ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মোরাগ করিডোর নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। এই করিডোরটি রাফাহ শহরকে গাজার বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এছাড়া ‘ইসরায়েলি নিরাপত্তা অঞ্চলে’ পরিণত করতে গাজার মাঝ বরাবর বিভক্ত করা এই নেতসারিম করিডোরকে আরও সম্প্রসারিত করার ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ ।
এরপর তারা গাজার দক্ষিণ অংশে জোরালো হামলা শুরু করেছে।
শনিবার (১২ এপ্রিল) ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসের একাধিক এলাকা থেকে নতুন করে সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করে। এই এলাকাগুলো থেকে হামাস ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছে বলে তারা অভিযোগ করে। তাই এর জবাবে ‘প্রচণ্ড শক্তি সহকারে’ হামলা চালানো হবে।
রবিবার ( ১৩ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এসব খবর জানায়।
এছাড়া কিজান আন-নাজ্জার, কিজান আবু রাশওয়ান, আল-সালাম, আল-মানারা, আল-কুরাইন, মা'ইন, আল-বাতন আল-সামিন, জুরত আল-লুত, আল-ফাখারি এবং বানী সুহেইলার দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলো ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। এখানকার বাসিন্দাদের গাজার উপকূলীয় এলাকা আল-মাওয়াসি তে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘোষণার মধ্যেই খান ইউনিসে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত দুইজন নিহত হন।
হামাস এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য দায়ী করেছে। তাদের মতে,‘সমীকরণ খুব স্পষ্ট: যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে বন্দিমুক্তি। বিশ্ব এটা মেনে নিচ্ছে, কিন্তু নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করছেন।’
হামাস আরও বলছে, গাজার শিশুদের রক্ত এবং দখলদারদের বন্দিরা হচ্ছে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার বাসনা এবং বিচার এড়ানোর চেষ্টার বলি।
বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ ফিলিস্তিনি গাজার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় ঠাসাঠাসি করে থাকছেন। গত মাসে ইসরায়েল আবার অবরোধ জারি করার পর থেকে গাজায় কোনও ত্রাণ, খাবার, রান্নার গ্যাস বা জ্বালানি প্রবেশ করতে পারেনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে অতর্কিতে হামলা চালালে সেদিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, যা এখনো চলছে। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারান। সুত্র: আল জাজিরা
সুলতানা দিনা