ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লাল বাহাদুর এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২ দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে দিনাজপুরে বেড়ার হোটেলে নিম্নমানের খাবারসহ একাধিক অভিযোগ ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু বিশ্বকাপ নিয়ে অনারের ক্যাম্পেইন, ফোন-ট্যাবলেটসহ পুরস্কার জেতার সুযোগ বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় ফিরল স্পেন ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স টিভিতে আজকের খেলা ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ সিলেটে বালুচাপা দেওয়া ভারতীয় জিরাসহ চোরাইপণ্য জব্দ, গ্রেপ্তার ২ টাঙ্গাইলে কবরস্থানের জায়গা দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন পদ্মায় গৃহবধূ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত সবজির দাম অনেকটা সহনীয়, মাংসের দোকানে এখনো নেই ক্রেতা আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
Nagad desktop

বিমান থেকে গাজায় ত্রাণ ফেলছে জর্ডান ও আরব আমিরাত

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫, ১০:১০ পিএম
আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৫, ১০:১২ পিএম
বিমান থেকে গাজায় ত্রাণ ফেলছে জর্ডান ও আরব আমিরাত
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ১০ ঘণ্টার জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত ঘোষণার পর জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গাজায় বিমান থেকে খাদ্যসামগ্রী ফেলতে শুরু করেছে।

রবিবার (২৭ জুলাই) জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান থেকে গাজায় ২৫ টন খাবার ও মানবিক সরঞ্জাম ফেলেছে জর্ডান ও আরব আমিরাত। এতে অংশ নিয়েছে জর্ডানের সি-১৩০ মডেলের দুটি এবং আরব আমিরাতের একটি বিমান। গাজার একাধিক স্থানে এসব খাবার ফেলা হচ্ছে। 

রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জর্ডানের এক সরকারি কর্মকর্তা। এই উদ্যোগ এমন এক সময় এল, যখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা গাজায় অনাহার ও অপুষ্টি ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। 

আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ত্রাণের প্যাকেট পড়তে দেখা যায়। তবে ওই ত্রাণগুলো জর্ডান ও ইউএই যৌথ অভিযানের অংশ কি না, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই রবিবার থেকে ইসরায়েল ১০ ঘণ্টার ‘কৌশলগত বিরতির’ ঘোষণা দেয়। প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আল-মাওয়াসি, দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটির নির্দিষ্ট এলাকায় কৌশলগত বিরতি কার্যকর থাকবে। এমন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা।

রবিবার সকালে ইসরায়েলও ত্রাণ ফেলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ইসরায়েলের ‘এয়ারড্রপ’ শরণার্থীদের তাঁবুতে পড়ে ১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গাজায় দুর্ভিক্ষ ও চরম ক্ষুধায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠায় ইসরায়েল গতকাল শনিবার জানায়, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অংশ হিসেবে তারা একটি ত্রাণ প্যারাসুট মিশন পরিচালনা করেছে। 

গাজার স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ত্রাণের কিছু প্যালেট আল-রাশিদ সড়কের পাশে শরণার্থীদের বসবাসরত তাঁবুতে পড়ে। এতে তাঁবুর ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা আহত হয়েছেন। এটি উপত্যকার উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি প্রধান উপকূলীয় সড়ক। ত্রাণবাহী প্যালেটের অনেকগুলোই আবার শরণার্থী কেন্দ্রগুলোর চেয়ে দূরে, এমনকি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় গিয়ে পড়ে। 

হামাস এই পদক্ষেপকে ‘প্রতীকী ও বিভ্রান্তিমূলক’ বলে অভিহিত করে বলেছে, এটি ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষার কৌশল। হামাস জানায়, এটি একটি পরিকল্পিত নীতির অংশ, যার মাধ্যমে ইসরায়েল গাজার জনগণের ওপর অনাহার চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের দুর্ভিক্ষের মধ্যে ফেলছে এবং চরম অবমাননার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

হামাস আরও জানায়, গাজায় ত্রাণ সরবরাহে ব্যর্থতার জন্য বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি দায়ী করা উচিত। ফিলিস্তিনিদের ক্ষুধায় মৃত্যুর জন্য নেতানিয়াহুর নীতি স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ।

অতীতেও গাজায় পরিচালিত ‘ত্রাণের প্যারাড্রপ’ কার্যকর হয়নি। এগুলো পর্যাপ্তসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। এসব উদ্যোগ বরং বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ডেকে আনে। গত বছর আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে মাথার ওপর ত্রাণের প্যালেট পড়ে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

বিভিন্ন মানবাধিকার এবং সাহায্য সংস্থা জানায়, প্যারাড্রপ পদ্ধতিকে তারা ‘বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে মনে করছেন। গাজার ২০ লাখের বেশি ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য এসব উদ্যোগ নিতান্তই সামান্য। 

বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড লিখেছেন, ‘গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য মাত্র একবেলার খাবার নিশ্চিত করতে হলেও অন্তত ১৬০টি বিমানের প্রয়োজন হবে।’

তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিইর স্টারমার সম্প্রতি এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে জর্ডানের সঙ্গে মিলে ত্রাণ সরবরাহ পুনরায় শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩৩ জন অপুষ্টিতে মারা গেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। সোমবার (৮ জুন) দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনাটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের আক্রমণ, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে- তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী একটি প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এই প্রণালীতে পশ্চিমা ও ইসরায়েলপন্থি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর অবরোধ তৈরি করায় মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী সেখানে নিয়মিত টহল দেয়। এই চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়, যা এই অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে
ছবি: আল জাজিরা

ইরান ও ইসরায়েল চালানো পারস্পরিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ হয়েছে, তবে দুটি দেশই হুমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ইরান হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলেও সতর্ক করে দিয়েছে যে, লেবাননসহ অন্যান্য স্থানে ইসরায়েল যদি আরও আগ্রাসন চালায়, তবে পুনরায় হামলা শুরু হবে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা থেকে বিরত থাকবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল তেহরানে আঘাত হানার পর হামলা বন্ধ করেছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে। 

তিনি ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ভুল করে এবং আমাদের ওপর পুনরায় হামলা করে, তবে আমরা তার জবাব দেব।

এতে অঞ্চলটিতে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হতে পারে।

সোমবার বিকেলে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে অঞ্চলজুড়ে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় খোলার অনুমতি দিয়েছে। তবে তেল আবিব এবং তেহরান জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা দ্রুত সামরিক পদক্ষেপে ফিরতে প্রস্তুত।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছি, কিন্তু লেবাননে আমাদের অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চলবে।

ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আমাদের বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তা অনেক বেশি কঠোর হবে। সূত্র: আল জাজিরা

থিও/অমিয়/

ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ইসরায়েল যদি ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধে জড়ায়, তবে তাকে একাই লড়তে হতে পারে।

সোমবার (৮ জুন) ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন ইসরায়েল এবং ইরান উভয় দেশই জানিয়েছে যে- তারা সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখবে।

গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার ঘটনা।

নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্প দিন দিন বেশ বিরক্ত হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দুই পক্ষকেই যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না অজ্ঞতা বা বোকামি এর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি ফোন করেও হামলা বন্ধ করতে বলেছেন।

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি নিয়ে নেতানিয়াহুকে সাবধান করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, বেবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) তোমাকে আরও সতর্ক হতে হবে, তা না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একা একাই লড়তে হবে।’

এই নতুন উত্তেজনার শুরু হয় গত রবিবার, যখন ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। ইরান সবসময়ই বলে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তি হতে হলে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া জরুরি। ফলে, লেবাননে হামলার জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলে লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

জানা গেছে, ট্রাম্প রবিবার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহুকে ফোন করে পাল্টা হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল তা না শুনে সোমবার ভোরে ইরানের ওপর হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আঘাত হানে। জবাবে ইরানও ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি একই ধরনের কারখানা এবং দুটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে ইরানের ছোড়া অনেক ক্ষেপণাস্ত্রই অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশে ধ্বংস করা হয়।

আজহার/অমিয়/

ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সামাজিক মাধ্যমকে এক পোস্টে বলেছেন, ‘ইরান এবং হিজবুল্লাহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল, আর আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী- তবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই এখনও শেষ হয়নি।’

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েল আপাতত হামলা বন্ধ রেখেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান যদি আবারও আক্রমণ করে, তবে তার জবাব দেওয়া হবে চরম ও ধ্বংসাত্মক শক্তি দিয়ে।’

উদ্বেগজনক একটি সপ্তাহ শেষে উভয় পক্ষই যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসেছে, ঠিক তখনই নেতানিয়াহুর এই হুঁশিয়ারি বার্তা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা হামলা বন্ধ রেখেছি, কারণ তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে আমরা হামলা করার পর তারা আমাদের ওপর আক্রমণ চালানো বন্ধ করেছে। তবে ইরান যদি আবারও আমাদের ওপর হামলা করার ভুল করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেব।’

তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে, পরমাণু বোমা দিয়ে আমাদের ধ্বংস করার ইরানি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমরা একটি ঐতিহাসিক ও আগাম হামলা চালিয়েছি। আমরা সেই তাৎক্ষণিক হুমকি নস্যাৎ করেছি- এবং আমরা অত্যাচারী খামেনিকেও নির্মূল করেছি।’

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।’

হিজবুল্লাহর প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ হাজার হাজার সন্ত্রাসী নিয়ে গ্যালিলিতে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল এবং একই সাথে দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট দিয়ে ইসরায়েলের শহরগুলো ধ্বংস করার ছক করেছিল। আমরা সেই হুমকিও রুখে দিয়েছি এবং নাসরুল্লাহকে নির্মূল করেছি।’

তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এখনও বোফোর্ট রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর মাটির নিচের সুড়ঙ্গ ও অবকাঠামো ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমেই এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জবাবে ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। বৈরুতের সেই হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে গুলি চালানোর পর, আমি আইডিএফকে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) বৈরুতে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে এবং হিজবুল্লাহর অপারেটিভদের নির্মূল করার নির্দেশ দিই। এরপর ইরান যখন ইসরায়েলে আক্রমণ করল, আমি আইডিএফকে ইরানজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার নির্দেশ দিই।’

পোস্টে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে চমৎকার আলোচনার প্রেক্ষিতে, গভীর প্রশংসা ও সম্মানের সঙ্গেই ইসরায়েল তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে‘’

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য মূলত আমেরিকার সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে সামাল দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেন যে, ইসরায়েল যদি যুদ্ধ এভাবে বাড়াতে থাকে, তবে তারা আমেরিকার সমর্থন হারাতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

লোকসভায় তৃণমূলে ভাঙন, মমতাকে ছাড়লেন ২০ সংসদ সদস্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
লোকসভায় তৃণমূলে ভাঙন, মমতাকে ছাড়লেন ২০ সংসদ সদস্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় পরিষদীয় দল আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে। এবার লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হলো। লোকসভায় দলটিতে ভাঙন ধরেছে। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তারা কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোট এনডিএতে যোগ দিতে চাইছেন। 

বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও বীরভূমের সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা গতকাল সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠিও পাঠিয়েছেন।

যতসংখ্যক সংসদ সদস্য বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন (বসিরহাটের সংসদ সদস্য হাজি নুরুলের প্রয়াণের পর ওই আসনটি ফাঁকা রয়েছে)। এ অবস্থায় লোকসভায় দলের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সংসদ সদস্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে রয়েছেন।

এমন এক দিনে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই ভাঙন ধরল, যখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক দিল্লিতে রয়েছেন। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে এককাট্টা দেখাতে বৈঠকে বসেছেন মমতা, সনিয়া গান্ধী, অখিলেশ যাদবরা। ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরল। মমতার হাতছাড়া হয়ে গেল লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল।

তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক হিসাবেই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি। যদিও দলীয় বৈঠকে কাকলির বদলে কল্যাণকে চিফ হুইপ ঘোষণা করেছিলেন মমতা। কিন্তু অধিবেশন না চলার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্পিকারের দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে জানানো হয়নি। ফলে নিজের পদের ‘সদ্ব্যবহার’ করেছেন কাকলি। এ বিষয়ে কল্যাণ বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারের দপ্তরে আগেই জানানো হয়েছিল।’ যদিও বারাসতের সংসদ সদস্যের বক্তব্য, সংসদীয় দলের চিফ হুইপ এখনো তিনিই। দলের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কাকলির।

পরে এ বিষয়ে কাকলি পিটিআই (প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া)-কে বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সংসদ সদস্য এনডিএকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনতার রায় মেনে নিয়েছি। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে এনডিএর সঙ্গেই আমাদের চলা উচিত।’

লোকসভার স্পিকারকে তৃণমূলের বিদ্রোহীদের এই চিঠি পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে আসার আগে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। সূত্রের খবর, সেখানে কাকলি, শতাব্দীর পাশাপাশি ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকাররা। বিদ্রোহীদের তালিকায় ইউসূফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবের নামও ভেসে আসছে। ঘটনাচক্রে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সোমবার সকালে দিল্লিতে গিয়েছেন। দুপুরে ভূপেন্দ্রর বাড়িতে যান তিনিও।

দুপুরের ওই বৈঠকের পর গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লিতে শতাব্দীর বাড়িতে ফের একবার বৈঠকে বসেন বিদ্রোহীরা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীও গিয়েছেন সেখানে। সূত্র: আনন্দবাজার