ভারত সফলভাবে অগ্নি-৫ নামের একটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যা এশিয়ার প্রায় যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। এ ছাড়া ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রবাহী এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের কিছু অংশেও আঘাত হানতে সক্ষম। এরফলে এই ক্ষেপণাস্ত্র চীনের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের চণ্ডিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা কৌশলগত বাহিনী কমান্ডের তত্ত্বাবধানে করা হয়েছে। পরীক্ষায় সব কার্যক্রম ও প্রযুক্তিগত মান যাচাই করা হয়েছে।
এটি ভারতের প্রথম ও একমাত্র ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একই সঙ্গে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শুধু আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও উত্তর কোরিয়ার হাতে রয়েছে।
৫০ হাজার কিলোগ্রাম ওজনের প্রায় সাড়ে ১৭ মিটার লম্বা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের মধ্যে অগ্নি-১ থেকে অগ্নি-৪ পর্যন্ত সিরিজ রয়েছে। এগুলোর রেঞ্জ ৭০০ কিলোমিটার থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। এসব ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যে আছে প্রিথ্বী-২ ও অগ্নি-১। এ ছাড়া নতুন তৈরি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রলয়ও রয়েছে।
প্রিথ্বী-২-এর রেঞ্জ ৩৫০ কিলোমিটার এবং এটি ৫০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত বোঝা বহন করতে পারে। অগ্নি-১ ৭০০–৯০০ কিলোমিটার দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে এবং ১,০০০ কিলোগ্রাম ওজন বহন করতে সক্ষম। প্রলয় একটি সংক্ষিপ্ত-পাল্লার ভূমি-থেকে-ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা ৫০০-১,০০০ কিলোগ্রাম ওজন বহন করতে পারে।
মূলত অগ্নি-৫ মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদির প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর হলে এটি চীনের যেকোনো স্থানে পারমাণবিক হামলা করতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, ভারত ও চীন বিশ্বের দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশ। তারা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে তীব্র প্রতিযোগী। ২০২০ সালে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে।
অন্যদিকে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে কোয়াড নিরাপত্তা জোটের অংশ। এই জোটকে চীনের প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য হিন্দুস্থান টাইমস
সুমন/