ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ক্রমেই চরম আকার নিচ্ছে। চলছে হামলা-পাল্টা হামলা। এটি সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন ‘হজ কাসেম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ব্যবহার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ফারস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার রাতভর এ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানো হয়। একাধিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। হজ কাসেম দিয়েই ইরান ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করেছে কি না, তা নিয়ে কানাঘুষা চলছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রের নামকরণ করা হয়েছে জেনারেল কাসেম সোলাইমানির নামে, যিনি ছিলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস বাহিনীর প্রধান। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি ইরাকের বাগদাদে নিহত হন। গত শুক্রবার ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর থেকে তেহরানও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে এ পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হজ কাসেম ক্ষেপণাস্ত্র কী?
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দুই পর্যায়ের কৌশলগত কঠিন জ্বালানির আধা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। যা ২০২০ সালের আগস্টে উন্মোচিত হয়েছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির মোট ভর ৭ টন, এতে ৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি ওয়ারহেড হয়েছে এবং এর দৈর্ঘ্য ১১ মিটার। এর বায়ুমণ্ডলীয় প্রবেশ গতি ম্যাক ১১ এবং এর প্রভাব গতি ম্যাক ৫, যা এটিকে হাইপারসনিক ডোমেইনে রাখে। হজ কাসেমের রিপোর্ট করা পাল্লা ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। এটি উন্মোচনের সময় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছিলেন, ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এটি টানা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসরায়েলে মোতায়েন করা মার্কিন-নির্মিত থাড সিস্টেমের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সেই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অন্যান্য বাধাব্যবস্থাকে বাইপাস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এটি ২০০ কিলেমিটার দূরত্ব এবং ১৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করতে সক্ষম। টার্মিনাল পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম। গতিবেগ ম্যাক-৮। এর ফলে উচ্চগতির লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করতে পারে সহজেই। যুক্তরাষ্ট্র, আরব আমিরশাহি এবং দক্ষিণ কোরিয়া এই সিস্টেম ব্যবহার করে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ ইরানি টিভিকে বলেছেন যে আপডেট করা ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন এবং ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম। এটি অনেকের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং আঘাত করতে পারে।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ অভিযানে ২০০টিরও বেশি ইরানি সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা আক্রমণ করা হয়েছে। এতে সিনিয়র কমান্ডার এবং বিজ্ঞানীরা হতাহত হয়েছেন। এর পরই ইরান প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘হজ কাসেম’ একটি সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি কিছু। এটি ইরানের ক্রমবর্ধমান নির্ভুল আক্রমণ ক্ষমতার একটি সংকেত। মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইসরায়েল আরও হামলার হুমকি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এটি একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে যেতে পারে। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস