যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার মধ্যপ্রাচ্য সফরে রওনা হয়েছেন। খবর রটেছে, সেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়েও আলাপ হতে পারে। এমনকি ট্রাম্পের কাছ থেকে স্বীকৃতিও আসতে পারে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় এখন বোয়িং ৭৪৭-৮ জাম্বো জেট। কারণ কাতারের ক্ষমতাসীন পরিবার ওই বিমানটি ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে দিতে চাইছে। আর ট্রাম্পও তা নিতে রাজি।
বিমানটিকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের। এমনকি বিনামূল্যে বিমান পাওয়ার বিষয়টির পক্ষে সাফাইও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি হলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি উপহার পাচ্ছে। কোনো খরচ ছাড়াই, ৭৪৭ আকাশযান, যা ৪০ বছরের পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের জায়গা নেবে। এটি অত্যন্ত প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ লেনদেন। তবে ভাইয়েরা, অসৎ ডেমোক্র্যাটরা চাইছে যাতে আমরা এর জন্য অর্থ দিই। বিমানের জন্য বড় অঙ্কের ডলার গুনি।’
রবিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাইটে এই বক্তব্য তুলে ধরেন ট্রাম্প। কাতারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এপির প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্পের কাতার সফরের সময় উপহারের ঘোষণাটি আসতে পারে। নিজ সফরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আমিরাতেও যাবেন ট্রাম্প।
তবে এরই মধ্যে কাতারের বিমান উপহার দেওয়া ও ট্রাম্পের তা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে। উদ্বেগও জানিয়েছেন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা। বিমানটি উপহার নেওয়া যে নৈতিক সীমারেখারে সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, তা প্রমাণে বিশ্লেষণ তৈরিতেও কাজ করছে একটি দল।
সুযোগ পেয়ে অনেকে আবার ট্রাম্পকে একহাত নিতেও ছাড়ছেন না। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের এর আগে প্রচারিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কাতারের দেওয়া এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার মতো ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আর হতে পারে না। এটি শুধু ঘুষ নয়, এটি অতিরিক্তি সুবিধাসহ প্রিমিয়াম মানের বিদেশি প্রভাব।’
অনেক রক্ষণশীলও ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনলাইনে। এপির খবর বলছে, এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে এখন যে বিমানটি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি বোয়িং ৭৪৭ মডেলের। এই মডেলটি ৩০ বছরের পুরোনো। তবে বিমানটিকে ব্যাপকভাবে সংস্কার করার পর তা এয়ারফোর্স ওয়ানে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ওই বিমান থেকে চাইলে প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং বিমানটিতে নানা ধরনের নিরাপত্তাজনিত সুবিধাও রয়েছে।
বোয়িং আগেই নতুন মডেলের এয়ারফোর্স ওয়ান তৈরির চুক্তি পেয়েছে। তবে এ প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটির শত শত কোটি ডলার লোকসান হওয়ায় সরবরাহের তারিখ কিছুটা পিছিয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চাইলে নতুন বিমানটিতেও দ্রুত কিছু পরিবর্তন এনে তা ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু তার পরও সেটি বর্তমান এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানের চেয়ে বা বোয়িং যে নতুন মডেল তৈরি করছে, সেটির তুলনায় কম সক্ষমতার হবে। সূত্র: এপি