মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১৬ মে) ইসমাইল রয়্যার এবং শায়খ হামজা ইউসুফ নামে দুজনকে হোয়াইট হাউসের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের অধীনে নবগঠিত উপদেষ্টা বোর্ডে নিয়োগ দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ পাওয়া এই দুই ব্যক্তির অতীতে চরমপন্থা মতাদর্শ এবং ‘জিহাদি’ কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতার ভিত্তি, ধর্মীয় বহুত্ববাদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর কৌশল, ধর্মীয় স্বাধীনতার হুমকি সম্পর্কে এক বিস্তৃত প্রতিবেদন তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই ‘রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশন’কে।
আর এই সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে প্রশাসনকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশনের একটি অ্যাডভাইজ়ারি বোর্ড গঠন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বোর্ডেই দুই সাবেক ‘জঙ্গি’কে নিয়োগ করার অভিযোগ উঠল ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
সম্প্রতি এই অ্যাডভাইজরি বোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্ত ইসমাইল রয়্যার এবং শায়খ হামজা ইউসুফের অতীত নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন লরা এলিজাবেথ লুমার। তিনি ট্রাম্প সমর্থক হিসেবেই পরিচিত একজন অতি-ডানপন্থি মার্কিন রাজনৈতিককর্মী। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ় অব রিপ্রেজ়েন্টেটিভসে ফ্লোরিডার ২১তম কংগ্রেসনাল জেলার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রিপাবলিকান প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পপন্থি হয়েও ইসমাইল এবং হামজার নিয়োগের বিরুদ্ধে কেন সরব লুমার?
কে এই ইসমাইল রয়্যার?
ইসমাইল রয়্যারের আসল নাম র্যান্ডাল টড রয়্যার। জন্মসূত্রে তিনি আমেরিকান খ্রিস্টান। পরে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হন। লুমারের দাবি, ইসমাইল রয়্যারের লস্কর-ই-তাইয়েবা, মুসলিম ব্রাদারহুড, হামাস এবং ভার্জিনিয়া জিহাদ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগসাজস ছিল। ২০০০ সালে পাকিস্তানে গিয়ে নাকি সেখানকার এক জঙ্গি শিবিরে তিনি প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন।
এমনকী তার বিরুদ্ধে কাশ্মীরে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন লুমার।
২০০৩ সালে রয়্যারের বিরুদ্ধে প্রথম জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং লস্কর-ই-তাইয়েবা ও আল-কায়েদাকে সাহায্য করার অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।
এমনকি ২০০৪ সালে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন। তখন তার ২০ বছরের জেল হয়। ১৩ বছর কারাবাসের পর ২০১৭ সালে মুক্তি পায় ইসমাইল রয়্যার। আদালতের নথি অনুযায়ী, নবনিযুক্ত জঙ্গিদের লস্করের ট্রেনিং ক্যাম্পে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন তিনি।
শায়খ হামজা ইউসুফ কে?
জায়তুনা কলেজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হামজা ইউসুফ। এই কলেজে শরিয়ত আইন পড়ানো হয়। লুমারের দাবি, ইউসুফের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাসের।
এক মার্কিন পুলিশ কর্তাকে হত্যায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির জন্য অর্থ সংগ্রহের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ইউসুফের বিরুদ্ধে। সেই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ৯/১১ হামলার ঠিক দুই দিন আগে।
এ ছাড়াও নব্বইয়ের দশকে নিউইয়র্কে হামলার সঙ্গে যুক্ত শেখ ওমর আবদেল-রহমানের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রকাশ্যে আপত্তি জানান তিনি।
বরাবরই মুসলিমবিরোধী হিসেবে পরিচিত এই মার্কিন রাজনীতিবিদ লরা এলিজাবেথ লুমার। তার উপর অদ্ভুত অদ্ভূত ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব দিয়ে থাকেন। ৯/১১ হামলায় মার্কিন সরকারের হাত থাকতে পারে, এমন তত্ত্বও দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের বরখাস্তের পিছনেও লুমারের হাত ছিল বলে জানা গেছে। তবে নির্বাচনি প্রচারের সময় ট্রাম্পের পাশে সব সময় দেখা যেত লুমারকে। তাই ইসমাইল ও হামজাকে নিয়ে লুমারের এই আপত্তি ট্রাম্পের সমস্যা বাড়াবে, সেটি বলাই বাহুল্য। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং দ্য ইকোনোমিক টাইমস
সুলতানা দিনা/অমিয়/