আমাদের দেশে চৈত্রের শেষ থেকেই বাড়তে শুরু করে সূর্যের তাপমাত্রা। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রকৃতিতে বিরাজ করে তীব্র গরম। সেই সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আমাদের শরীরের ভেতরের পরিবেশও। ফলে এসময় খাবার-দাবারে সতর্কতা অবলম্বন না করলে সহজেই ডায়রিয়া, গ্যাসট্রিক, পেট ফাঁপা, স্ট্রোকের মতো রোগের মুখোমুখি হতে হয়।
পানি
গরমে আমাদের শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। এ থেকে সহজেই পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, মেজাজ খারাপ হওয়া এমনকি হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া পানির তারতম্য হলে শরীর আরও গরম হয়ে ওঠে। বলা বাহুল্য, এই গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সবচেয়ে বেশি পান করতে হবে পানি। সাধারণত একজন মানুষের জন্য নিয়মিত ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। তবে তাপমাত্রা বেশি হলে এবং শরীর থেকে বেশি ঘাম ঝরলে আট থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন।
ফল
পানির সঙ্গে সঙ্গে এ সময় খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দিতে হবে পানিজাতীয় খাবার। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখতে পারেন পানিজাতীয় ফলমূল। গ্রীষ্মকালীন সহজলভ্য ফল তরমুজ। তরমুজের প্রায় ৯২ ভাগ উপাদানেই রয়েছে পানি। গরমে অতিরিক্ত পানির চাহিদা পূরণ করতে বেছে নিতে পারেন সুমিষ্ট ফল তরমুজকে। এ ছাড়া ডাবের পানিতে রয়েছে প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট পদার্থ। যা শরীরকে আর্দ্র রাখতে ও শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। লেবুর পানিতেও রয়েছে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ উপাদান। ভিটামিন সি-যুক্ত থাকায় লেবুর পানি যেমন শরীরের আর্দ্রতা রক্ষা করে তেমনি সতেজ ও ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়। গ্রীষ্মকালীন আরও দুই জনপ্রিয় ফল জাম ও বেল। জামের রস ও বেলের শরবত পেটকে রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখে ও পেট ঠাণ্ডা রাখে।
শাকসবজি
গরমে হজমপ্রক্রিয়া সহজ ও পেট ঠাণ্ডা রাখতে শাকসবজিজাতীয় হালকা খাবার প্রাধান্য দেওয়াই ভালো। গ্রীষ্মকালীন সবজি লাউয়ে রয়েছে প্রচুর পানি। এ ছাড়া লাউ পেটে থাকা গ্যাস-অম্বল কমিয়ে পেট ঠাণ্ডা রাখে। গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় খাবার হজম বা বিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। ঢেঁড়স বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে শরীরে সাম্যাবস্থা বজায় রাখে। ব্রোকলি, কচু শাক ও পালং শাকে রয়েছে প্রায় ৯০ ভাগের চেয়ে বেশি মিনারেল ও রোগপ্রতিরোধকারী উপাদান। গরমে সুস্থ ও সতেজ থাকতে ঘুরেফিরে এগুলো খেতে পারেন নিয়মিত।
আমিষ
গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে অনেক শক্তিও বের হয়ে যায়। তাই বেশি গরম পড়লে আমিষজাতীয় খাবার খাওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন পুষ্টিবিদরা। স্বাস্থ্যকর আমিষ হিসেবে সুপরিচিত মাশরুম। প্রোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল। আবার দুধ, দই, ঘোলজাতীয় পানীয়ও শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করে এবং শরীরে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শক্তি জোগায়।
যেসব খাবার খাবেন না
• আমরা যেসব খাবার খাই পরিপাকতন্ত্রে সেগুলো হজম করতেও কিন্তু তাপ উৎপন্ন করতে হয়। গরমের সময় সাধারণতই পরিপাকতন্ত্রের তাপমাত্রা বেশি থাকে। তাই যেসব খাবার হজম করা কঠিন অর্থাৎ বেশি শক্তি প্রয়োগ বা তাপ উৎপাদন করতে হয় সেসব খাবার খাবেন না।
• বেশি গরম পড়লে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি, বরফের টুকরো দেওয়া পানি বা কোমল পানীয় পান করা কমবেশি সবারই অভ্যাস। এতে সহজে ঠাণ্ডা অনুভূত হলেও আসলে আমাদের ত্বক পরে শুষ্ক করে দেয়। ডিহাইড্রেশন, প্রস্রাব জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
• ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত ও অতিরিক্ত মসলাজাতীয় খাবারও শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করে। আবার ফাস্টফুডের মতো উচ্চ ক্যালরি যুক্ত খাবার থেকেও শরীরে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং পানির ঘাটতি তৈরি করে। তাই গরমে এসব খাবার এড়িয়ে চলুন।
কলি