ফেস ম্যাসাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফেস ম্যাসাজ ত্বকের বলিরেখা দূর করে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ত্বককে ভালো রাখে। নিয়মিত ফেস ম্যাসাজে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আকর্ষণীয় ও কোমল।
ম্যাসাজের উপকার
ম্যাসাজের জন্য অনেক ধরনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। চাইলে হাত দিয়েও মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তর্জনী ও মধ্যমা দিয়ে ম্যাসাজ শুরু করতে হবে। হাতে তেল বা সিরাম অথবা ক্রিম নিয়ে কপাল, চোখের নিচে, নাকের দুই পাশ থেকে গাল হয়ে থুতনিতে চক্রাকারে ম্যাসাজ করতে হবে। মুখের ত্বকে আলত করে আঙুলের চাপ দিতে পারেন। বেশি চাপ দিয়ে ঘষা যাবে না। এ ছাড়া প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট দুই হাতের তর্জনী দিয়ে নাকের দুই পাশে চেপে টেনে টেনে ম্যাসাজ করলে ভালো উপকার পাবেন। হাতের আঙুল দিয়ে ম্যাসাজ করার সবচেয়ে ভালো দিক হলো আঙুলের ত্বকের তাপমাত্রা মুখের ত্বকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। ফলে মুখের ত্বককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ কারণে যেকোনো কিছুর চেয়ে হাত দিয়ে ম্যাসাজ সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
.jpg)
রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
মুখের ম্যাসেজ করলে রক্তের সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। ত্বকের কোষগুলোতে সঠিক পুষ্টি সরবরাহ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ত্বককে সতেজ রাখে। মালিশ করার জন্য অ্যালোভেরা জেল, অন্য কোনো ভেষজ, পুদিনা বা গোলাপের প্রাকৃতিক জেল বাছাই করতে পারেন। জেল ব্যবহার ত্বকে তৈলাক্ততা না এনে আর্দ্রভাব বজায় রাখতে সহায়তা করে। শুষ্ক, তৈলাক্ত ও মিশ্র সব ধরনের ত্বকে জেল ব্যবহার করতে পারেন।
বলিরেখা কমায়
নিয়মিত ম্যাসাজ ত্বকের চেহারার বলিরেখা কমাতে সহায়তা করে। দিনে দুবার কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মুখে মেখে ১০ মিনিট আলতভাবে ম্যাসাজ করলে ত্বক টানটান হয়। এ ছাড়া ত্বকের বলিরেখা ও অন্যান্য দাগ সারিয়ে তারুণ্য নিয়ে আসে।
মানসিক চাপ দূর করে
নিয়মিত ফেস ম্যাসাজ করলে মানসিক চাপ দূর হয়। যারা প্রচুর কাজের চাপে থাকেন তাদের অবশ্যই ফেস ম্যাসাজ করতে হবে।
টক্সিন দূর করতে
ফেস ম্যাসাজ ত্বকের টক্সিন দূর করতে পারে। এর জন্য ত্বকে আলতভাবে চাপ দিয়ে গোলাকার গতিতে ঘুরিয়ে মালিশ করতে হবে। চাইলে রোলারও ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যকর ও পরিষ্কার। অনেকের ত্বক ঝুলে যায়, সেই সমস্যাও দূর হবে।
ত্বকের অক্সিজেন সরবরাহ করে
ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে অক্সিজেনের ভূমিকা অনেক। ত্বকে সঠিক পরিমাণে অক্সিজেন থাকলে রক্তের সঞ্চালন ঠিকঠাক হয়। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, কমে ব্রণের সমস্যা। ত্বকে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে মালিশ সবচেয়ে উপকারী। এতে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং অক্সিজেন বাড়ার উপকার পাওয়া যায়। মুখের মালিশের নিয়ম ও পদ্ধতি জেনে ত্বকের ম্যাসাজ করতে হবে।
ত্বককে কোমল করে
সঠিকভাবে ফেস ম্যাসাজ ত্বকের গঠন উন্নত করতে সাহায্য করে। তিলের তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে মুখে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ত্বক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় রাখে। ত্বকে তারুণ্যের আভা যোগ করে।
ত্বক কোষের মেরামত করে
ত্বকে নতুন কোষ তৈরি, টিস্যু মেরামত এবং ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে কোলাজেন। আর এই কোলাজেন বৃদ্ধিতে ফেশিয়াল ম্যাসাজের ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিচর্যায় পোরসের সমস্যা দূর করবে।
কলি