ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায় সিলেটে টানা বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা পাউবোর বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২০২৭: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল প্রযুক্তির অপচ্ছায়া সড়কে ‘এআই ক্যামেরা’ ও অভিনব ডিজিটাল ডাকাতি বাবা দিবসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আমরা কি বাবা-মাকে হারাচ্ছি, নাকি তাদের সঙ্গে সময়ের সংযোগ হারাচ্ছি! ১০ দফা দাবিতে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের মানববন্ধন সোমবার মোহভঙ্গের বাংলাদেশ: যখন বুঝলাম সর্বনাশ হয়ে গেছে

লুটপাটে ‘লিলিপুট’ রাজবাড়ি!

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
লুটপাটে ‘লিলিপুট’ রাজবাড়ি!
২০১৭ সাল: জাফলং রাজবাড়ির ফটকসহ আশপাশ গাছপালায় ভরা। (ডানে) ২০২৬ সালের রাজবাড়ির ফটকসহ আশপাশের দৃশ্য। ছবি: খবরের কাগজ

এ যেন গল্পের ‘লিলিপুট’! ধ্বংসাবশেষ খুঁড়ে যত্রতত্র পাথর উত্তোলন ও লুটপাট এবং জমি দখলের মধ্য দিয়ে ‘লিলিপুট’ আকার ধারণ করেছে একসময়ের বিশাল রাজবাড়ি। এখন যেন ইতিহাস খুঁড়ে খাওয়া আরেক ইতিহাস। বিশালতা হারিয়ে ক্ষুদ্রতায় নেমে আসা জাফলং রাজবাড়িটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো।

জাফলং রাজবাড়িটির অবস্থান সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ঐতিহাসিক এ স্থাপনার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পিয়াইন নদ। বাড়িটির ১০ বিঘা জমির পরিমাপ নেমে এসেছে শতকের কোঠায়। ১৬ শতক জায়গা দেবোত্তর সম্পত্তির হিসেবে উল্লিখিত রয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী স্থানটি চেনার উপায়ও প্রায় বিলুপ্ত। অথচ একসময় পাহাড়-নদীঘেরা মনোরম এই রাজধানী ছিল খাসিয়া ‘মালনিয়াং রাজ্য’-এর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। রাজ্য বিলুপ্তির পর দীর্ঘদিনের অবহেলা, পাথরখেকো চক্রের লুটপাটে সেটি প্রায় বিলীন হতে চলেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ ২০১৭ সালে একটি সরেজমিন প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে সংরক্ষণ সচেতনতার আহ্বান জানানো হয়। এর আট বছর পর দেখা গেছে, রাজবাড়ির বেশির ভাগ অংশই আর নেই। কেবল কিছু দেয়াল ও ফটকের অবশিষ্টাংশ দাঁড়িয়ে আছে। প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রাহক ও গবেষকদের মতে, ১৮৩৫ সালে জৈন্তিয়া রাজ্যের পতনের পর থেকেই শুরু হয় লুটপাট, যা এখনো চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরখেকো চক্র সক্রিয় থাকায় রাজবাড়ির অবস্থানও গোপন রাখা হচ্ছে। পরিবেশ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট একটি পরিদর্শক দল সম্প্রতি রাজবাড়িটি ঘুরে দেখে জানায়—আগের সেই চিহ্নগুলোর প্রায় কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। বন-ঝোপ-গাছগাছালি কর্তন করা। কেবল ফটকসমেত কিছু দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে।

‘সিলেট ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার’সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য সূত্রে জানা যায়, সিন্টেং রাজবংশের পূর্বে জৈন্তিয়া রাজ্য কয়েকটি খণ্ডরাজ্যে বিভক্ত ছিল, যার একটি ছিল জাফলং। ১৪৫০ থেকে ১৬০০ সালের মধ্যে এসব খণ্ডরাজ্য একত্রিত হলে জৈন্তা রাজধানী হলেও জাফলং টিকে থাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে। পাহাড়-নদীঘেরা মনোরম এ রাজধানী দীর্ঘ সময় অক্ষত ছিল। ধারণা করা হয়, জৈন্তিয়া রাজারা এখানে মাঝেমধ্যে অবস্থান করতেন এবং স্থাপনাগুলোর সংস্কার করতেন।

‘সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হাই আল হাদী তার ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, জাফলং শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, ঐতিহাসিক গুরুত্বেও অনন্য। খাসিয়াদের প্রাচীন ‘মালনিয়াং রাজ্য’র রাজধানী ছিল জাফলংয়ের বল্লাপুঞ্জি। এখানকার ‘মন্দিরের জুম’-এ অবস্থিত রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ সেই গৌরবময় অতীতের সাক্ষ্য বহন করে। জাফলংয়ের প্রাচীন খাসিয়া বসতির নাম ‘বল্লাপুঞ্জি’। বন-বাদাড় ও পান-সুপারির জুমের মধ্যে রাজবাড়িটির অবস্থান। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মন্দিরের জুম’ নামে পরিচিত। জায়গাটির কিছু অংশে গাছপালায় আচ্ছাদিত এবং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা—সম্ভবত পাথরখেকোদের হাত থেকে রক্ষার জন্য।

স্থানীয় প্রবীণদের তথ্য অনুযায়ী, এখানে আগে পাকা বৈঠকখানা ছিল, যা ১৯৮৮ সালের বন্যায় বিলীন হয়। এ ছাড়া উত্তর দিকে নদের সঙ্গে যুক্ত একটি পুকুর ছিল, এখন তা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও জায়গাটি বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে, সরকারি রেকর্ডে এখনো ‘মন্দিরের ভূমি’ হিসেবে চিহ্নিত। মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১০ বিঘা।

আব্দুল হাই আল হাদী বলেছেন, খাসিয়াদের ‘মুখিয়াতন্ত্র’ বা ‘সিয়েম’ পদ্ধতিতে ছোট-বড় বহু রাজ্য গড়ে উঠেছিল। খাসিয়া প্রবাদে এগুলোকে বলা হয় ‘ত্রিশ রাজা বার দলইর দেশ’। জাফলং ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সুপ্রাচীনকাল থেকেই খাসিয়াদের আবাসভূমি। তবে রাজত্ব হারানোর পর থেকেই লুটপাটে এসব স্থাপনা ধ্বংস হতে থাকে।

প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন সংগ্রাহক ও গবেষক আসিফ আযহার জানান, ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেছে, লুটের সূচনা হয় ১৮৩৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে জৈন্তিয়া রাজ্যের পতনের পর। তাদের শাসনামলে কোনো উন্নয়ন হয়নি; বরং স্থাপনাগুলো ধ্বংসের পথে যায়। ১৯৪৭ সালের পরও লুটপাট বন্ধ হয়নি। 

সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি বলেন, জাফলং রাজ্যের মূল অংশ পাথর ও বালু উত্তোলনে নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে কেবল দক্ষিণের দেয়াল ও রাজকীয় ফটক নাজুক অবস্থায় টিকে আছে। পূর্ব দেয়ালের কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকলেও পশ্চিম ও উত্তর দিক পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

পাথরমহাল-সংশ্লিষ্ট স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এখানে লুটপাটে দুই রকমের তথ্য পাওয়া গেছে। এক পক্ষ বলেছে, মাটির তলদেশে সেকালে রাজার আমলের কোনো গুপ্তধন থাকতে পারে, এমন ধারণা বা মিথ নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে। এখনকার খোঁড়াখুঁড়ির অবশ্য একটাই লক্ষ্য, তা হচ্ছে পাথর। মাটির নিচে বড় বড় বোল্ডার পাথর মিলছে। এসব পাথরের সঙ্গে সেকালের স্থাপনার নানা রকম দ্রব্যাদিও পাওয়া যায়। এর মধ্যে পাহাড়ের ভেতরকার প্লেট-জাতীয় দ্রব্য টাইলস তৈরিতেও ব্যবহার হয়। সেকাল-একাল মিলিয়ে রাজবাড়িটিতে লুটের ধারা ১৯১ বছরের পুরোনো।

‘লিলিপুট’ আকার ধারণ করা রাজবাড়িটির সম্পর্কে আগন্তুক কেউ জানতে চাইলে স্থানীয়রা কেউ আর দেখিয়ে দেয় না বলে জানিয়েছেন প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’র (ধরা) সদস্যসচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিম। 

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, এখন আর কেউ জাফলং রাজবাড়ির অবস্থান দেখাতে চায় না। হয়তো দেখানোর মতো কিছু নেই, নয়তো পাথরখেকো চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানটি আড়াল করছে। তার আশঙ্কা, এবারের বর্ষার পর হয়তো আর কোনো চিহ্নই থাকবে না।

চিহ্ন-নিশ্চিহ্নের এমন আশঙ্কার বাস্তবতাও দেখা গেছে। আগামী বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে জাফলং রাজবাড়ির ফটকের ওপাশে বারকি নৌকা জড়ো করে রাখা হয়েছে। পাহাড়ি ঢল নামার সুযোগে পাথর লুটের প্রস্তুতির এ অবস্থায় রাজবাড়ির নিদর্শন সংরক্ষণ সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এখানে এখন থেকেই প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন।

শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবি: খবরের কাগজ

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী ড. নীলিমা ইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী নীলিমা ইব্রাহিম আমৃত্যু মানবকল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। তার জীবনদর্শন ও সাহিত্যকর্মে উদার মানবিকতাবোধের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, বেগম রোকেয়া পদক, একুশে পদকসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাটের ফকিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন নীলিমা ইব্রাহিম। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী নীলিমা ইব্রাহিম ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির অবৈতনিক মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

সাহিত্যচর্চায় তিনি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ, উপন্যাস, নাটক ও অনুবাদকর্মে অবদান রেখে গেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ–‘ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক’, ‘বাংলা নাটক: উৎস ও ধারা’; উপন্যাস: ‘বিশ শতকের মেয়ে’ এবং বহুল আলোচিত কথানাট্য ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’।

শিক্ষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি নারী উন্নয়ন ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। 

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১ জুন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া গ্রামে মানিক মিয়ার জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে বিএ পাস করে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

১৯৪৭ সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ রূপান্তরিত হয়।

মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ এবং নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ফলে তার প্রতিষ্ঠিত অন্য দুটি পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণী বন্ধ হয়ে যায়। গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার ইত্তেফাকের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি ফের প্রকাশিত হয়।

‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ আর ‘রঙ্গমঞ্চ’ শিরোনামে কলাম লিখে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলেন মানিক মিয়া। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ মে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীবগুলোর মধ্যে অন্যতম কচ্ছপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, এই প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং এর সংরক্ষণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

আমেরিকান টরটয়েজ রেসকিউ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২৩ মে সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব কচ্ছপ দিবস’। বিশ্বজুড়ে কচ্ছপ ও তাদের বিলুপ্তপ্রায় আবাসস্থল রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

সরীসৃপ শ্রেণির উভচর প্রাণী কচ্ছপ পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জীব হিসেবে পরিচিত। শান্ত স্বভাবের এই প্রাণীর আয়ু মানুষের চেয়েও বেশি। তবে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির কচ্ছপ। নদী, খাল-বিল, ডোবা, গভীর সমুদ্র, মাটির গর্ত, গাছের গুড়ি কিংবা বালুময় স্থানে এদের বসবাস। একসময় দেশের নদী-নালা, পুকুর-ডোবা ও গ্রামীণ পরিবেশে সহজেই কচ্ছপ দেখা গেলেও এখন তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-নালা ও জলাশয় ভরাট, ঝোপঝাড় ধ্বংস, পানি দূষণ, খাদ্যাভাব এবং মানুষের নির্বিচার আক্রমণের কারণে কচ্ছপ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে প্রায় একশ’ প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

কচ্ছপ সাধারণত রাতের বেলা ডিম পাড়ে। স্ত্রী কচ্ছপ মাটিতে গর্ত করে সেখানে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম পাড়ার পর সেগুলো মাটি, বালি বা জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে রেখে যায়। এরপর ডিমগুলো প্রকৃতির ওপরই নির্ভরশীল থাকে। প্রজাতিভেদে ৬০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

দীর্ঘায়ুর জন্যও কচ্ছপ বিশেষভাবে পরিচিত। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপের নাম ‘জোনাথন’। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী এই কচ্ছপটির বয়স প্রায় ১৯০ বছর বলে ধারণা করা হয়। সত্য হলে এটি পৃথিবীর দীর্ঘায়ু জীবিত প্রাণীদের অন্যতম।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

আমান/

গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (আর কে হাই স্কুল) প্রতিষ্ঠাতা ও গৌরীপুরের ৫ম জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর ১৫৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

এসিক অ্যাসোসিয়েশন, ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরি, ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব এবং দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে ছিল, কেক কাটা ও আলোচনা সভা।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) কেক কাটা হয়। এরপর বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় ধানমহালে ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক খায়রুল আলম তুহিন, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স এর সহসভাপতি ও এসিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি সদস্য হিউবার্ড চক্রবর্তী, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের পরিচালক অমল চন্দ্র দাস।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহসভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিলসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা।

সমাপনী বক্তব্য দেন ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, গবেষক ও  ইতিহাস সন্ধানী মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার। 

আলোচনা সভায় গৌরীপুর রাজবাড়ির ৫ম পুরুষ জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর কর্মময় জীবন, গৌরীপুরে উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯২৭ সালে গৌরীপুর পৌরসভা, ১৯১২-১৮ সালে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন ইত্যাদি গঠনে তার অবদান এবং বিভিন্ন সামাজিক অবদান তুলে ধরা হয়।

অমিয়/

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১০:০১ এএম
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়/ পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’- অনাচার আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরে বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের সুর তোলা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ মে। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে ২১ বছর বয়সে কলকাতার একটি ক্লিনিকে নিভে গিয়েছিল এই প্রতিভাধর কবির জীবনদীপ।

যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে গেলেও মাত্র কয়েক বছরের সাহিত্যচর্চায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘গণমানুষের কবি’ হিসেবে। পরাধীন ভারতের বঞ্চনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা আর তেতাল্লিশের মন্বন্তর তার লেখায় ফুটে উঠেছে শ্রেণিবৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন হয়ে।

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করা সুকান্তের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও জীবনের পাঠশালায় তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভের পর থেকে তার সাহিত্য ও রাজনীতি একাকার হয়ে যায়।

কবির উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’; যা তাকে বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী আসন দিয়েছে। 

অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’। ‘আকাল’ তার সম্পাদিত বিখ্যাত ফ্যাসিবাদবিরোধী কাব্যগ্রন্থ।

সুকান্ত কেবল কবিতাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, কিশোর বয়সেই তিনি লিখেছিলেন গীতিনাট্য ‘রাখাল ছেলে’ এবং ব্যঙ্গাত্মক নাটিকা ‘দেবতাদের ভয়’। এ ছাড়া গল্প, গান এবং প্রবন্ধেও ছিল তার সাবলীল বিচরণ। আকাশবাণী কলকাতার ‘গল্প দাদুর আসরে’ তার লেখা গান গেয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী পঙ্কজ মল্লিক।