জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা অঙ্গসংস্থা দ্য অফিস ফর কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওচা) ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ইরিত্রিয়া, ইরাক, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক- এই আট দেশে কার্যক্রম বন্ধ বা একেবারেই সীমিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
ইতোমধ্যে ওচা’র কর্মীদের চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটির কার্যালয়।
ওচা’র ওয়েবসাইটে চিঠিটি আপলোডও করা হয়েছে। তহবিল না থাকায় সংস্থাটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়।
বর্তমানে বিশ্বের ৬০টি দেশে ওচার শাখা কার্যালয়ে কর্মরত আছেন প্রায় দুই হাজার ৬০০ কর্মী। তাদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জনকে ছাঁটাই করা হবে বলে উল্লেখ করা হয় এই চিঠিতে।
এই কার্যালয়ের কর্মকর্তা টম ফ্লেচার বলেন, আমরা গত কিছুদিন ধরে তহবিলের অভাব, অতিরিক্ত চাপ এবং আক্রমণের মুখে ছিলাম। এখন আমরা নিরুপায় হয়ে এই নিষ্ঠুর কাটছাঁটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা মূলত চলে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বার্ষিক চাঁদা এবং বিভিন্ন ধনী দাতা দেশের সহায়তায়। যুক্তরাষ্ট্র বরাবর জাতিসংঘের বৃহত্তম দাতা দেশ। জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশি সহায়তা আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
গত ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পর এক নির্বাহী আদেশে জাতিসংঘের জন্য বরাদ্দ অনুদানসহ সব ধরনের বিদেশি সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। সেই সঙ্গে আইন মেনেই এ পর্যন্ত যেসব খাতে ওয়াশিংটন সহায়তা প্রদান করছিল সেসব সহায়তার রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে।
ওচা’র কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না আসায়ে বিগত অন্যান্য বছরে তুলনায় বর্তমানে ছয় কোটি ডলার ঘাটতিতে রয়েছে সংস্থাটির তহবিলে। এই পরিস্থিতে বাজেট কাটছাঁট করতে হচ্ছে ওচা-কে এবং তার অংশ হিসেবেই এই ৫০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওচা’র এ সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবিক ও আইনি সহায়তা সংস্থা। ইরাকভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আল আমাল অ্যাসোসিয়েশন সিএনএনকে এর প্রতিক্রিয়ায় জানায়, 'ইরাকে যদি ওচা তাদের কার্যক্রম সত্যিই বন্ধ করে দেয়, তাহলে দেশের নারীদের অধিকার আদায়ের তৎপরতায় তার গুরুতর প্রভাব পড়বে।' সূত্র : সিএনএন
সুলতানা দিনা/অমিয়/