যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি খসড়া আদেশ ফাঁস হয়েছে। এতে পররাষ্ট্র দপ্তরের বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই আদেশে আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলের দূতাবাসসহ জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, শরণার্থী, গণতন্ত্র ও লিঙ্গ সমতাবিষয়ক দপ্তরগুলো বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
এই আদেশ কার্যকর হলে এটি ১৭৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর পররাষ্ট্র দপ্তরের সবচেয়ে বড় রদবদল হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই খবরটি একটি ‘ভুয়া’ নথির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সামাজিক মাধ্যম এক্সে এটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে দাবি করেছেন।
খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, চারটি আঞ্চলিক ব্যুরো (ইন্দো-প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশিয়া) গঠন করা হবে এবং আফ্রিকার বেশ কিছু দূতাবাস ও কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরো, জলবায়ু দূত, আফ্রিকাবিষয়ক ব্যুরো এবং বৈশ্বিক নারী ইস্যুবিষয়ক অফিসও বাতিল করা হবে।
কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য আলাদা কোনো দূতাবাস থাকবে না, বরং সংকুচিত একটি দল তা পরিচালনা করবে। পাশাপাশি ফুলব্রাইট স্কলারশিপ শুধু নিরাপত্তা বিষয়ে মাস্টার্স পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য দেওয়া হবে এবং ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই আদেশ অনুযায়ী, সব কূটনীতিককে এক অঞ্চলেই সারা জীবনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে এবং পররাষ্ট্র দপ্তরে নিয়োগ পেতে হলে প্রেসিডেন্টের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। বহুল আলোচিত ফরেন সার্ভিস পরীক্ষাও বাতিল করা হবে।
তবে অনেকে মনে করছেন, এই নথি হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁস করা হয়েছে, যেন পরে অপেক্ষাকৃত কম প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে জনগণকে সন্তুষ্ট রাখা যায়। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান