যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। দীর্ঘসময় ধরে ফোনালাপের পর, এবার দুই রাষ্ট্রনেতা সরাসরি বসার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানসহ বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে আলোচনা করার আশা করা হচ্ছে, যা তিন বছর ধরে চলা মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ স্থানীয় সময় শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)।
পুতিন ও ট্রাম্পের এই বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে বিষয়টি তেমন নয় বরং এতে ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করে হচ্ছে বলে জানায় সের্গেই রিয়াবকভ।
গত দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতগণ বৈঠকের বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে সাক্ষাৎ করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সরাসরি পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কথা উত্থাপন করেন এবং দুই পক্ষ দীর্ঘ ফোনালাপের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
ওভাল অফিসের সম্মেলনের পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ‘আমি ও রুশ প্রেসিডেন্ট একমত হয়েছি। আমাদের কূটনৈতিক দল অবিলম্বে আলোচনা শুরু করবে এবং একে অপরকে নিজেদের রাজধানীতে আমন্ত্রণ জানাবে।’
সৌদি আরবে গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিরিয়াহ প্রাসাদে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বসেন। তবে এই বৈঠকে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ না জানানোতে কিয়েভের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সুস্পষ্ট করে জানান, ইউক্রেনকে ব্যতীত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ মেনে নেওয়া হবে না।
এ ছাড়াও আলোচনায় ইউরোপকে অন্তর্ভুক্ত না করায় ইউরোপীয় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা শান্তি চুক্তির আলোচনায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: এপি
তাওফিক/