সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল আলম
খবরের কাগজ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচন কেমন হবে বলে আপনি প্রত্যাশা করেন?
শাহদীন মালিক: অবশ্যই সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কারচুপিহীন নির্বাচন চাই।
খবরের কাগজ: আপনি কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখছেন?
শাহদীন মালিক: কোনো কোনো জায়গায় আইনশৃঙ্খলার খারাপ পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, অপরাধমূলক কার্যক্রম হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে যেমন হয় আর কী। তবে সব মিলিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে বলেই মনে হচ্ছে। এখানে একটা বিষয় বলে রাখি, যেহেতু আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত) নির্বাচন করতে পারছে না, এখন পর্যন্ত এটাই সিদ্ধান্ত; এটা আইনি বিষয়। তাদের ভক্ত-সমর্থক-ভোটারদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলো কি না–এটা ইমোশনাল বিষয়, এ নিয়ে কিছু বলছি না। এটা মেনে নেওয়ার বিষয়।
খবরের কাগজ: জুলাই আন্দোলনের পর ব্যাপক আলোচিত শব্দ–নতুন বন্দোবস্ত। নির্বাচনে নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি কেমন দেখছেন?
শাহদীন মালিক: বলা হচ্ছে নতুন বন্দোবস্ত। পরিবর্তন তো কিছু চোখে দেখা যাচ্ছে না! নতুন বন্দোবস্ত বলতে আসলে কী বোঝায়? অথবা এর ব্যাখ্যাই তো কেউ দেয়নি!
খবরের কাগজ: বর্তমানে গণমাধ্যমের কাছে আপনার কী প্রত্যাশা?
শাহদীন মালিক: এখন তো গণমাধ্যম হুজুগে বেশি। গত কয়েক দিনের চিত্র দেখেন। কয়েক দিন গেল ভূমিকম্প নিয়ে। এই বুঝি ভূমিকম্প হয়ে গেল। তারপর কয়েক দিন গেল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে। মিডিয়া তার স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রচার করছিল, মানে একটা মিডিয়া দিচ্ছে তো, অন্যরাও দিচ্ছে–এই আর কী। কিন্তু দেশের শিক্ষা বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বিশ্লেষণমূলক নিউজ দেখছি না গণমাধ্যমে। তাই বলছি আর কী, হুজুগে মিডিয়া।
খবরের কাগজ: সম্প্রতি দুই উপদেষ্টা নির্বাচন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
শাহদীন মালিক: তারা নির্বাচন না করলে আসলেই ভালো হতো। কারণ তারা যে যেখান থেকে প্রার্থী হবেন, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সেখানকার উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দিয়ে এসেছেন। তারা পদত্যাগ করলেও ওই বরাদ্দে উন্নয়নমূলক কাজ এখন চলছে বা নির্বাচনের আগেও চলবে। তা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারে এখন নির্বাচনকালে যারা উপদেষ্টা আছেন, তারাও তো এই দুজনের সদ্য সাবেক কলিগ। সব মিলিয়ে তারা তো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধা পেতে পারেন। তাতে তো অন্য প্রার্থীদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঝুঁকি আছে।
খবরের কাগজ: রাজনীতির ধারাটা বর্তমানে কেমন দেখছেন?
শাহদীন মালিক: সবার প্রত্যাশা ছিল নতুন বন্দোবস্ত হবে বা রাষ্ট্র বিনির্মাণ হবে। কিছুই তো হয়নি। স্লোগানই রয়ে গেল সব।