মধ্য ইউক্রেনীয় শহর ক্রেমেনচুক-এ সোমবার রাতভর ও মঙ্গলবার সকাল থেকে বিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ফলে শহরটির উপর ধোঁয়ার মোটা স্তম্ভ উঠে গেছে। স্থানীয় মেয়র জানিয়েছেন, এটি প্রমাণ যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি চাচ্ছেন না।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, আগস্টে এটি ছিল রাশিয়ার সর্ববৃহৎ হামলা। স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ আগস্ট) ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যেখানে তিনি রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করছেন।
এ হামলায় রাশিয়া ব্যবহার করেছে ২৭০টি ড্রোন এবং ১০টি মিসাইল। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ২৩১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে যেগুলো তারা ভূপাতিত করতে পারেনি সেগুলো ১৬টি স্থানে আঘাত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৩০টি শাহেদ ড্রোন, ৮-১০টি Kh-101 ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩টি ইস্কান্দার (কিছু ক্লাস্টার ওয়ারহেড সহ) দিয়ে ক্রেমেনচুক শোধনাগার এবং লুবনি গ্যাস স্থাপনাগুলিতে আঘাত করেছে।
পোল্টাভা অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে প্রায় ১,৫০০টি পরিবারের বিদ্যুৎ চলে গেছে। এনার্জি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় শক্তি সরবরাহের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় আগুন লেগেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহের জন্য তেলের একটি রিফাইনারি আঘাত করেছে। ক্রেমেনচুকে বড় একটি তেলক্ষেত্র আছে, তবে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেনি আদৌ এটি হামলার লক্ষ্য ছিল কিনা।
এদিকে রাশিয়ার কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, রাতের হামলায় একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে তেলক্ষেত্র এবং হাসপাতালের ছাদে আঘাত হানে এবং এত আগুন ছড়িয়ে। উভয়পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে তেলসহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ক্রেমেনচুকের মেয়র ভিটালি মালেটস্কি বলেছেন, ‘পুতিন শান্তি চায় না - সে ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে চায়।’’ মেয়রের পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, আকাশে ধোঁয়ার একটি বিশাল, ঘন স্তম্ভ ছড়িয়ে আছে।
মেয়র জানান, শহরে অনেকগুলো বিস্ফোরণ হয়েছে, যা শক্তি ও পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেছে। তিনি স্থানীয়দের সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার মিসাইল থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরিত ক্লাস্টার মিউনিশনগুলোর কাছাকাছি বা স্পর্শ করবেন না।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলেও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় এনার্জি কর্মকর্তাদের মতে, ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/