যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুব শিগগিরই শপথ নিয়ে দেশটির ক্ষমতাগ্রহণ করবেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনে এমন অনেক কিছুই চোখে পড়বে যা আগে পড়েনি। ট্রাম্প নিজেও বেশ কিছু লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। অতিসম্প্রতি তিনি বলেছেন, জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম কাজ হবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ‘আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। নির্বাচনের পর জনসমক্ষে দেওয়া প্রথম দীর্ঘ বক্তব্যে নবনির্বাচিত এ প্রেসিডেন্ট রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি জানান।
ট্রাম্প বক্তব্যে একাধিকবার বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অবিলম্বে ওই যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তবে কীভাবে তা করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন নয়, ট্রাম্প আরও কিছু লক্ষ্য তুলে ধরেন সবার সামনে। সমর্থকদের তিনি বলেন, তার অন্যান্য অগ্রাধিকার হবে মধ্যপ্রাচ্য এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত, ভঙ্গুর, ব্যর্থ প্রশাসনকে সাফ করা।’
প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা জানালেও বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে মঞ্চ ছাড়েন ট্রাম্প। ফ্লোরিডার ওই আয়োজনটি ট্রাম্পের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিবিসির তথ্যানুসারে, আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি ইনস্টিটিউট নামের ওই সংস্থাটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজেরই সংস্থা। ২০২১ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় সেটি। এবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একাধিক রক্ষণশীল নীতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে বিজয় প্রসঙ্গে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যে এভাবে জিতে যাব, তা কেউ জানত না। এটি একটি বড় বিজয় ছিল।’ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, হাউস স্পিকার মাইক জনসনসহ কয়েকজনকে ধন্যবাদও দেন ট্রাম্প।
এদিকে, টেসলার প্রধান নির্বাহী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ইলন মাস্ক কয়েক দিন ধরে তার সঙ্গেই রয়েছেন, তার বাসভবনে অবস্থান করছেন। বিষয়টি সবাইকে জানান ট্রাম্প। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি (ইলন) এই জায়গাটি পছন্দ করেন। আমি তাকে বের করে দিতে পারি না। আমিও এখানে তাকে পেয়ে আনন্দিত।’
আরও কিছু হাই-প্রোফাইল সমর্থককেও ধন্যবাদ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিবেক রামাসোয়ামি ও মার্কিন রাজনীতিবিদ টালসি গ্যাবার্ড। দুজনকেই ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প আরও জানান, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ডগ বারগামকে মনোনীত করেছেন। ডগ বারগামও এক সময় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন। তিনি এখন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ফেডারেল জমির ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিভাগটি পরিচালনা করবেন।
মন্ত্রিপরিষদের বেশির ভাগ পদের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন পড়বে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সময়টিকে উপভোগ করছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেক দিন ধরেই অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। তবে শপথ গ্রহণ জানুয়ারির আগে হবে না। তাই তাকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
ফ্লোরিডার ওই আয়োজনটি মূলত ছিল তার ভক্ত ও সমর্থকদের জন্য বিজয় উদযাপন। সূত্র: বিবিসি