যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের সহায়তা নিতে গিয়ে নতুন করে আরও ২০ জন ইসরায়েলি গুলিতে আহত হয়েছেন। তারা সংস্থাটির নির্ধারিত বিতরণ কেন্দ্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।
ইসরায়েলের নেটজারিম করিডরের কাছে নতুন বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়। ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে বলা হয়। সংস্থাটির তৃতীয় সহায়তা বিতরণ কেন্দ্র এটি। এর আগের দুটি খোলা হয়েছে উপত্যকার দক্ষিণের শহর রাফায়।
গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবারও ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাজুড়ে অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার আল-আওদা হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ রকম নির্দেশ দেওয়া অপরাধ; বিশেষ করে এমন মুহূর্তে, যখন ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি আক্রমণের মুখে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজার যুদ্ধে অন্তত ৫৪ হাজার ২৪৯ জন মারা গেছেন। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯২ জন। তবে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর বলছে, মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার সাতশরও বেশি হবে। ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদেরও মৃতের তালিকায় ধরেছে তারা।
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব হামাসের সামনে উত্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চুক্তিটি বর্তমানে খতিয়ে দেখছে হামাস। তবে তারা বলেছে, এটি বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে গাজায় হত্যা ও দুর্ভিক্ষ আরও বাড়বে। হামাসের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানান।
হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লিয়াভিট গত বৃহস্পতিবার জানান, ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তা বিবেচনার জন্য হামাসকে দিয়েছেন।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য বাসেম নাইম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, চুক্তিটি আমাদের জনসাধারণের চাহিদার কোনোটিই পূরণ করছে না। যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও না। তবে নেতৃস্থানীয়রা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের সঙ্গে প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে। হামাস শনিবার জবাব দিতে পারে বলেও এক সূত্র উল্লেখ করেন।
নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো জনসম্মুখে আসেনি। তবে জ্যেষ্ঠ হামাস কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি বলেছেন, চুক্তির মধ্যে ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, ইসরায়েলি সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা নেই বা সহায়তা মুক্তভাবে প্রবেশ করতে দেওয়ার বিষয়টির উল্লেখ নেই।
খসড়া এক কপির বরাত দিয়ে রয়টার্স নিজেদের প্রতিবেদনে জানায়, চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। এর প্রথম সপ্তাহে হামাসের হাতে থাকা ২৮ জিম্মিকে জীবিত অথবা মৃত মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল ১ হাজার ২৩৬ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। পাশাপাশি ১৮০ ফিলিস্তিনির মৃতদেহও বুঝিয়ে দেবে। সূত্র: রয়টার্স