গেরিলা আক্রমন মোকাবিলায় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।
সোমবারের (২০ জানুয়ারি) এই ঘোষণা দেশের ‘অভ্যন্তরীণ নৈরাজ্য’ ঠেকাতে নেওয়া ‘সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বিদ্রোহীদের অপতৎপরতায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ঘরছাড়া হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দা।
নির্বাহী ক্ষমতাবলে আগামী তিনমাস কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র ছাড়াই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা দিয়েছেন গুস্তাভো।
দেশটির কাতাতুম্বু অঞ্চলের গুয়াভেরের জঙ্গলে মাদক চোরাচালানের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিপক্ষ দলের দ্বন্দ্বের জেরে সৃষ্ট সহিংসতা বেড়ে চলেছে।
এই সহিংসতার নেপথ্যে আছে বামপন্থি সশস্ত্র সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)।
প্রতিপক্ষ দলের সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের উদ্দেশ্য করে বেশ কয়েকদফা আক্রমণ চালিয়েছে ইএলএন।
ইএলএনের ভয়ে অনেকেই প্রতিবেশী দেশ ভেনিজুয়েলায় আশ্রয় নিয়েছেন , জানিয়েছে জাতিসংঘের।
শুধু গুয়াভেরে এলাকায়ই আরেক নিষিদ্ধ গেরিলা সংগঠন রেভ্যুলেশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) হামলায় ২০ জন প্রাণ হারিয়ছেন।
বিশ্বব্যাপী মাদক সরবরাহে কলম্বিয়ার সমকক্ষ কোনো দেশ নেই। ব্যাপক লাভজনক এই বাণিজ্যের আধিপত্য কায়েম করতে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী সংগঠন।
প্রশাসনের তৎপরতায় একটি সংগঠন শান্তিআলোচনায় সম্মত হলেও কার্যকর অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদ দমনে ২০২২ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো শান্তি প্রতিষ্ঠায় কঠোর নীতি ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইএনল যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে। তাদেরকে সশস্ত্র জবাবই দেওয়া হবে।’
মাদক চোরাচালানকে কেন্দ্র করে কলম্বিয়ায় প্রায় ছয় দশক যাবত সহংসিতা চলমান। বিভিন্ন সংঘর্ষে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বসতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কয়েক লাখ বাসিন্দা। সূত্র: ডয়েচে ভেলে
নাইমুর/