বাংলা সাহিত্যে এক বিরল, বিস্ময়কর প্রতিভার নাম কাজী নজরুল ইসলাম। প্রাণজন্ম থেকে মানবজন্মে সত্তান্তরিত হয়ে সক্রিয় চেতনায় উদ্ভাসিত হওয়ার মুহূর্তেই তার এই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও আত্মমুক্ততা তাকে আলাদা করে রেখেছে। বাঙালি সমাজের সৌন্দর্য বিনষ্টের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন প্রতিবাদী কবি নজরুল। যখনই ধর্ম নিয়ে বাড়বাড়ি কিংবা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে, তখনই তিনি অস্থির হয়ে উঠেছেন। তিনি কলম ধরেন সেই উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে। অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদের চেতনাকে তিনি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেন।
প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি নজরুল। ফিরতে চেয়েছেন প্রেমে। তার সৌন্দর্যবোধ ছিল অত্যন্ত প্রখর ও উঁচুমানের। কিন্তু শিল্পের সৌন্দর্যের চেয়েও সংস্কৃতির ঐক্যকে তিনি অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। বিপ্লবই ছিল তার স্বপ্ন। তাকে আমরা বিদ্রোহী বলে জানি। কিন্তু তার আসল পরিচয়, তিনি একজন খাঁটি বাঙালি এবং বিশ্বাসী ছিলেন সমাজবিপ্লবে।...
নজরুলের সৌন্দর্যবুদ্ধি ছিল অত্যন্ত প্রখর ও উঁচুমানের। কিন্তু শিল্পের সৌন্দর্যের চেয়েও সংস্কৃতির ঐক্যকে তিনি অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। হিন্দু দেবদেবীর নাম নেওয়ার অপরাধে তাকে ‘কাফের’ বলা হয়েছে, অন্যদিকে তথাকথিত মুসলমানি শব্দ ব্যবহারের কারণে তলোয়ার দিয়ে দাঁড়ি চাঁচছেন এমন ঠাট্টাও করা হয়েছে। নজরুল দমেননি। তিনি তার কাজ করে গেছেন। যে জন্য আমরা বাঙালিরা তার কাছে বিশেষভাবে ঋণী।
বিপ্লবই ছিল তার স্বপ্ন। তাকে আমরা বিদ্রোহী বলে জানি, যে ঘোষণাটা তিনি নিজেই দিয়েছেন। কিন্তু তার বিদ্রোহ কেবল ধূমকেতুর নয়, লাঙলেরও; অর্থাৎ কিনা এটা হঠাৎ জ্বলে ওঠার নয়, ধারাবাহিক প্রবাহের বটে। লক্ষ্যটা ধ্বংসের জন্য ধ্বংস করা নয়, নতুন সৃষ্টির জন্য ধ্বংস করা।...