মাত্র ২২ বছর বয়সে মৃত্যবরণ করেছেন লুক্সেমবার্গের প্রিন্স রবার্ট ও প্রিন্সেস জুলির ছোট ছেলে প্রিন্স ফ্রেডেরিক। তিনি পোলগ (পিওএলজি) নামে এক ধরণের বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
গত ১ মার্চ প্যারিসে তার মৃত্য হয়। এর পর গত ৭ মার্চ এক বিবৃতিতে ছেলের মৃত্যুর খবরটি জানান প্রিন্স রবার্ট। বিবৃতিটি ‘পোলগ ফাউন্ডেশন’-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
প্রয়াত রাজপুত্র ফ্রেডেরিকই এই ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এখানে তিনি গত তিন বছরে চারটি বড় গবেষণা প্রকল্পে ৩৬ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে।
এ ছাড়াও তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘প্রোজেক্ট বাটারফ্লাই’ চালু করেছেন। এর মাধ্যমে মূলত পোলগ রোগীদের পোস্টমর্টেম টিস্যুর উপর গবেষণা করা হচ্ছে।
এই ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট অনুসারে, POLG এমন একটি জেনেটিক মাইটোকন্ড্রিয়াল ব্যাধি যা শরীরের কোষগুলোর শক্তি কেড়ে নেয়। যার ফলে আস্তে আস্তে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যায়। যা পোলগ জিনের মিউটেশনের কারণে হয়ে থাকে। এটি কোষের ডিএনএ পুনরুৎপাদন ও মেরামতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রোগটি মস্তিষ্ক, স্নায়ু, পেশি ও লিভারসহ একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পোলগ ফাউন্ডেশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য প্রফেসর ডগ টার্নবুল বলেছেন, ‘পোলগ রোগ হলো মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর। এটি ধীরে ধীরে পুরো শরীরের বিভিন্ন সিস্টেমকে অকেজো করে ফেলে এবং শেষ পরিণতি একেবারেই অনিবার্য।’
এই রোগের কারণে দৃষ্টি, চলাচল ও বাকশক্তি হারিয়ে যেতে পারে এবং এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। রোগটির গড় আয়ুষ্কাল তিন মাস থেকে ১২ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।
সোমবার (১১ মার্চ) টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরল এই রোগটি নিজের শরীরে বাসা বাঁধার জন্য কৃতজ্ঞ ছিলেন প্রিন্স ফ্রেডেরিক। কারণ এতে তিনি অনেক অসাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
একবার তিনি এক বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘আমি জানি, এই রোগের কারণে আমি মারা যাব। হয়তো আমার বাবা-মা আমাকে বাঁচাতে পারবেন না। কিন্তু তারা ভবিষ্যতে অন্য শিশুদের জীবন বাঁচাতে পারবেন।’
টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ফ্রেডেরিক শুধু ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাই করেননি। নিজের ডিএনএ দান করে গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন, যেন বিজ্ঞানীরা প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল তৈরি করতে পারেন।
মৃত্যুর আগের দিন ফ্রেডেরিক তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘পাপা, তুমি কি আমাকে নিয়ে গর্বিত?’
প্রিন্স রবার্ট বলেন, ‘ফ্রেডেরিক তখন প্রায় কথা বলতে পারছিল না। তাই তার এই প্রশ্ন আমাকে হতবাক করে দিয়েছে। তার কাছে এটা নিশ্চিত হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, তার ছোট্ট জীবনে সে কতটা অবদান রাখতে পেরেছে।’
ছেলের প্রশ্নে রবার্ট জবাব দিয়েছিলেন- আমরা সবাই তোমার জন্য গর্বিত, ফ্রেডেরিক। সূত্র: সিএনএন
দিনা/অমিয়/