পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তিন দিন ধরে চলা বিক্ষোভ কর্মসূচি নাটকীয় মোড় নিয়েছে।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকালে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
পরে দুপুর নাগাদ খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর জানান, অবস্থান কর্মসূচি চলছে। ইমরানের মুক্তির আগ পর্যন্ত এটি চলবে।
তবে ইসলামাবাদে তারা যে স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটি এখন আর তাদের দখলে নেই। গত রবিবার থেকে মাঠে ছিল দলটি। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। গাড়িচাপায় রেঞ্জার্স বাহিনীর চার সদস্য ও গুলি করে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। মারা গেছেন দুজন বেসামরিক ব্যক্তিও। পিটিআইয়ের শত শত কর্মী ও সমর্থক আহত এবং আটক হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদের পরিস্থিতি ব্যাপক উত্তপ্ত ছিল। পুলিশ জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছিল। ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবি ছিলেন বিক্ষোভের নেতৃত্বে। এ ছাড়া আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর।
রাজধানীতে ব্যাপক ধরপাকড় ও আটকের জেরেই প্রথমে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। দলের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় পিটিআই। তারা জানায়, এই সরে আসা সাময়িক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার চরম নিষ্ঠুরতা, নির্মম মনোভাব এবং নিরস্ত্র জনগণকে হত্যার মাধ্যমে রাজধানীকে কসাইখানায় পরিণত করেছে। তাই সাময়িকভাবে আমরা আমাদের দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করছি।’
দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। তবে পিটিআইয়ের কর্মী-সমর্থকরা এ ঘোষণা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পিটিআইয়ের বিক্ষোভের মুখে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আগে থেকেই ইসলামাবাদে সেনা মোতায়েন করে রেখেছিল। এমনকি পিটিআইয়ের যেকোনো কর্মী-সমর্থককে দেখামাত্রই গুলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের খবর বলছে, মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি এতটাই বিগড়ে যায় যে প্রতিবাদস্থল থেকে পালাতে বাধ্য হন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরসহ অন্যরা। পরে গতকাল পাকিস্তানের মানসেহরা শহরে আবার দেখা যায় তাকে। সেখানে তিনি কর্মীদের আশ্বস্ত করেন যে অবস্থান কর্মসূচি এখনো চলছে।
গান্দাপুর বলেন, ‘মানুষ এই প্রতিবাদে মারা গেছেন। আমাদের অবশ্যই তাদের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।... খান সাহেব (ইমরান) এই প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। তিনি বন্ধ না করা পর্যন্ত এটি চলবে।’
তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ার এই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সব অবস্থান কর্মসূচিতে যে মানুষ থাকতেই হবে, সে রকম প্রয়োজনীয়তা নেই। পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিরোধীদলীয় নেতা ওমর আইয়ুব খান বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ দল। আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
বুধবার সকাল থেকেই খবর রটেছিল, বুশরা বিবি, গান্দাপুর ও আইয়ুব তিনজন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে বুশরা বিবিকে দেখা যায়নি।
এদিকে পিটিআইয়ের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ইসলামাবাদের পরিস্থিতি। চার দিন পর রাজধানীর বিভিন্ন অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হতে দেখা গেছে।
বুধবার সকালে নগরকর্মীদের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে এবং পিটিআই সমর্থকদের বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তায় বসানো কনটেইনার সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
ডনের খবর বলছে, অনেক প্রতিবাদকারী নিজেদের গাড়ি ফেলে রেখে গেছেন। গতকাল বুশরা বিবিকে বহনকারী ট্রাকের ধ্বংসাবশেষে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। সূত্র: ডন, জিও নিউজ