মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের এনজামেনা শহরে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাসভবনে বন্দুকযুদ্ধে ১৯ জন মারা গেছেন।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে এই ঘটনায় আক্রমণকারীদের ১৮ জন ও নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য প্রাণ হারান। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্সে গুলিবর্ষণ শুরু হলে আশেপাশের রাস্তায় সামরিক ট্যাংক ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অবস্থান নেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা বন্দুকের আওয়াজে আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর আশেপাশের রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, আক্রমণকারীরা সশস্ত্র সংগঠন বোকো হারামের সদস্য।
চাদ সরকারের মুখপাত্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেরামান মৌলামাল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই ঘটনায় মোট ১৯ জন মারা গেছেন। এর
মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যও রয়েছেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সন্ত্রাসীদের অপতৎরতা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।’
চাদে ২০২১ সাল থেকে সামরিক শাসন জারি রয়েছে। এদিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের লেক চাদ এলাকায় বোকো হারাম বেশ তৎপর।
সম্প্রতি ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল করায় মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের মতো চাদ থেকেও ফরাসি সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনার দুই সপ্তাহ আগেই বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দেশটিতে। এই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ করেন বিরোধীদলের নেতারা।
এদিকে উত্তরাধীকারসূত্রে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন মাহমাত ইদ্রিস বেদি ইতনো সামরিক বাহিনী পুনর্গঠনের পাশাপাশি রাশিয়া ও হাঙ্গেরির সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের ক্ষমতাকাঠামো পরিবর্তন করতে চান।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং উই কূটনৈতিক উদ্দেশ্যে চাদে অবস্থান করছেন।
দেশটির রাজনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা বিশ্বব্যাপী চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪
নাইমুর/