ইউক্রেনের সম্মতির পর এখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে রাশিয়ার কোর্টে বল পাঠাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ‘এখন রাশিয়ার ওপর নির্ভর করছে’। এই চুক্তিতে রাজি না হলে রাশিয়ার ওপর ‘কঠিন’ অর্থনৈতিক শাস্তি আরোপের হুমকি দিয়েছেন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সৌদি আরবের জেদ্দায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।
তবে এখন যুদ্ধবিরতি হবে কি না, সেটা পুরোটাই নির্ভর করছে রাশিয়ার ওপর।
যুদ্ধবিরতিতে ইউক্রেনের রাজি হওয়ার পর আজ বুধবার (১৩ মার্চ) মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মধ্যস্ততাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার পর তারা সিদ্ধান্ত জানাবে।
তবে রাশিয়ার একাধিক সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এতে রাজি হবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বুধবার হোয়াইট হাউসে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এখন যুদ্ধবিরতি রাশিয়ার ওপর নির্ভর করছে, তবে উভয়পক্ষের সঙ্গেই আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা বিষয়টি দেখব। খুব শিগগিরই মার্কিন প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য রাশিয়ায় যাচ্ছেন। আশাকরি, আমরা রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিরতির সম্মতি আদায় করতে পারব। এবং যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলে আমি মনে করি এই ভয়াবহ রক্তপাতের অবসান ঘটানোর জন্য ৮০ শতাংশ পথ পাড়ি দেওয়া হবে।’
তবে এর অন্যথা হলে আগাম হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে রাশিয়ার ওপর ‘কঠিন’ অর্থনৈতিক শাস্তি আরোপ করা হবে।,
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন কিছু করতে পারি যা আর্থিকভাবে রাশিয়ার জন্য খুবই খারাপ হবে। তবে আমি তা করতে চাই না, কারণ আমি সবসময় শান্তির পক্ষের।’
এর আগে গত মঙ্গলবার সৌদি আরবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার পর ইউক্রেন ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। এটাকে ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সূত্র: রয়টার্স
দিনা/অমিয়/