গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪২২ জন আহত হয়েছেন বলে শনিবার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বিশেষ করে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনুসের আশপাশে হামলা আরও তীব্র হয়েছে।
উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-বালাদ এলাকায় আল-জেইন ও দারদুনা পরিবারের ঘরবাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েল। সেখান থেকে ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উত্তর গাজার আস-সাফতাওয়ি এলাকায় আশ্রয়হীনদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ওসামা বিন জায়েদ স্কুলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে তিনজন ছিল শিশু।
গাজা সিটির রেমাল এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আল-শাওয়া ভবন থেকে ৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং সেখানে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
একই এলাকায়, প্যালেস্টাইন রাউন্ডঅ্যাবাউটের কাছে বাস্তুচ্যুতদের তাবুতে ইসরায়েলি হামলার পর আরও ৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, অধিকাংশ হামলাই হয়েছে আবাসিক ভবন, আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী তাবু লক্ষ্য করে—যেখানে বেসামরিক লোকজন, বিশেষ করে নারী ও শিশু আশ্রয় নিয়েছিল।
এতে করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৫৬ হাজার ৪১২ জনে, এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪ জনে।
এর মধ্যে, গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে ৬ হাজার ৮৯ জন নিহত এবং ২১ হাজার ১৩ জন আহত হয়েছেন।
এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হচ্ছে যখন আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ছে এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়বদ্ধতার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এর আগে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেইসব প্রতিবেদন কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে-ইসরায়েলি সেনাদেরকে সাহায্যের আশায় জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দপ্তরটি এই ঘটনাগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ’ বলে অভিহিত করেছে।
এ ছাড়া, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA)-এর প্রধান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF) পরিচালিত ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো বর্তমানে ‘নরকে’ পরিণত হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে চালানো হামলায় অন্তত ১ হাজর ১৩৯ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২০০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয় বলে ইসরায়েলি পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছে।
এদিকে গাজায় হতাহতের সংখ্যা লাগাতার বাড়ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমাধানে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করলেও—স্থিতিশীল কোনো যুদ্ধবিরতির লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/