ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেট্রি অর্পো-এর নেতৃত্বাধীন সরকার সম্প্রতি কর সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং দেশের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সাহসী পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়। সরকারের মতে, কর হ্রাসের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা মনোভাবকে উৎসাহিত করা হবে। তবে সিদ্ধান্তগুলোর ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, তেমনি তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও রয়েছে।
সরকার ২০২৬–২০২৭ সালের মধ্যে আয়করের বোঝা প্রায় এক বিলিয়ন ইউরো কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে চাকরিজীবীরা কর পরিশোধের পর আগের তুলনায় বেশি অর্থ হাতে পাবেন।
একইসঙ্গে খাদ্যের ওপর বিদ্যমান ১৪ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমিয়ে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে। যদিও এই পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সামান্য, তবুও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার কর ব্যবস্থার কিছু পুরনো সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে ব্যক্তিগত খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো- বাসা থেকে কাজ করার জন্য কর্মক্ষেত্র খরচের ছাড় বাতিল, পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদের ফি কর থেকে ছাড় বাতিল ও কর্মস্থলের বাইসাইকেল সুবিধা তুলে নেওয়া হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে ২০২৭ সাল থেকে কোম্পানির কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে।
সরকারের ধারণা, এই পদক্ষেপের ফলে নতুন উদ্যোগ এবং বিনিয়োগ বাড়বে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিরোধী দলগুলো সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা অ্যান্তি লিন্ডম্যান বলেছেন, কর হ্রাস মূলত উচ্চ আয়ের মানুষদের বেশি উপকারে আসবে, অথচ মধ্যবিত্তদের জন্য উপকার তুলনামূলকভাবে সামান্য হবে।
এছাড়া শিক্ষা এবং সামাজিক সেবাখাতে বাজেট কমানোর সিদ্ধান্তকেও ভবিষ্যতের বিনিয়োগে আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন বিরোধী নেতারা।
গ্রিন লীগের সংসদ সদস্যরাও সরকারের প্রবৃদ্ধি নীতির বাস্তব ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ফিনল্যান্ড সরকারের সাম্প্রতিক কর সিদ্ধান্তগুলো দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে, এর দীর্ঘমেয়াদী বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে সিদ্ধান্তগুলোর দক্ষ বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রতিফলনের ওপর। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনগুলো ফিনিশ সমাজের কাঠামো ও অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।
অমিয়/