ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানছি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার চিন্তা বাদ দিতে হবে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখনো হামলার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।
তাখত-রাভানছি বলেন, ‘আলোচনার কথা বলবে আবার হামলার হুমকিও দেবে, এটা তো কোনো সভ্য সমাজের নিয়ম হতে পারে না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আগ্রাসন বন্ধ না হলে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে না।
গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহান পরমাণু স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।
সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি জানান, ইরান কয়েক মাসের মধ্যেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু করতে সক্ষম হবে।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী ইরান নির্দিষ্ট মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে বের হয়ে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ২০২১ সালে ইরান আবার ফোর্দোতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করে এবং বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
তাখত-রাভানছি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লক্ষ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো গোপন অস্ত্র কর্মসূচি চালাচ্ছি না, বরং গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা আর আগ্রাসন চালাবে না। আলোচনার সময় হামলা চালানো হলে সেটা হবে বিশ্বাসঘাতকতা।’
তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে হামলা না হলে ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।
তাখত-রাভানছি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু আরব দেশ আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ আলোচনা চাই। কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আগ্রাসনের মুখে আবারও বিস্মিত হওয়ার সুযোগ নেই।’