হামাসকে পরাজিত করতে অপারেশন গিডিয়ন’স চ্যারিয়টস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এ অভিযানের আওতায় গাজার বিভিন্ন কৌশলগত এলাকা দখল ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করাও এ অভিযানের লক্ষ্য।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ বিষয়ে জানায়। হামাস পরিচালিত প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে ইসরায়েলি আক্রমণে ২৫০ জন নিহত হয়েছে।
গাজায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার বিকাল পর্যন্ত) ইসরায়েলি হামলায় ১৫০ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকাল পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। এসবের মধ্যেই গাজা উপত্যকা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল।
রেড ক্রিসেন্ট ইসরায়েলকে আবারও গাজা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে উপত্যকা অবরুদ্ধ করে রাখা এবং সেখানে বোমাবর্ষণ করা ক্ষুধা ও কষ্ট বাড়াবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় অন্তত ৫৩ হাজার ২৭২ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১৪ জন। অন্যদিকে উপত্যকার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর বলছে, মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার সাতশরও বেশি হবে। ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। সেসব মানুষকে দপ্তরটি মৃতের তালিকাতেই ধরেছে।
ইসরায়েল গত শুক্রবারে গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যা করে। বেইত লাহিয়া ও জাবালিয়া শহরে হামলার ঘটনায় অনেক ভবন ধসে পড়েছে এবং সেসব ভবনের নিচে বহু মানুষ আটকাও পড়েছে। শুক্রবার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কান্নার শব্দ আসছে। কিন্তু তারা কাউকে উদ্ধার করতে পারছেন না।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা গতকাল শনিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ চলমান থাকায় তারাও ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচ থেকে কাউকে উদ্ধার করতে পারেনি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, দখলদাররা উপত্যকার উত্তরের এলাকায় কাউকে নড়তে দেখলেই আক্রমণ করছে এবং এতে করে আক্রান্ত এলাকায় পৌঁছে নাগরিকদের বাঁচানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
গাজায় ক্ষুধার প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠছে
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খলিল আল-দেগরান বলেছেন, ‘গাজার মানুষের শরীরে ক্ষুধার প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠতে শুরু করেছে। অপুষ্টি থেকে বড় পরিসরে রক্তশূন্যতাও দেখা দিচ্ছে।’ আল-দেগরান আরও জানান, মানুষ রক্তও দিতে পারছে না।
ফলাফল হিসেবে হাসপাতালগুলোতে এখন রক্তের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। এদিকে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে।
জেরুজালেমেও প্রাণহানি
জেরুজালেমের প্রশাসক শ্রেণির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ নিদাল আবু লিবদেহ নামের এক তরুণ ফিলিস্তিনিকে আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রবেশপথে গুলি করে রেখে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। পরে রক্তক্ষরণে মারা যায় সে। বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে উঠে এসেছে তথ্যটি।
ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের বেইত হানিনা এলাকায় ওই ব্যক্তির বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে। ওই এলাকার কয়েকজন স্থানীয় ফিলিস্তিনিকে আক্রমণ ও গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদের দরজাও বন্ধ করে রেখেছিল। ভেতরে ইবাদতরত মানুষকেও কিছু সময়ের জন্য আটক করেছিল তারা। পরে লায়ন’স গেট খুলে দেওয়া হয় এবং ফিলিস্তিনিরা বের হওয়ার সময় তাদের ওপর আক্রমণ করে। সূত্র: আল-জাজিরা