ইউক্রেন ও রাশিয়া বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বন্দি বিনিময় করেছে। এবারের দফায় কতজন বন্দি মুক্তি পেয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়। সেটিরই ধারাবাহিকতায় চলছে এ প্রক্রিয়া। জীবিত বন্দিদের পাশাপাশি লাশও ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেনীয় বন্দিদের বেশির ভাগই তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার হাতে বন্দি। তাদের অনেককেই যুদ্ধের প্রথম বছরেই মারিওপোলে আটক করা হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনের বন্দর শহরটি
রাশিয়ার দখলে চলে যায়। তার আগে প্রায় তিন মাস ধরে সেখানে যুদ্ধ ও অবরোধ চলে।
অন্যদিকে রাশিয়ার যেসব বন্দি মুক্তি পেয়েছে, তাদের বেলারুশে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ বন্দি বিনিময়ে সম্মত হলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। উল্টো আলোচনার পর থেকে ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার আক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেনও একাধিকবার রাশিয়াকে লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে শান্তি চান না, সে বিষয়টি এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।
এরকম পরিস্থিতিতে মিত্রদের পাশে পেয়েছে ইউক্রেন। তারা দেশটিকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউক্রেন এরই মধ্যে মিত্র দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ নেতা রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। প্রথমে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, ক্রেমলিনের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন হাঙ্গেরি এতে সায় দেবে না। কিন্তু নেতৃস্থানীয়দের সম্মত হওয়ার মধ্য দিয়ে এ আশঙ্কার অবসান হয়েছে। নেতৃস্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও জোটের সদস্যদের সমর্থন অটুট রয়েছে।
এর আগে ন্যাটো নেতারা একত্রিত হলেও সেখান থেকে কোনো বার্তা আসেনি। রাশিয়া চায় না ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিক। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সে বিষয়গুলোকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান