ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ চীনের ডেইরি কারখানায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে? বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবে দারাজ টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা গোল করার পর কান্নার কারণ জানালেন মেসি রংপুরে হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোয় মহাসড়ক অবরোধ সোনামসজিদ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই বাজেটকে একটি গোষ্ঠী গণবিরোধী বলছে: প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল মাঠে মদ্রিচ আমার ডান হাত: জ্লাতকো ডালিচ প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি: সিপিডি ওয়াহিদুল হত্যার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল আদালত চত্বর ভারতে ৩ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৬ নারী শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের ‘আমরাই মেসির কাজটা সহজ করে দিয়েছি’, বললেন আলজেরিয়ার কোচ জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার আর্জেন্টিনার জার্সির পেছনে ‘১৮৯৩’ লেখা থাকার কারণ কী? বিশ্বকাপ জয়ের এটাই সেরা সুযোগ: হ্যারি কেইন মেসি বন্দনায় ভাষা হারিয়েছেন স্কালোনি ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তুরস্ক, লক্ষ্য প্যারাগুয়ে বধ নাটকীয় ম্যাচে জর্ডানকে হারাল অস্ট্রিয়া কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরির্দশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমবার ইউএনএইচসিআর ব্যুরোর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ঝিনাইদহে ১১ কোটি ব্যয়ে কসাইখানা উদ্বোধন মৌলভীবাজারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনসভাস্থলে নেতাকর্মীদের ঢল ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
Nagad desktop

পরিবারকে সময় দেওয়া

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৪, ০২:২১ পিএম
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:২৪ পিএম
পরিবারকে সময় দেওয়া
মডেল: সত্যজিৎ ও দীপান্বিতা। ছবি: খবরের কাগজ

টানা আট ঘণ্টা অফিসের পর পরিবারকে সময় দেওয়া এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মতো। আর কর্মব্যস্ততার জন্য অনেকে তার পরিবারকেই ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। পরিবারকে  যথাযথ সময় না দিলে সংসারে অশান্তি হয়, ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে। এ ছাড়া সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই সবার উচিত শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে পরিবারকে কিছুটা সময় দেওয়া। এ সম্পর্কে লিখেছেন তামান্না মুন
  
একসঙ্গে খাবার খাওয়া 
প্রতিদিন অন্তত একবেলা পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সাধারণত সকাল ও দুপুরে কর্মব্যস্ততার কারণে একসঙ্গে খেতে বসা সম্ভব হয় না অনেকের। সেক্ষেত্রে সন্ধ্যার নাশতা কিংবা রাতের খাবার একসঙ্গে খেতে পারেন। সবার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে খাওয়ার সময় নির্ধারণ করুন।
 
একসঙ্গে সময় কাটান
পরিবারের সদস্যরা মিলে একসঙ্গে সময় কাটানোর ওপর গুরুত্ব দিন। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার মন-মানসিকতা ভালো থাকবে। সারা দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে আড্ডা দিন, সিনেমা দেখুন কিংবা লুডো ও ক্যারামের মতো ঘরোয়া গেম খেলতে পারেন। নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় মোবাইল ফোন বা অন্যান্য গ্যাজেট দূরে রাখুন। এতে সবার শারীরিক ও মানসিক উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং সময়টা উপভোগ্য হয়ে উঠবে। 

কথা বলুন সবার সঙ্গে
প্রচুর কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুন। বিশেষ করে পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিদের আলাদাভাবে সময় দিলে তারা খুশি হবেন। পরিবারের ছোট সদস্যদেরও অবহেলা করা  যাবে না। ছোটরা যদি কোনো কিছু বলতে চায়, তবে তাদের কথাও গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। এ ছাড়া আপনার জীবনে নানা সমস্যার বিষয়ে তাদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন। পরিবারের অন্য সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করুন। তাদেরকে সব সময় আগলে রাখুন।

সন্তানদের সময় দিন 
সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। হয়ে উঠুন তার ভরসার জায়গা। শিশুর সঙ্গে কথা বলুন নিয়মিত। ভাগ করে নিন নিজের কথা। আপনার শৈশব কেমন ছিল, ওর বয়সে আপনি কী করতেন, এমন নানান কথা আলাপ করুন। ওকে নিয়ে বই পড়ুন, ওর সঙ্গে ছবি আঁকুন কিংবা খেলুন। বর্তমানে বাবা-মা নিজেদের বিশ্রাম বা অন্য কোনো কাজের অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে সন্তানের হাতে স্মার্ট ডিভাইস ধরিয়ে দেন। এটা করা যাবে না। এতে সন্তানদের বাবা-মায়ের ওপর আস্থা কমে যাবে। তাই যখন সন্তান বাবা-মায়ের কাছে আসতে চাইবে তখন হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে কিছুটা সময় দিতে হবে, যেন সে বুঝতে পারে পরিবারে তার কথা শোনার মানুষ আছে।

পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করা 
এ সময়ে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান সবাই নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কোয়ালিটি সময় কাটানোও দুষ্কর হয়ে যায় তাদের জন্য। কিন্তু সুস্থ পারিবারিক সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য সময় দিতে হবে পরস্পরকে। পরিবারে একে অপরের কাজে সহযোগিতা করতে পারেন। তাই সবাই একসঙ্গে মিলে ঘরের বিভিন্ন কাজ করে ফেলুন। এর ফলে ছুটির দিন বা সুযোগ পেলেই পরস্পরকে ঘরের কাজে সাহায্য করলে একসঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটানো যায়। এ ছাড়া পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি উপায় হলো সন্তানকে পরিবারের কাজের অংশ করা। তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট ছোট কাজ দেওয়া যেতে পারে। এতে তাদের নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিখবে। ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে পারিবারিক সংযোগ বাড়ে, যা পরে বড় সমস্যা সহজে সমাধান করে।

মাঝে মাঝে বিশেষ কিছু করুন
পরিবারের সদস্যদের মাঝে মধ্যে চমকে দিন। উপহার দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জানিয়ে দিন যে আপনি তাদের ভালোবাসেন। উপহার হতে পারে আপনার সাধ্যমতো। আবার একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া বা রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার মতো সাধারণ উপহার হতে পারে। না চাইতে আকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু করার মাধ্যমেও চমক দেওয়া যেতে পারে।

উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করুন
উৎসবমুখর পরিবেশ সব সময়ই পরিবারকে আরও কাছে আনে। জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে বিশেষ দিনগুলো উদযাপন করলে পারিবারিক সম্পর্ক মজবুত হয়। নিজেদের ব্যস্ততার সময়কে দূরে ঠেলে দিয়ে পরিবারের যেকোনো অনুষ্ঠানে নিজেদের মধ্যে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন।  এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের যেকোনো অর্জনের জন্য তাকে  শুভকামনা জানান।

 কলি 

হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে রাজধানীর অন্যতম আন্তর্জাতিক মানের হোটেল হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টার । ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে হোটেলটি চালু করেছে বিশেষ লাইভ স্ক্রিনিং এবং আকর্ষণীয় খাদ্য আয়োজন ‘ ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ ম্যাচডে ফিস্ট’।  

এই আয়োজনে ফুটবলপ্রেমীরা বড় পর্দায় বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলো সরাসরি উপভোগ করার পাশাপাশি উপভোগ করতে পারবেন সুস্বাদু খাবারের বিশেষ কম্বো প্যাকেজ। মাত্র ১,৫০০ টাকা (নেট) প্রতি ব্যক্তি মূল্যে অতিথিদের জন্য থাকছে খেলা ও খাবারের অনন্য অভিজ্ঞতা।

বিশেষ ফুড প্যাকেজে খেলা চলাকালীন সময়জুড়ে থাকছে আনলিমিটেড পপকর্ন ও সফট ড্রিংকস। এছাড়া স্টার্টার হিসেবে অতিথিরা বেছে নিতে পারবেন চিকেন উইংস, ভেজিটেবল স্প্রিং রোল অথবা ফিশ টেম্পুরা, যার সঙ্গে পরিবেশন করা হবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।

মেইন কোর্সে থাকছে পেরি পেরি চিকেন স্লাইডার, চিকেন তন্দুরি র‍্যাপ অথবা বিফ বার্গার প্রতিটি আইটেমের সঙ্গে থাকবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগের জন্য একটি প্রাণবন্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগ্রহীদের অবশ্যই আগাম আসন সংরক্ষণ করতে হবে। 

বিস্তারিত তথ্য ও প্রি-রিজার্ভেশনের জন্য যোগাযোগ করা যাবে +৮৮ ০১৩২৪৭১৭০২৫-২৬ নম্বরে। 

/এমটি 

বিশ্বকাপ উন্মাদনায়ও রুটিন থাকুন নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
বিশ্বকাপ উন্মাদনায়ও রুটিন থাকুন নিয়ন্ত্রণে

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মাসব্যাপী উন্মাদনা। প্রিয় দলের ম্যাচ, শেষ মুহূর্তের গোল, উত্তেজনাপূর্ণ ড্র সবকিছু মিলিয়ে রাত জেগে খেলা দেখার প্রবণতা বেড়ে যায় অনেকের মধ্যে। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ঘুম, পড়াশোনা ও কাজের স্বাভাবিক রুটিন ঠিক রাখা। তাই বিশ্বকাপ উপভোগের পাশাপাশি একটি ব্যালান্সড নাইট রুটিন অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। লিখেছেন মুশফিরাত 

সময় জেনে পরিকল্পনা করা জরুরি
বিশ্বকাপ সাধারণত বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী গভীর রাত বা ভোরের দিকে হয়। তাই আগে থেকেই ম্যাচের সময়সূচি জেনে দিনটি পরিকল্পনা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দিন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে, সেদিন কাজের চাপ কিছুটা কমিয়ে রাখা বা আগেই কাজ শেষ করে রাখা ভালো। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আগের দিন কিছুটা এগিয়ে রাখা যেতে পারে, যাতে রাত জাগার চাপ কমে।

পাওয়ার ন্যাপ হলো গোপন অস্ত্র
রাত জেগে ম্যাচ দেখার আগে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ঘুম বা ন্যাপ নেওয়া খুব কার্যকর। এতে শরীর কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার শক্তি আসে। বিশেষ করে যাদের পরদিন সকালেই ক্লাস বা অফিস থাকে, তাদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হতে পারে।

হালকা খাবার বেছে নিন
রাত জেগে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা যেমন আনন্দের, তেমনি সঠিক খাদ্যাভ্যাস না মানলে এটি শরীরের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। গভীর রাতে ভারী, তেল-চর্বিযুক্ত বা মসলাদার খাবার খেলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে ঘুম ঘুম ভাব, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি হয় এবং ম্যাচ উপভোগের মনোযোগও নষ্ট হয়।

তাই এই সময়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। যেমন–তাজা ফল (আপেল, কলা, আঙুর), ভাজা বাদাম, ওটস বা হালকা স্যান্ডউইচ শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি দেয় কিন্তু অতিরিক্ত ভারী অনুভূতি তৈরি করে না। বিস্কুট বা হালকা ক্র্যাকারও ভালো স্ন্যাকস হিসেবে কাজ করতে পারে। 

এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। রাত জাগার সময় অনেকেই পানি কম পান করেন, যা শরীরে ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করে। এর ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ থাকা সম্ভব হয়। চাইলে লেবু পানি বা হালকা ড্রিংকসও নেওয়া যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত চিনি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।

পড়াশোনা ও কাজ আগে, খেলা পরে
বিশ্বকাপের উন্মাদনা যতই থাকুক, দৈনন্দিন দায়িত্ব ও পড়াশোনাকে অবহেলা করা উচিত নয়। একটি সুশৃঙ্খল রুটিন বজায় রাখতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রাধান্য নির্ধারণ করা। যারা শিক্ষার্থী, তাদের উচিত দিনের বেলায় বা সন্ধ্যার আগেই পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো শেষ করে ফেলা। এতে রাতে খেলা দেখার সময় কোনো ধরনের মানসিক চাপ কাজ করবে না।

অফিস বা ফ্রিল্যান্স কাজের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ডেডলাইন অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নেওয়া এবং অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ শেষ করা উচিত। প্রয়োজনে আগের দিন কিছু কাজ এগিয়ে রাখা যেতে পারে, যাতে ম্যাচের দিন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। এতে কাজ ও বিনোদনের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি হয়।

ম্যাচ শেষে ঘুমের প্রস্তুতি
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটান, যা ঘুমকে বিলম্বিত করে। তাই ম্যাচ শেষ হলেই মোবাইল ব্যবহার কমিয়ে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। ঘুমানোর আগে হালকা স্ট্রেচিং বা গরম পানি পান করলে শরীর রিল্যাক্স হয় এবং ঘুম সহজে আসে।

সপ্তাহের ভারসাম্য বজায় রাখুন
সব ম্যাচ দেখা জরুরি নয়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বেছে দেখলে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটোই ভালো থাকে। গ্রুপ পর্বের তুলনায় নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেতে পারে। এতে ঘুম ও কাজের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় শরীরের প্রতি অবহেলা করা ঠিক নয়। নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং কিছুটা ব্যায়াম এই তিনটি বিষয় বজায় রাখলে রাত জাগার প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মাথাব্যথা হলে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে।

 

চিংড়ির ভিন্ন স্বাদে

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
চিংড়ির ভিন্ন স্বাদে

নদী-নালা আর জলাশয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে চিংড়ির রয়েছে বিশেষ স্থান। স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং বহুমুখী রান্নার সম্ভাবনার কারণে চিংড়ি প্রায় সব বয়সী মানুষের কাছেই সমান জনপ্রিয়। ঘরোয়া রান্না থেকে শুরু করে উৎসবের আয়োজন–সবখানেই চিংড়ির নানা পদ এনে দেয় ভিন্ন মাত্রার স্বাদ। তাই মজাদার ও ভিন্নধর্মী কিছু চিংড়ির পদ দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী নাজমুন নাহার লিনা

চিংড়ি সবজির মেলবন্ধন

উপকরণ
কুচো চিংড়ি ১ কাপ (সবজিগুলো দেড় ইঞ্চি করে কাটা), পটোল ৩টি, কাঁচা পেঁপে ১ কাপ, বরবটি ১ কাপ, মুলা ১/২ কাপ, গাজর ১ কাপ, মটরশুঁটি ১/২ কাপ, পেঁয়াজ ১টি (কিউব করে কাটা), রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ, আদা কুচি ১ চা চামচ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ। ভেজিটেবল তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। 

প্রস্তুতি
কুচো চিংড়ি ধুয়ে সামান্য লবণ মাখিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। পটোল, পেঁপে, বরবটি, মুলা ও গাজর হালকা সেদ্ধ বা ব্লাঞ্চ করে নিন যাতে সবজিগুলো মচমচে থাকে। চাইনিজ স্টাইলের মতো সবজি বেশি নরম হবে না। 

প্রণালি 
কড়াই খুব গরম করে তেল দিন। প্রথমে কুচো চিংড়ি ১-২ মিনিট ভেজে তুলে রাখুন। একই কড়াইতে রসুন ও আদা দিয়ে ৩০ সেকেন্ড নেড়ে সুগন্ধ বের করুন। পেঁয়াজ, পটল, পেঁপে, মুলা, গাজর ও বরবটি দিয়ে উচ্চ আঁচে ৩-৪ মিনিট স্টির-ফ্রাই করুন। মটরশুঁটি ও ভাজা চিংড়ি যোগ করুন। গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে দিন। কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে নামিয়ে ফেলুন। 

চিংড়ি টমেটো দো-পেঁয়াজা

উপকরণ
মাঝারি চিংড়ি ৫০০ গ্রাম, টমেটো ৩টি (কুচি), পেঁয়াজ ৪টি (২টি পাতলা কুচি, ২টি মোটা পাপড়ি করে কাটা), সরিষার তেল ৫ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, লবণ স্বাদমতো, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি 
চিংড়ি ধুয়ে লবণ ও অর্ধেক হলুদ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। কড়াইয়ে সরিষার তেল ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করে চিংড়ি ১ মিনিট হালকা ভেজে তুলে রাখুন। চিংড়ি বেশি ভাজবেন না, নরম থাকবে। 

একই তেলে পাতলা কুচি করা পেঁয়াজ সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। আদা-রসুন বাটা দিয়ে নেড়ে টমেটো কুচি দিন। টমেটো নরম হলে বাকি হলুদ, মরিচ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও লবণ দিন।

মসলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে সামান্য গরম পানি দিন। এবার ভাজা চিংড়ি ও মোটা পাপড়ি করা পেঁয়াজ যোগ করুন। দো-পেঁয়াজার মূল স্বাদ আসে এই দ্বিতীয়বার দেওয়া পেঁয়াজ থেকে। কাঁচা মরিচ দিয়ে ৩-৪ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। ঝোল একটু ঘন হয়ে এলে ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। 

দই চিংড়ি 
দই চিংড়ি একটি মজাদার বাঙালি পদ, যা গরম ভাত, পোলাও বা খিচুড়ির সঙ্গে দারুণ লাগে। টক দই ও চিংড়ির মিশ্রণে এটি ক্রিমি ও সুস্বাদু হয়। 

উপকরণ
মাঝারি বা বড় চিংড়ি ৫০০ গ্রাম, টক দই ১ কাপ (ভালো করে ফেটানো), পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, সাদা তেল ৩ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি ১/২ চা চামচ (ঐচ্ছিক)। 

প্রণালি 
চিংড়ি পরিষ্কার করে ধুয়ে লবণ ও সামান্য লেবুর রস মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর কড়াইয়ে তেল গরম দিন। তেলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। একটু বেরেস্তা তুলে রাখুন। গোটা গরম মসলা এবং তেজপাতা ভাজা পেঁয়াজের সঙ্গে দিন। আদা-রসুন বাটা দিয়ে কষে নিন। এরপর মরিচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া দিন। 

ফেটানো দইয়ে সামান্য পানি মিশিয়ে কড়াইয়ে ঢালুন এবং কম আঁচে নেড়ে নিন যাতে দই না ফেটে যায়। চিংড়ি, লবণ, চিনি ও কাঁচা মরিচ যোগ করুন। এরপর ঢেকে ৫-৭ মিনিট রান্না করুন। ঝোল একটু ঘন হলে নামিয়ে নিন। বেরেস্তা ও দই ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। 

/এমটি 

ফ্যাশনে বিশ্বকাপ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
ফ্যাশনে বিশ্বকাপ
ছবি: খবরের কাগজ

ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উন্মাদনা। মাঠের খেলা যেমন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু, তেমনি সমানভাবে আলোচনায় থাকে প্রিয় দলের জার্সি। জার্সি এখন আর শুধু খেলোয়াড়দের ইউনিফর্ম নয়; এটি ফ্যাশন, পরিচয় এবং আবেগের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
 
স্ট্রিট ফ্যাশনে জার্সির জনপ্রিয়তা
এক সময় ফুটবল জার্সি শুধু মাঠ, স্টেডিয়াম বা টেলিভিশনের সামনে পরার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে জার্সি এখন আধুনিক স্ট্রিট ফ্যাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্ম জার্সিকে আর শুধু খেলার পোশাক হিসেবে দেখে না, তারা এটিকে নিজেদের লাইফস্টাইল ও ফ্যাশনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

আজকাল শহরের রাস্তায়, ক্যাম্পাসে, ক্যাফেতে বা শপিং মলে সহজেই দেখা যায় জার্সি পরা তরুণ-তরুণীদের। জিন্স, কার্গো প্যান্ট, শর্টস কিংবা স্কার্টের সঙ্গে জার্সি পরা এখন একটি স্বাভাবিক ও জনপ্রিয় স্টাইল স্টেটমেন্টে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ওভারসাইজড জার্সির ট্রেন্ড তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা একদিকে যেমন আরামদায়ক, অন্যদিকে তেমনি স্টাইলিশ লুকও দেয়।

স্নিকার্সের সঙ্গে জার্সি মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে পরা এখন একটি কমন ফ্যাশন স্টাইল। অনেকেই লেয়ারিং ফ্যাশন অনুসরণ করেন যেখানে জার্সির নিচে লং স্লিভ বা টার্টল নেক পরা হয়, যা একটি ইউনিক আরবান লুক তৈরি করে। 

নারীদের জার্সি স্টাইলিং ট্রেন্ড
নারীদের ফ্যাশন দুনিয়ায় ফুটবল জার্সি এখন একটি দ্রুত বর্ধনশীল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। আগে যেখানে জার্সি মূলত পুরুষদের খেলার পোশাক হিসেবে দেখা হতো, এখন তা ভেঙে গিয়ে একটি জেন্ডার নিউট্রাল ফ্যাশন আইটেমে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণীরা জার্সিকে নিজেদের ব্যক্তিগত স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন্ড হলো ওভারসাইজড জার্সি স্টাইল। অনেকেই লুজ ফিট জার্সি স্কার্ট বা শর্ট ড্রেসের মতো করে পরছেন, যা একদিকে আরামদায়ক, অন্যদিকে স্টাইলিশও দেখায়। এর সঙ্গে স্নিকার্স বা বুট জুতা মিক্স করে একটি আধুনিক আরবান লুক তৈরি করা হচ্ছে।

ডেনিম শর্টস বা স্কিনি জিন্সের সঙ্গে জার্সি পরাও নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এতে ক্যাজুয়াল ও ট্রেন্ডি একটি লুক পাওয়া যায়, যা ক্যাম্পাস, আউটিং বা ম্যাচ ডে আড্ডার জন্য পারফেক্ট। অনেকেই আবার লেয়ারিং স্টাইল বেছে নিচ্ছেন। জার্সির নিচে লং স্লিভ টপ বা টার্টল নেক পরে ইউনিক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন।

এছাড়া জার্সিকে বেল্ট দিয়ে স্টাইল করে ড্রেসের মতো করে পরার ট্রেন্ডও এখন বেশ চোখে পড়ছে। এতে জার্সি শুধু স্পোর্টসওয়্যার না থেকে একটি ফ্যাশনেবল আউটফিটে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বকাপের সময় এই স্টাইলিং ট্রেন্ড আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ তখন ফ্যানডম এবং ফ্যাশন একসঙ্গে মিলেমিশে যায়।

ডিজাইন ও প্রযুক্তির নতুনত্ব
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ডগুলো জার্সি ডিজাইনে নিয়ে আসে নতুনত্ব। আধুনিক ফ্যাব্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জার্সি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হালকা ও আরামদায়ক। অনেক জার্সিতে আর্দ্রতা শোষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা গরম আবহাওয়ায়ও আরাম দেয়। পাশাপাশি রেট্রো ডিজাইন আবার নতুন করে ফিরে আসছে, যা পুরোনো স্মৃতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনে।

পার্সোনালাইজড জার্সির জনপ্রিয়তা
বর্তমানে অনেক সমর্থক নিজের নাম বা প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর দিয়ে জার্সি কাস্টমাইজ করে নেন। এটি একটি ব্যক্তিগত পরিচয় তৈরি করে। কেউ মেসির নাম লিখে পরছেন, কেউ রোনালদোর, আবার কেউ নিজের নাম দিয়ে ইউনিক স্টাইল তৈরি করছেন। এই পার্সোনালাইজেশন জার্সিকে আরও বিশেষ ও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে।

ফ্যানডম ও সামাজিক সংযোগ
একই দলের জার্সি পরা মানুষদের মধ্যে সহজেই একটি বন্ধন তৈরি হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাফে, রাস্তা, বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিস–সব জায়গায় একই দলের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। জার্সি তখন শুধু পোশাক নয়, বরং সামাজিক পরিচয়ের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে জার্সির প্রভাব
ফুটবল জার্সি এখন হাই-ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও জায়গা করে নিয়েছে। বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড স্পোর্টসওয়্যারকে স্ট্রিটওয়্যার এবং প্রিমিয়াম ফ্যাশনের সঙ্গে মিশিয়ে নতুন কালেকশন তৈরি করছে। ফলে জার্সি এখন শুধু খেলার মাঠে নয়, র্যাম্প শো এবং গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ডেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।

নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা
মডেল: ত্রয়ী, ছবি: রায়হান

ঢাকা মহানগরীর উত্তাল জনারণ্যের বুকে একমাত্র সবুজ আশ্রয় রমনা উদ্যান। এই নগরের বাসিন্দাদের জন্য এই সবুজারণ্য পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এক অনিবার্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এর শ্যামল গাছপালা, জলাশয় দূষণের গরল শুষে নিয়ে জীববৈচিত্র্যের স্পন্দন অটুট রাখে, এই যান্ত্রিক নগরের তাপপ্রবাহ প্রশমিত করে। পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি এই সবুজ উদ্যান মহানগরীর অবিরাম কোলাহল থেকে নান্দনিক এক মুক্তির আশ্রয়। 

এখানে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে এক শান্ত, শোভন, হৃদয়গ্রাহী সেতু রচিত হয়ে আছে। আর এভাবেই এটা ঢাকার এক অপরিহার্য পরিবেশ ও সুস্থ মনন বিনির্মাণের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। ঘনবসতির এই নগরে উদ্যানটি একটি অমূল্য সবুজ পরিসর হিসেবে প্রকৃতি ও মানবজীবন উভয়কেই আপন বুকে ধারণ করে আছে। কংক্রিটের নিষ্ঠুর আলিঙ্গনে ও যানজটের দহনে যে শহর প্রতিনিয়ত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে, রমনা উদ্যান সেখানে প্রকৃতির এক সুশীতল নিশ্বাস, প্রশমিত করে নাগরিক উষ্ণতা। এই উদ্যান পাখি, কীটপতঙ্গ, মৎস্য ও নগরের ক্ষুদ্র বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসভূমি। 

এর জলাধার ও সবুজ প্রান্তর মাটিতে আর্দ্রতা ধরে রাখে, ধূলিকণার দাপট দমন করে, ভূমিক্ষয়ের হাত থেকে মাটিকে আগলে রাখে। এছাড়া রমনা উদ্যান একটি পরিবেশ ও সামাজিক পরিসরও বটে। মানুষ এখানে হাঁটে, ব্যায়াম করে, মনকে আলগা করে আর প্রকৃতির সঙ্গে এক অমোঘ শাশ্বত বন্ধনের অন্বেষণ করে; যা মানসিক সুস্থতার পুনর্নির্মাণ এবং নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ চেতনার বীজ বপন করতে সাহায্য করে। 

রমনা উদ্যান কেবল পরিবেশগত তাৎপর্যে নয়, আবেগ ও নান্দনিকতার গভীরেও অসাধারণ অর্থময়। এর বৃক্ষছায়া, জলাধারের প্রশান্তি, পাখির গান, ভোরের কোমল আলো এবং ঋতুর পালাবদল মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে এক প্রাণময় বন্ধন গড়ে তোলে। বলা চলে, দূষণক্লিষ্ট ঢাকার বুকে রমনা উদ্যান এই শহরের অবশিষ্ট সবুজ আত্মার মতো নিশ্বাস নিয়ে নিভু-নিভু প্রদীপের মতো জ্বলে আছে।

পরিবেশ-পাঠ

প্রকৃতির কোলে বসে যেকোনো পাঠ আমাদের পরিবেশ-চেতনাকে নতুন গভীরতা দেয়। এই পঠনে যুক্ত হয় এমন রচনা সব সাহিত্য, প্রবন্ধ কিংবা বৈজ্ঞানিক ভাষ্য যা মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার অচ্ছেদ্য সম্পর্ককে উন্মোচন করে। পরিবেশ-পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা পরিচিত হই পশুপ্রাণীর ভাষিক সংশ্রব, পল্লিপ্রকৃতির রূপকথা, জলবায়ুর ভাষা এবং পরিবেশ-সংকটের অন্তর্বেদনার সঙ্গে। পরিবেশ-পাঠ কেবল শব্দের অর্থ উদ্ধারের যাত্রায় নিয়োজিত করে না বরং, চারপাশের পৃথিবীকে রক্তে-মজ্জায় অনুভব করাও এর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 

একটি গাছের, একটি নদীর কিংবা পরিবর্তনশীল ঋতুর সহজ-সরল বর্ণনাও টেকসই জীবন ও দায়িত্বশীলতার গভীর জিজ্ঞাসা জাগিয়ে তুলতে পারে। 

পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে কীভাবে মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড প্রকৃতির গায়ে কী ভয়াল ক্ষত রেখে যাচ্ছে। পরিবেশ-বিপর্যয় যেখানে অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হয়েছে, সেই আধুনিক পৃথিবীতে পরিবেশ-পাঠ একটি নীরব কিন্তু দৃঢ় প্রতিরোধের ভাষা। 

এটি জানান দেয়, আমরা একা নই, প্রকৃতির জীবন্ত সত্তা আমাদের অস্তিত্বের ভেতরেই নিশ্বাস নিচ্ছে। এই পাঠ নিঃস্বার্থ জীবনযাপনের দিকে মানুষকে টানে এবং এই পৃথিবীর প্রতি সহানুভূতির গভীর শিকড় তৈরি করে। 

পরিবেশ-নন্দন পদচারণ

প্রকৃতির কোলে সচেতন পদচারণে বেরিয়ে পড়া, পরিবেশকে দুচোখ ভরে দেখা, বোঝা ও অনুভব করা, এটাই পরিবেশ-নান্দনিকতার মূল সাধনা। সাধারণ হাঁটার বিপরীতে এই চর্চা গাছপালা, মাটি, জল, পাখি এবং নিত্য উপেক্ষিত ক্ষুদ্রতম প্রাণের দিকে মানুষের দৃষ্টি ও চেতনা ফিরিয়ে দেয়। 

এই পরিবেশ-হাঁটা মানুষকে মন্থর করে, সে থামে, শোনে। গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া নয়, যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভব করাই এখানে সাধ্য। পাতার মর্মর, মাটির স্পর্শ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের স্পন্দন প্রকৃতির সঙ্গে এক নিঃশব্দ সংলাপের হারানো জগৎ উন্মোচন করে। 

এই হাঁটা মানুষকে শেখায় বাস্তুতন্ত্র কীভাবে বাঁচে এবং কেন তার বেঁচে থাকা জরুরি। এটা একাধারে উদঘাটন ও জ্ঞানের পথ। এভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ পরিণত হয় প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক বিনম্র অথচ গভীর অঙ্গীকারে। ঢাকার মতো বিশৃঙ্খল নগরে পরিবেশ-হাঁটা প্রশান্তি ও প্রকৃতির সঙ্গে পুনর্মিলনের এক দুর্লভ অবকাশ এনে দেয়। 

আমাদের বিস্মৃত সত্যকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা নই, আমরা তারই রক্ত-মাংসেরই অংশ।

পরিবেশ রক্ষা করে ফুল তোলা

ফুল মানুষের আজন্ম প্রেম। ফুল না তোলার কথা আমরা যতই সরবে বলি না কেন, ফুল ছেঁড়া ও সংগ্রহ করা এবং তা বুকে আঁকড়ে রাখা মানুষের আদিমতম স্বভাবের একটি। 

কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষিত রেখে ফুল তোলা হলো সেই প্রেমেরই সচেতন, দায়িত্বশীল রূপ; যা প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করে ফুলের সৌন্দর্যকে স্পর্শ করে। অসতর্ক ফুল তোলার বিপরীতে এই চর্চা প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভারসাম্য রক্ষা এবং সংরক্ষণের বোধকে জাগ্রত রাখে। 

পরিবেশকে রক্ষা করে ফুল তুলে মানুষ যা নেয় তা উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক চক্র অব্যাহত রাখতে সহায়ক হয়। উদ্দেশ্য হলো বাস্তুতন্ত্রকে অক্ষত রেখে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে প্রাণভরে উপভোগ করা। অনেক সময় না ছিঁড়ে মাটিতে ঝরে পড়া ফুলকে কুড়িয়ে নেওয়ার এক সুকোমল চর্চা মানুষের ভেতর লক্ষ করা যায়। এতে ক্ষতির সম্ভাবনা আরও কমে আসে। 

এই চর্চা প্রকৃতির প্রতি এক গভীর স্পর্শকাতরতা ঘটায়। শেখায়, প্রকৃতি কেবল ভোগের সামগ্রী নয়, সে সহাবস্থানের সাথী ও পরম বন্ধু। সদয় ও সতর্ক হাতে একজন পরিবেশ-ফুল সংগ্রাহক লুণ্ঠনকারীর ভূমিকা ছেড়ে অংশীদারের বার্তাবাহক হয়ে ওঠে। তাই পরিবেশ-ফুল তোলা আনন্দ ও দায়িত্বকে একই সুতায় গেঁথে দেয় এবং আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সামান্য আনন্দও পৃথিবীকে এক মমতার আলোয় আরও উজ্জ্বল করে দিতে পারে।

পরিশেষে, পরিবেশ ও মানুষ পরস্পরের মধ্যে বিলীন। একটি ছাড়া অপরটির অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। প্রকৃতি কেবল মানবজীবনকে নয়, তার সংস্কৃতি, প্রতীকচেতনা, আবেগ ও কল্পনার সমগ্র জগৎকে গড়ে তোলে। এর পরিবর্তে মানুষও প্রকৃতিকে নতুনভাবে নির্মাণ করে, তাকে জীবনের আরও যোগ্য আবাসে পরিণত করে। তাই প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপনই সুস্থ ও সুন্দর জীবনের মূল রহস্য। আর এখানেই নিহিত রয়েছে আমাদের মহানগরীর উত্তাল জনস্রোতের মাঝে রমনা উদ্যানের অপরিমেয় গুরুত্ব।

/এসএল