ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিকে আবারও ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে জানিয়েছেন, যে বা যারা হুতিদের সহায়তা করবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হুতিদের কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিক ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অংশীদারদের সুরক্ষাকেও বিপন্ন করছে। এ ছাড়া এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৈধ আন্তর্জাতিক ব্যবসার নামে সন্ত্রাসী সংগঠন হুতিদের সঙ্গে কোনো দেশের লেনদেন মেনে নেবে না যুক্তরাষ্ট্র।’
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই হুতিদের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন এবং তার প্রথম মেয়াদে এই গোষ্ঠীকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ও ‘বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে মনোনীত সন্ত্রাসী সংগঠন (এসডিজিটি)’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
তবে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের সিদ্ধান্তটি বাতিল করেন। তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন জানিয়েছিলেন, ইয়েমেনের ‘মারাত্মক মানবিক সংকটের’ কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
হোয়াইট হাউস গত জানুয়ারিতে এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, বাইডেন প্রশাসনের দুর্বল নীতির কারণে হুতিরা মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। তাদের হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও অংশীদার দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামোতে ১০০ বার হামলা হয়েছে।
মূলত গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতিরা হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই হামলাগুলো চালিয়েছে।
হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছে, লোহিত সাগরে হুতিদের কার্যক্রম বন্ধ করতে তারা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে হুতিদের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সূত্র: আল-জাজিরা
দিনা/তাওফিক/