ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
১৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ১৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারে উত্থান চমৎকার জয়ফুল মথ টাকা সাদা করার সুবিধা আছে, না নেই! সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও ট্রিলিয়নিয়ার হলেও ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ ফুটের ছোট্ট বাড়িতে সোনালি দিনের খোঁজে স্পেন একসময়ের দাতা এখন গ্রহীতা নীল হাঙরের নাবিক রায়ান মেন্দেস লা রোজার সামনে রূপকথার নায়ক! ১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পেছনে যুদ্ধ, সামনে বিশ্বকাপ মরুর সাহস, উরুগুয়ের ইতিহাস দুর্দান্ত বেলজিয়ামের সামনে সালাহর মিসর নেদারল্যান্ডসকে জিততে দিল না জাপান প্রথম ম্যাচে যে রেকর্ড ডাকছে মেসিকে কুরাসাওয়ের কোচের বিশ্বরেকর্ড প্রত্যাবর্তন জয়ে রাঙাতে চায় সুইডেন গোলশূন্য থেকে বিরতিতে জাপান-নেদারল্যান্ডস কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির
Nagad desktop

ভারত এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করল?

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৫, ০৩:২৫ পিএম
আপডেট: ১২ মে ২০২৫, ০৫:১৫ পিএম
ভারত এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করল?
প্রতীকী ছবি

পাহালগামে জঙ্গি হামলার জেরে গত ৭ মে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে বড় হামলা চালায় ভারত। যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’ ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়াই ছিল এ সার্জিকাল স্ট্রাইকের মূল উদ্দেশ্য। 

ভারত দাবি করেছে, এই অভিযান সম্পূর্ণ সফল। কেননা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে এই সার্জিকাল স্ট্রাইক।

আসুন বিস্তারিত জেনে নিই কীভাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ ভারতের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে উঠেছে এবং এর মাধ্যমে ভারত কী কী অর্জন করতে পেরেছে।

১) ৯টি জঙ্গি ক্যাম্প ধ্বংস
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এই অভিযানে লস্কর-ই-তাইয়েবা, জৈশ-ই-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের ৯টি বড় জঙ্গি ঘাঁটি নির্মূল করেছে। এই ঘাঁটিগুলো থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা করা এবং জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। নির্ভুল হামলার মাধ্যমে এই ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে, যা জঙ্গিদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

২) পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে শক্তিশালী হামলা চালিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন
অপারেশন সিঁদুর দুই দেশের যুদ্ধের সব পুরনো নিয়ম ভেঙে দিয়েছে। ভারত পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশসহ শত শত কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। বাহাওয়ালপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি আস্তানাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও হামলা করতে দ্বিধা করেছিল। 

৩) পাকিস্তানের জন্য নতুন লাল রেখা
অপারেশন সিঁদুর দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন লাল রেখা টেনেছে। তারা এই হামলা দিয়ে পরিষ্কারভাবে জানান দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদের দৃশ্যমান ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিণতি হবে। এটি কেবল প্রতিশোধ নয়, বরং একটি প্রতিরোধ নীতির প্রয়োগ। পাকিস্তানকে এখন বুঝতে হবে যে সন্ত্রাসবাদ আর সহ্য করা হবে না।

৪) যৌথ-সেনার সমন্বয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন
ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সমন্বিতভাবে হামলা চালিয়েছে – যা ভারতের ক্রমবর্ধমান যৌথ যুদ্ধক্ষমতার প্রমাণ।

৫) সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নতুন সংজ্ঞা প্রদান
প্রথমবারের মতো ভারত স্পষ্টভাবে জঙ্গি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে পার্থক্য না করে উভয়ের বিরুদ্ধেই একই পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি তাদের দীর্ঘদিনের সেই ধারণাকেও বাতিল করে দেয় যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্রের ছত্রছায়ায় চাইলেই প্রভাবশালী দুষ্কৃতকারীরা অনায়াসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে পারে।

৬) পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষার দুর্বলতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া
ভারতীয় বাহিনীর সফল এয়ার স্ট্রাইক পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক প্রকার হতচকিত করে দেয়। ভারতের মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যে পরিচালিত দ্রুত ও নিখুঁত হামলা পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ করে।

এ ছাড়া ভারত দাবি করছে, ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মিশন সম্পন্ন করে, যা প্রযুক্তিগত এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে।

৭) ভারতের বিমান প্রতিরক্ষার সক্ষমতা এবং পেশাদারত্ব  প্রদর্শন
ভারত আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষার রূপান্তরিত রূপ তুলে ধরেছে। নিজস্ব আকাশসীমা সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। ভারত সফলভাবে পাকিস্তানের ব্যবহৃত চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত শত পাকিস্তানি ড্রোন ও মিসাইল ভূপাতিত করে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এখন এটি  রপ্তানিযোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে।

৮) উত্তেজনা ছাড়াই সুনির্দিষ্ট এবং সংগঠিত হামলা
জঙ্গি অবকাঠামো ছাড়া প্রাথমিকভাবে কোনো সামরিক বা বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বড় মাত্রায় উত্তেজনা সৃষ্টি না করেই ভারত তার শূন্য-সহিষ্ণুতা নীতি অনুসরণ করে এসব হামলা চালিয়েছে। এ সময় ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড একাধিক জঙ্গি নিহত হয়।

৯) বিশ্বকে পাঠানো বার্তা
ভারত বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, জনগণকে রক্ষা করতে অনুমতির অপেক্ষা করা হবে না। সন্ত্রাসকে শাস্তি দেওয়া হবে – যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ ও তাদের পরিকল্পনাকারীদের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।

যদি পাকিস্তান প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ভারত কেবল তা প্রতিহত করতেই সক্ষম নয়, প্রয়োজনে জবাবি হামলায় আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোর ক্ষতি:
গত ৯ ও ১০ মে রাতের অভিযানে ভারত এমন দেশ হয়ে উঠেছে, যারা একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কয়েটি বিমান ঘাঁটির ক্ষতি সাধন করেছে। তিন ঘণ্টার মধ্যে ১১টি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে – যার মধ্যে রয়েছে নুর খান, রফিকি, মুরিদ, সুক্কুর, শিয়ালকোট, পাসরুর, চুনিয়ান, সারগোধা, স্কারু, ভোলারি এবং জ্যাকবাবাদ।

হামলায় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ২০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ভারতের হামলায় ভোলারি ঘাঁটিতে পাকিস্তানের স্কোয়াড্রন লিডার উসমান ইউসুফ ও চারজন বিমানসেনাসহ ৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী সমর্থন:
আগে যখনই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু সংঘাতমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতো, অধিকাংশ দেশ ভারতকে সংযমের আহ্বান জানাত। কিন্তু এবার, বহু বিশ্বনেতা ভারতের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। সূত্র: আল-জাজিরা এবং এনডিটিভি

সুলতানা দিনা/

চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের
ছবি: সংগৃহীত

চীনা নাগরিকদের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে তাইওয়ান। গতকাল রবিবার চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চীনের ভেতর ও বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তাইপে। তাইওয়ানের দাবি, চীনের অর্থনৈতিক সংকট, কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক অসন্তোষের কারণে দেশটির ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং তথ্য দিতে আগ্রহী হচ্ছেন।

তাইওয়ানের সরকার বলেছে, চীনা নাগরিকদের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতেই এই ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এটি এমন একটি নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যম, যার মাধ্যমে চীনের বর্তমান ব্যবস্থায় অসন্তুষ্ট ব্যক্তিরা গোপনে তথ্য সরবরাহ করতে পারবেন। 

তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই গোয়েন্দা তৎপরতা চলে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা গুপ্তচরবৃত্তির মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তাইওয়ান।

তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরো (এনএসবি) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে। এর সঙ্গে সামাজিক ও জীবিকাসংক্রান্ত নানা সমস্যাও বেড়েছে, যা জন-অসন্তোষকে উসকে দিয়েছে। এসব পরিস্থিতির কারণে ক্রমেই বেশিসংখ্যক চীনা নাগরিক তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

নতুন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে একটি এক মিনিটের প্রচারমূলক ভিডিও দেখা যায়, যা এনএসবির দাবি অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। ভিডিওতে এক চীনা সরকারি কর্মকর্তাকে দেখানো হয়, যিনি তার সহকর্মীদের তদন্তের মুখে পড়ে একে একে চাকরিচ্যুত হতে দেখছেন।

ভিডিওতে ওই কর্মকর্তা উত্তর চীনের উচ্চারণে বলেন, ‘আহ, আবারও একজনকে নিয়ে যাওয়া হলো।’ পরে বর্ণনাকারী বলেন, ‘পুরোনো সহকর্মীরা একে একে রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওর শেষাংশে ওই কর্মকর্তাকে একটি মোবাইল ফোন কিনে ওয়েবসাইটে তথ্য পাঠাতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘এখনই পরিবর্তনের সময়।’

চীনের ভেতরে ওয়েবসাইটটি ব্লক করা হয়েছে। তবে অনেক চীনা নাগরিক ভিপিএন ব্যবহার করে পশ্চিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনের মতো নিষিদ্ধ সাইটে প্রবেশ করেন। তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরো দেশ-বিদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের সাহসিকতার সঙ্গে তথ্য দেওয়ার এবং পরিবর্তনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনুরূপ উদ্যোগ অনুসরণ করেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে চীনা নাগরিকরা গোয়েন্দাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতে পারবেন, যা তাইওয়ানের গোয়েন্দা তথ্যের উৎসকে আরও বৈচিত্র্যময় করবে।

অন্যদিকে চীনও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪ সালে বেইজিং একটি ই-মেইল চালু করে, যেখানে তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তাইওয়ান সরকার বরাবরই বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের অবস্থান, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল তাইওয়ানের জনগণেরই রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন
চলতি বছরের ৯ মে মস্কোর রেড স্কয়ারে রুশ সেনাদের বিজয় দিবসের সামরিক মহড়া

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের বিশাল জনসংখ্যা ও সেনাবহর। তবে যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে পুতিনের সেই মূল শক্তিতে এখন টান পড়েছে। আর্থিক প্রণোদনা দিয়েও এখন আর আগের মতো তরুণদের সেনাবাহিনীতে টানতে পারছে না। একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রেকর্ডসংখ্যক সেনা নিহত, অন্যদিকে দেশের ভেতরে দেখা দিয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শ্রমিকসংকট।

পশ্চিমা গোয়েন্দা ও অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্রেমলিন এখন এক চরম উভয়সংকটের মুখোমুখি। তাদের হয় যুদ্ধের লক্ষ্য সীমিত করতে হবে, না হয় দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে ফেলতে হবে।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এখন নতুন সেনা টানতে অবিশ্বাস্য সব অফার দিচ্ছে। কোনো তরুণ চুক্তিবদ্ধ হলে তাকে এককালীন ৮০ হাজার ডলার বোনাস দেওয়া হচ্ছে, যা রাশিয়ার একজন সাধারণ মানুষের গড় বার্ষিক বেতনের চার গুণের বেশি। আবার কারও মাথায় যদি ঋণের বোঝা থাকে, তবে তার ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঋণ মওকুফের ঘোষণাও দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার পাশে বড় বড় বিলবোর্ড থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে এখন শুধুই বীর হওয়া বা দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার লোভনীয় বিজ্ঞাপনের দেখা মিলছে।

এসব উদ্যোগের পরও সেনা নিয়োগ কমছে। রুশ অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ জানিস ক্লুগের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের প্রথম তিন মাসে সেনা নিয়োগ গত বছরের (২০২৫) একই সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশ কমেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক নাইজেল গুল্ড-ডেভিস বলেন, শুধু অর্থ দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না। রাশিয়ার ইতিহাসে এবারই প্রথম সরকার নাগরিকদের অর্থ দিয়ে যুদ্ধে পাঠানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই বিপুল অর্থের লোভ এখন আর তরুণদের টানতে পারছে না। রাশিয়া এখন প্রতি মাসে যত সেনা হারাচ্ছে, সেই তুলনায় নতুন সেনা নিয়োগ করতে পারছে না।

রাশিয়া এরই মধ্যে হাজার হাজার সাবেক বন্দিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সহায়তাও নিয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসীদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করছে। সম্প্রতি নতুন এক কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে বড় অঙ্কের ঋণ মওকুফের সুবিধাও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে কর্মক্ষম বিপুলসংখ্যক পুরুষ সেনাবাহিনীতে চলে যাওয়ায় রাশিয়াজুড়ে শ্রমিকসংকট তৈরি হয়েছে। গুল্ড-ডেভিস বলেন, শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য নয়, সাধারণ চাকরির ক্ষেত্রেও কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় শ্রমসংকট। 

পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় পাঁচ লাখ রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়াতে কয়েক লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছেন। এতে শ্রমিকসংকট আরও বেড়েছে এবং মজুরি ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

গুল্ড-ডেভিস আরও বলেন, নতুন কারখানা বা অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব। কিন্তু জনশক্তি বাড়ানো সহজ নয়। কারণ রাষ্ট্র চাইলেই জন্মহার বাড়াতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে ভারত, উত্তর কোরিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আরও শ্রমিক আনার চেষ্টা করতে পারে ক্রেমলিন।

এর চেয়েও বড় ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ হতে পারে দ্বিতীয়বারের মতো জোরপূর্বক সেনা সমাবেশ করা এবং পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। তবে পুতিন এটি এড়াতে চান, কারণ প্রথমবার এমন উদ্যোগ নেওয়ায় দেশের মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল এবং বহু মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক মারিয়া স্নেগোভায়া মনে করেন, রাশিয়া এখনো কিছুটা সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। তবে অর্থনৈতিক চাপ দ্রুত বাড়ছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি এখন স্থবির হয়ে পড়ছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে এবং ভোক্তাদের আস্থা কমছে। মজুরি কিছুটা বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি।

অন্য দিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রাশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) বিশ্লেষক ক্যাটেরিনা স্টেপানেনকো বলেন, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইউক্রেন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, তার বাহিনী প্রথমবারের মতো শুধু ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করে একটি রুশ অবস্থান দখল করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ইউক্রেন তাদের রোবোটিক সিস্টেম বা মানববিহীন স্থল যান(UGV) ব্যবহার করে ২২ হাজারের বেশি স্থল অভিযান চালিয়েছে বলেও তিনি জানান।

ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ইউক্রেন প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে। একই সময়ে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার রুশ সেনা হতাহত হচ্ছেন বলে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়লেও রাশিয়া ক্রমেই বেশিসংখ্যক সাবেক বন্দি ও অপ্রশিক্ষিত সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে। এতে তাদের বাহিনীর কার্যকারিতা আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। সূত্র: সিএনএন

নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত
ভেড়ামারা আন্তঃদেশীয় গ্রিড সাবস্টেশন

নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির ব্যাপারে ভারত সরকার সঞ্চালনের অনুমোদন দেয়নি। ফলে আজ ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির কথা থাকলেও তা পারছে না নেপাল। এর ফলে বাংলাদেশে কেবল পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করবে দেশটি।

কাঠমান্ডু পোস্টে গতকাল রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াটের বাইরে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন স্থগিত করেছে।

হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটি নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম নয় বলে দাবি ভারতের।

অতিরিক্ত এই বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে হলে একটি সংশোধিত বা নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) সিদ্ধান্তের মতো আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন রয়েছে। নেপাল সাধারণত বর্ষা মৌসুমে তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে। তবে শীতকালে নিজেদের চাহিদা মেটাতে নেপালকে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয়।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের বাইরে অতিরিক্ত আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হয়। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও একটি বোঝাপড়া হয়েছিল। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) সে অনুযায়ী অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির সুবিধা করে দিতে ভারতের ‘এনটিপিসি বিদ্যুৎ বাপার নিগম লিমিটেড’ (এনভিভিএন)-এর কাছে অনুরোধ করে। তবে নেপালের কর্মকর্তারা বলছেন, এনভিভিএন পরে দাবি করেছে, হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার ভারত-বাংলাদেশ সঞ্চালন লাইনটি এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম নয়।

এর আগে, বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়টি নেপাল-ভারত জেএসসি বৈঠকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নীতিগত চুক্তি হয় যে, নেপাল ভারতের আমদানি-রপ্তানি নির্দেশিকা মেনে এবং ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারবে। এ জন্য এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপাল। বাংলাদেশের কাছে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬.৪০ মার্কিন সেন্ট মূল্যে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের ক্ষেত্রেও একই হার প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল।

কাঠমান্ডু প্রথম ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল। নেপালের এই বিদ্যুৎ ধলকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে বাংলাদেশে রপ্তানি অনুমোদিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপালের ‘ত্রিশূলী’ এবং ‘চিলিম’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো ভারতেও বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও এই প্রকল্পগুলো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল।

ট্রিলিয়নিয়ার হলেও ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ ফুটের ছোট্ট বাড়িতে

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
ট্রিলিয়নিয়ার হলেও ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ ফুটের ছোট্ট বাড়িতে
ইলন মাস্ক। ছবি: খবরের কাগজ

কয়েক দিন আগেই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে বিপুল এই সম্পদের মালিক হয়েও মাস্কের ব্যক্তিগত জীবনযাপন অনেকটাই সাধারণ। তিনি টেক্সাসে স্পেসএক্সের ঘাঁটির কাছে একটি ছোট্ট বাড়িতে থাকেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার স্পেসএক্স ৫৫৫ মিলিয়নের বেশি শেয়ার ১৩৫ ডলার দামে বিক্রি করে ৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। পরদিন শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ১৬২ ডলারে পৌঁছায়। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারগুলো হিসাবে নেওয়ার পর মাস্কের মোট সম্পদ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।

ফরচুন ম্যাগাজিনের মতে, মাস্কের সম্পদ অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছালেও টেক্সাসে তার দিন কাটে একটি ছোট বাড়িতে। ২০২০ সালে টেক্সাসে তার কোম্পানিগুলো স্থানান্তর করার পর, মাস্ক ক্যালিফোর্নিয়ায় তার বেশির ভাগ বিলাসবহুল সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। তিনি অস্টিন শহরের কাছে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বেশ কয়েকটি সম্পত্তি কিনলেও তার প্রধান বাসস্থান হলো টেক্সাসের বোকা চিকায় স্পেসএক্স-এর স্টারবেস স্থাপনার কাছে অবস্থিত ছোট্ট একটি জায়গা।

২০২১ সালে মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, তার প্রধান বাসস্থান স্পেসএক্সের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া বোকা চিকার স্টারবেজ এলাকার প্রায় ৫০ হাজার ডলার মূল্যের একটি বাড়ি। বাড়িটি নির্মাণ করেছে হাউজিং স্টার্টআপ বক্সাবল। যার আয়তন মাত্র ৪০০ বর্গফুট। ছোট এই ঘরে বসার জায়গা, শোবার স্থান, রান্নাঘর এবং বাথরুম রয়েছে।

যদিও মাস্কের ব্যক্তিগত বাসস্থান ছোট, তবে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানায় টেক্সাসের অস্টিন শহরের অভিজাত ওয়েস্ট লেক হিলস এলাকায় কয়েকটি বড় বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব বাড়ির আয়তন ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার বর্গফুট। সেখানে সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

মাস্ক তার কাজের জায়গার কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন। তার জীবনী লেখক ওয়াল্টার আইজ্যাকসন ২০২৩ সালে মাস্কের বাড়ির একটি ছবি প্রকাশ করে এটিকে ‘সাধারণ দুই শয়নকক্ষের বাড়ি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি

মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি বাড়িয়ে এবার নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির দাবি করল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পক্ষে থাকা সংসদ সদস্যের (লোকসভার এমপি) সংখ্যা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এটিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিদ্রোহীদের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার গতকাল রবিবার জানান, তাদের পক্ষে থাকা এমপির সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে এখন ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।

রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যারা অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন, আমরা তাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আরও দু-একজন আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। আগে আমি ২০ জনের কথা বলেছিলাম, এখন সেই সংখ্যাটি ২২ হয়েছে। আমরা এখানে সবার মতামত শুনব। দলে আলোচনা হবে, কোনো একনায়কত্ব চলবে না।’

তবে নতুন করে যোগ দেওয়া ওই দুই সংসদ সদস্যের নাম এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই নাম ঘোষণা করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আজ সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী বা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদন জানিয়ে এক সপ্তাহ আগে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন এই বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। সেই চিঠির সূত্র ধরেই এই বৈঠক হতে যাচ্ছে।

স্পিকারের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লির বিজেপি সংসদ সদস্য ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে গিয়ে হাজির হন তৃণমূলের চার বিদ্রোহী এমপি— শতাব্দী রায়, মালা রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষ। সেখানে বিজেপির আরেক প্রভাবশালী এমপি নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগের দিন অর্থাৎ গত শনিবার তৃণমূলের ছয়বারের এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেননি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই বৈঠক অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তিনি বিদ্রোহী শিবিরকেই সমর্থন করতে যাচ্ছেন।

তৃণমূলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সুদীপ অন্যতম। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনি এই শিবিরে যোগ দিলে বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক শক্তি ও অভিজ্ঞতা বহু গুণ বেড়ে যাবে। তবে সূত্রের খবর, বিদ্রোহী শিবিরের ভেতরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্ব নিয়ে কিছু এমপি আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। বেশ কয়েকজন তাকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে ইতস্তত করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমন ঘটলে তিনিই এই অসন্তুষ্ট গোষ্ঠীর প্রধান বা সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন ইতোমধ্যেই একটি বিদ্রোহী উপদলে যোগ দিয়েছেন। তারা দলের মূল নীতি মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

 সূত্র: এনডিটি