ব্যবসা শুরু করি। ওই সময় মানুষ শুধু অফিসগুলোতে ক্যামেরা লাগাত। কেউ বাসায় লাগালেও হয়তো গেটে লাগাত। এক সময় মানুষ ভবন নির্মাণ করার সময় ডিশের লাইন বাধ্যতামূলক রাখত। এখন সিসিটিভি ক্যামেরার লাইনও বাধ্যতামূলক লাগাচ্ছে।
খবরের কাগজ: বছরে কত কোটি টাকার সিসি ক্যামেরা আমদানি করা হচ্ছে?
রাখাল চন্দ্র নাথ: বছরে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সিসি ক্যামেরা আমদানি হয়। এটি প্রতিবছর বাড়ছে।
খবরের কাগজ: এই বাজার এখনো পুরোটাই আমদানিনির্ভর, দেশীয় উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে কি না?
রাখাল চন্দ্র নাথ: সব চায়না থেকে আসে। আমাদের দেশের শুধু ক্যামেরার কেবল তৈরি হচ্ছে। সাভারে শেখ রাসেল টেকনোলজি পার্কে এসব কেবল তৈরি হচ্ছে। তবে সাভারে একটি ক্যামেরা কারখানা হচ্ছে বলে আমরা জানি। যেটা উৎপাদনে যেতে হয়তো বছরখানেক সময় লাগতে পারে।
খবরের কাগজ: তার মানে এই খাতে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে।
রাখাল চন্দ্র নাথ: অবশ্যই, এখন যারা ডিশের লাইন দেয়, ইন্টারনেটের লাইন দেয় তারাও এখন ক্যামেরার কাজ করছে। তারাও এই কাজে অভিজ্ঞ হয়ে যাচ্ছে। নতুন একটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।
খবরের কাগজ: কোন কোন দেশ থেকে সিসি ক্যামেরা আমদানি করা হচ্ছে? দাম কেমন?
রাখাল চন্দ্র নাথ: চীন ছাড়া আগে তাইওয়ান থেকে এডিটেক নামে একটি ব্র্যান্ডের সিসিটিভি ক্যামেরা আসত। এখন আসে না। তাইওয়ানের ব্র্যান্ডটা টিকতে পারেনি। সব ক্যামেরা আসে চীন থেকে। বিভিন্ন দামের ক্যামেরা আছে। বাসা বাড়িতে সাধারণত যেসব ক্যামেরা লাগানো হয় তার দাম ১৪০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা। আবার শিল্প কারখানা এবং করপোরেট অফিসের চার হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকার ক্যামেরাও লাগানো হয়।
খবরের কাগজ: কোন ধরনের সিসি ক্যামেরার চাহিদা বেশি?
রাখাল চন্দ্র নাথ: যে ক্যামেরা সহজে ব্যবহার করা যায়, মানুষ সেটিই সবচেয়ে বেশি লাগায়। এইচডি ক্যামেরার হাইস্পিড ইন্টারনেট লাগে না। মোবাইলে দেখা যায়। তাই এ ধরনের ক্যামেরার চাহিদা বেশি।
খবরের কাগজ: বাংলাদেশে এই ক্যামেরার বাজার কত বড়?
রাখাল চন্দ্র নাথ: বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী মাত্র ১২ শতাংশ সিসি ক্যামেরার আওতায় এসেছে। বাকি ৮৮ শতাংশ খালি আছে। বিশাল সম্ভাবনা একটি বাজার। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ক্যামরা আমদানি হচ্ছে। এক সময় মানুষ একটি বাটন ফোনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। পরে স্মার্টফোনে অভ্যস্ত হয়। এখন ইন্টারনেট মাস্ট হয়ে গেছে। একইভাবে সিসিটিভিও জীবনের অনুষঙ্গ হয়ে যাচ্ছে।
খবরের কাগজ: অপরাধ তদন্তে সিসি ক্যামেরার কার্যকারিতা সম্পর্কে বলুন।
রাখাল চন্দ্র নাথ: অপরাধ তদন্তে এবং অপরাধীদের ধরতে এই প্রযুক্তি জুড়ি নেই। হাইওয়েতে ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে ক্যামেরায় ওঠে যাবে। এ নিয়ে ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। গাড়ির ডকুমেন্ট ফেইল থাকলেও ক্যামেরায় উঠে যাবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের মতই সিসি ক্যামেরার এই প্রকল্পটি সরকার বাস্তবায়ন করছে। যেখানে হাইওয়েতে কেউ অপরাধ করলে পার পাবে না। তা ছাড়া বাসা বাড়ি এবং অফিসে যেসব ক্যামেরা লাগানো হয় এবং যাদের ক্যামেরা সচল থাকে। সেখানে চুরি, ডাকাতি কিংবা যেকোনো হামলার ঘটনা ঘটলে তা সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে। অপরাধীকে পাকড়াও করার কাজটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহজ হয়ে যাচ্ছে।
খবরের কাগজ: সিসি ক্যামেরাকে আরও জনপ্রিয় করতে সরকারের কাছে কোনো প্রত্যাশা আছে?
রাখাল চন্দ্র নাথ: অনেক উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আইপি ক্যামেরা ১৫ শতাংশ, সিসি ক্যামেরায় ৬৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি থেকে অনেকবার আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। শুল্ক কমিয়ে যদি দাম আরও কমানো যেত, তাহলে ব্যবহার আরও অনেক বেশি বেড়ে যেত।
খবরের কাগজ: সিসি ক্যামেরা নিয়ে সরকারের কাছে কম্পিউটার সমিতির পক্ষ থেকে কেন দেন দরবার করেন?
রাখাল চন্দ্র নাথ: আমরা যারা কম্পিউটারের ব্যবসা করি। তারাই আবার সিসি ক্যামেরার ব্যবসা করি। সিসি ক্যামেরার আমদানিকারক এবং বিক্রেতাদের কোনো আলাদা সমিতি নেই। তাই কম্পিউটার সমিতির পক্ষ থেকেই সরকারের কাছে তারা আবেদন নিবেদন করেন।
খবরের কাগজ: আপনাকে ধন্যবাদ।
রাখাল চন্দ্র নাথ: আপনাকেও ধন্যবাদ।