ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গত রবিবার অন্তত ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন ছিলেন সহায়তাপ্রত্যাশী। তারা খাবারের সহায়তা ট্রাকের জন্য অপেক্ষায় ছিল।
সোমবারও (৭ জুলাই) ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত ছিল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে আরও অন্তত ১৩ জন মারা গেছেন।
আল জাজিরার খবর বলছে, একটি হামলায় গাজা সিটিতে অবস্থিত আল-রিমাল ক্লিনিকের একটি কক্ষ লক্ষ্য করে আঘাত হানে ইসরায়েল। ওই কক্ষে বাস্তুচ্যুত একটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। হামলা চালানোর আগে কোনো সতর্কতা জানায়নি ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে সেখানে অবস্থানরত ছয়জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জন। আহতদের গাজার আল-আহলি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গাজার অন্যান্য স্থানেও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। আল-নুসাইরাতে এক আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলা চালানো হয়েছে আল-বুরেইজি শরণার্থী শিবিরে। সেখানে দুটি বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, নিহত হয়েছেন তিন ফিলিস্তিনি। আহতদের মধ্যে শিশুরা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এমন একটি সময়ে এসব হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যখন যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এটি নিয়ে আলাপের জন্য ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনা চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৭ হাজার ৪১৮ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬১ জন। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক।
এদিকে, গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) আবারও অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে খাবার বিতরণ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। গত রবিবার তারা সহায়তা বিতরণ স্থগিত করেছিল। এর আগ দিয়ে সংস্থাটি দাবি করে, তাদের দুই ঠিকাদার এক কেন্দ্রে আহত হয়েছেন।
গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন, ‘আমরা গতকাল (রবিবার) থেকে জেনেছি যে, অবরুদ্ধ উপত্যকার চার সাইটে সহায়তা বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। এখন হঠাৎ করে তারা আবার বিতরণ শুরু করার কথা জানিয়েছে।’
গত ২৭ মে থেকে অন্তত ৭৫০ জন সহায়তাপ্রত্যাশী ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। সহায়তা নিতে গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই গুলির মুখে পড়ছে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো। জাতিসংঘ বলেছে, ইসরায়েল গাজার মানুষের ক্ষুধাকে হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
শুধু পশ্চিমা বিশ্ব নয়, এর আগে খোদ ইসরায়েলি গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে খবর এসেছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে কোনো কারণ ছাড়া গুলি চালানো হচ্ছে সহায়তাপ্রত্যাশীদের ওপর।
ইয়েমেনে ইসরায়েলি হামলা
ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, হুতি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনেও হামলা চালাচ্ছে। হুতিরাও বসে নেই। তারাও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত রবিবার জানায়, তারা ইয়েমেনের হোদেইদাহ, রাস-ইসা ও আস-সালিফ বন্দরে আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া রাস কাথিব বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।
হুতিরা গ্যালাক্সি লিডার নামে একটা জাহাজ জব্দ করেছিল। ওই জাহাজের রাডার সিস্টেমেও আঘাত হেনেছে ইসরায়েল।
তবে ইয়েমেনের হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হামলা শুরুর আগ দিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করে, ইয়েমেন থেকে তাদের লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যা তারা সফলভাবে আটকাতে পেরেছে। নতুন করে হামলার মধ্য দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় পর ইয়েমেনে আঘাত করল ইসরায়েল।
এদিকে, হুতিরা গতকাল সোমবার প্রথমভাগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলি হামলার জবাব দিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, দ্বিতীয় দফায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে ইয়েমেন থেকে। তারা সেগুলো ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। হুতিদের আক্রমণের জেরে জেরুজালেম, হেব্রন ও মৃত সাগরের কাছে সতর্কতা সংকেত বেজে উঠেছিল। সূত্র: আল জাজিরা