গাজায় প্রতি তিনজনের একজনকে টানা কয়েক দিন খাবার ছাড়া থাকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গাজা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউনিসেফ গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক মহলকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এমন একটি সময়ে তাদের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হলো, যখন ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।
ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড চায়বান বলেন, আজ ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি অল্পবয়সী শিশু তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। চায়বান সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর সফর করেছেন। ওই অঞ্চলগুলো ঘুরে দেখার পর তিনি বলছেন, গাজার অপুষ্টি সূচক স্পষ্টভাবেই দুর্ভিক্ষের মাত্রা পার করে গেছে। তিনি বলেন, ‘আজ আমি গাজার দিকে মনোনিবেশ করতে চাই। কারণ গাজায় দুর্ভোগ সবচেয়ে তীব্র এখন এবং শিশুরা সেখানে নজিরবিহীন হারে মারা যাচ্ছে। আমরা একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি এবং আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, তার ওপর নির্ভর করবে হাজার হাজার শিশু বেঁচে থাকবে নাকি মারা যাবে।’
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র গতকাল শনিবার জানায়, ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি অপুষ্টিতে মারা গেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই কিশোর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিল। যুদ্ধ চলাকালীন তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। একপর্যায়ে কোনো চিকিৎসাতেই আর কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই কিশোরের বাবা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজার যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ হাজারেরও বেশি শিশু। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছে, যাদের মৃত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, অপুষ্টিতে গাজায় মৃতের সংখ্যা ১৬২-তে গিয়ে ঠেকেছে। মৃতদের মধ্যে ৯২ জন শিশু। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের মুখে গতকালও অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে প্রাণহানি হয়েছে। গতকাল ভোর থেকে অন্তত ২৪ জন ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন সহায়তাপ্রত্যাশী। সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ হারানো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে হামলায় অন্তত ৯৮ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৩৯ জনই ছিলেন সহায়তাপ্রত্যাশী। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৯ জনের বেশি। দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে দুই শিশুসহ মোট তিনজন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গত মার্চে গাজায় সহায়তা প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইসরায়েল। পরে মে মাসের শেষভাগে নিষেধাজ্ঞা সামান্য শিথিল করে দেশটি। সে সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আনকোরা নতুন সহায়তা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনকে (জিএইচএফ) দায়িত্ব দেওয়া হয় সহায়তা বিতরণের। একমাত্র তাদেরই গাজায় সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে জিএইচএফের সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। বেসামরিকদের লক্ষ্য করেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। মে মাসের শেষ থেকে এ পর্যন্ত জিএইচএফের সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রে খাবার সংগ্রহে গিয়ে ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।