একদিকে অবরুদ্ধ গাজায় শুরু হয়েছে হামাসবিরোধী বিক্ষোভ আরেকদিকে আইডিএফের হামলায় নিহত হচ্ছেন গোষ্ঠীটির একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ নেতা । এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে ,তবে কি এবার ইসরাইল-ফিলিস্তিনের এই যুদ্ধে হামাস পরাজিত হতে বসেছে?
এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ)ভোরে আইডিএফের হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠটির মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া নিহত হন। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলে জাবালিয়ায় তার তাঁবুতে হামলা চালালে তিনি প্রাণ হারান।
এই সপ্তাহের শুরু্তেই ইসরায়েল হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইসমাইল বারহুম এবং আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহ আল-বারহুমকে হত্যা করে। বারহুম এবং সালাহ আল-বারহুম দুইজনই ২০ সদস্যের হামাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শীর্ষ সংস্থা 'রাজনৈতিক কার্যালয়ের' সদস্য ছিলেন।
হামাসের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংস্থার ১১ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) এই তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-বালাদে নিজের তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া নিহত হন বলে জানান আল জাজিরা মুবাশ্বেরের সংবাদদাতা।
অন্যদিকে কুদস নিউজ নেটওয়ার্কও হামাসের এই মুখপাত্রের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা মাটিতে আবৃত অবস্থায় আল-কানৌয়ার লাশের একটি ছবিও প্রকাশ করে।
পৃথক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া নিহত হন। ইসরায়েল গাজাইয় আবার অভিযান শুরু করার পর থেকে হামাসের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই প্রাণ হারান।
একই হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে গাজা সিটিতে পৃথক হামলায় কমপক্ষে ছয়জন এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একজন নিহত হন বলে মেডিকেল সূত্র জানায়।
গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৩০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১৮০০ জন আহত হন। ইসরায়েল বর্বর এই হামলার ভেতর দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দেয়।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয় ইসরায়েল।সূত্র: আল-জাজিরা এবং রয়টার্স
দিনা/