কানাডার প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রধান জাস্টিন ট্রুডো পদত্যাগের পর রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে। এই পরিস্থিতিতে কে দেশ ও দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন? তিনি আদৌ অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শক্তিশালী বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবেন কি না?- এসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে। এ আলোচনায় যোগ দিয়েছে বার্তাসংস্থা নিউ ইয়র্ক টাইমস। ট্রুডোর সম্ভাব্য উত্তরসূরী নিয়েই এই বিশেষ প্রতিবেদন।
ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড
কানাডার সাবেক ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে এই দৌড়ে এগিয়ে রাখছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের বাণিজ্য চুক্তি ‘নাফটা’ পুর্নউত্থাপনে অবদান রাখেন তিনি।
সম্প্রতি ট্রুডোর সঙ্গে বিরোধের জেরে পদত্যাগ করেন ফ্রিল্যান্ড। তাকে মন্ত্রণালয় ছাড়া মন্ত্রীত্ব দিতে চাইলে অটোয়া প্রশাসনের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন তিনি।
লিবারেল পার্টি ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ সমীহের পাত্র এই নারী।
ডমিনিক লেব্ল্যাংক
ট্রুডোর দীর্ঘদিনের সঙ্গী লেব্ল্যাংকও প্রধানমন্ত্রীত্বের শক্ত দাবিদার। বর্তমানে তিনি দেশটির অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রুডো প্রশাসনের জটিল দায়িত্ব সক্ষমতার সঙ্গে পালন করার ক্ষেত্রে তার সুখ্যাতি রয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে লিবারেল পার্টি প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি ট্রুডোর জন্য পথ ছেড়ে দেন।
মেলানি জোলি
২০২১ সালের পর থেকে কানাডার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মেলানী জোলি প্রধানমন্ত্রীত্বের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। বাস্তববাদী ও কার্যকর পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের কারণে অটোয়া প্রশাসনে মেলানীর সম্মানজনক অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির মতো উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভারত ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সফলভাবে মোকাবিলা করায় ট্রুডোর সম্ভাব্য উত্তরসূরীর তালিকায় তিনি জায়গা করে নিয়েছেন।
মার্ক কার্নি
কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মার্ক কার্নিও হতে পারেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। স্ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের পুরোনো বন্ধু মার্ক নেতৃত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে লিবারেল পার্টির এমপিদের সঙ্গে পরামর্শ চেয়েছেন কয়েক দফা।
জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সমর্থনকারী মার্ক এই লড়াইকে আরও অন্তর্ভূক্তিমূলক করে তুলেছেন।
পার্লামেন্টের লিবারেল পার্টির সদস্যদের ভোটে এই তালিকারই একজন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। এই ফলাফলের ওপরই কানাডা ও লিবারেল পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ভর করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শীঘ্রই একটি ফলাফলের জন্য উদ্গ্রীব অটোয়া। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
নাইমুর/