গাজা উপত্যকা লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সহায়তা নিয়েও ভুগতে হচ্ছে গাজাবাসীকে। ইসরায়েলি আক্রমণে গাজায় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) অন্তত ৩৭ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ১৯ জন মারা গেছেন মধ্য গাজার বুরেইজি শরণার্থী শিবিরে।
বুধবার (২৮ মে) গাজায় সহায়তা নিতে আসা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলিরা। এতে ১০ জন মারা গেছে। ওই বিষয়টি নিয়েও নিন্দার ঝড় উঠেছে। গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েলি সেনারা ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ত্রাণ দিচ্ছে, সেটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন উপত্যকার জরুরি চিকিৎসক জেমস স্মিথ। ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় গাজায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, ‘চলমান সহিংসতা ও জাতিগত নিধন থেকে দৃষ্টি সরানোর এটি একটি কৌশল। এই কৌশল বহু আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে, এর একটি নামও আছে। নামটি হলো- ‘মানবিক আর্জি’। এরকম ক্ষেত্রে কথিত মানবিক বিষয়াদি দিয়ে গণহত্যাকারী ও অন্যান্য যুদ্ধরত বাহিনী মনোযোগ সরিয়ে দেয়।
ফিলিস্তিনিদের যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্মিথ। তিনি বলেন, শুকনা খাবার যা দেওয়া হচ্ছে, তা রান্না করার মতো পানি কোথায় পাবে ফিলিস্তিনিরা? এ ছাড়া অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের বিতরণ নিয়েও কোনো পদক্ষেপ নেই।
গাজার এ মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদেরও যেতে হচ্ছে বলে জানান স্মিথ। তিনি বলেন, ‘আমি এমন চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গেও কাজ করেছি, যারা আগের দিন ও রাতে নিজের ও পরিবারের জন্য খাবার খুঁজেছে, তাঁবুতে থেকেছে, অন্যদের মতো একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে।’
একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, চিকিৎসা অবকাঠামো ও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রায় ৭০০ আক্রমণ হয়েছে। স্মিথ বলছেন, এ সংখ্যা আরও বেশি হবে।
গাজায় সব স্থানের মানুষ যে সহায়তা পাচ্ছেন না, সেটির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির এক জাতিসংঘ ওয়্যারহাউসে খাবারের জন্য আক্রমণ চালিয়েছে ক্ষুধার্ত জনসাধারণ। জাতিসংঘ আগেই জানিয়েছে, পুরো উপত্যকা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইসরায়েল ও হামাসের জন্য নতুন সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত তৈরিতে কাজ করছে সংস্থাটি।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ওয়্যারহাউসে হামলার সময় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। জাতিসংঘের এ সংস্থাটি খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে যাতে কোনো মানুষকে ক্ষুধায় কষ্ট না করতে হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় ৫৪ হাজার ৮৪ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৩০৮ জন। তবে গাজার গণমাধ্যম দপ্তর বলছে, ৬১ হাজার ৭ শয়েরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তিদেরও মৃতের তালিকায় ধরেছে তারা। সূত্র: আল-জাজিরা