গাজায় শিশুদের বেঁচে থাকার ব্যাপারটিই সংকটের মুখে পড়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, গাজার বহু শিশুর জন্য ‘এরই মধ্যে অনেক দেরি’ হয়ে গেছে।
দুর্ভিক্ষের মধ্যেও গাজায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষুধার্ত মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। অব্যাহত রেখেছে নিজেদের দখলের প্রক্রিয়াও। শনিবার (২৩ আগস্ট) ভোর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সহায়তাপ্রত্যাশীও রয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজন অনাহারে মারা গেছে। এ নিয়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৩-এ। নিহতদের মধ্যে ১১২ জন শিশু। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রবল অভিযানের মুখে গাজা সিটিতে মানুষ অনাহার, রোগ ও মৃত্যুর মুখে পড়েছে।
গাজার যুদ্ধে ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ২৬৩ জনকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৫ জন।
গাজায় দুর্ভিক্ষের বিষয়টি অনুমিতই ছিল। তবে সীমান্ত খোলা থাকলে এটি এড়ানো যেত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, গাজায় যা দেখা যাচ্ছে, তা ইচ্ছা করে তৈরি করা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। সেখানে সীমান্ত অবরোধ করে রাখা হয়েছে। অত্যন্ত জরুরি সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। খাবার ঠিকমতো ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসার সরঞ্জামও দেওয়া হচ্ছে না।
ফলে গাজাবাসীর কাছে বিষয়টি কোনো নতুন বাস্তবতা এনে হাজির করেনি। বরং তাদের বাস্তবতাই এটি। সেখানে মানুষ গত ২২ মাস ধরেই ভুগছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই সবাই বুঝতে পেরেছিল যে এই পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। আল-জাজিরার প্রতিবেদন গাজা থেকে এ খবর জানিয়েছে।
পশ্চিম তীরেও হামলা
ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরেও হামলা চালিয়েছে। আল-জাজিরার খবর বলছে, উত্তর-পূর্ব রামাল্লাতে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে। সেখানের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে টানা তৃতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
আল-মুঘাইয়ির গ্রাম পরিষদের উপ-প্রধান মারজৌক আবু নাইম বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী গতকাল ভোর থেকে ৩০টিরও বেশি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। এ ছাড়া সেখানকার বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দাদের গাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে সেনারা, এমনটাও শোনা যাচ্ছে। আবু নাইম বলেছেন, ইসরায়েলি বুলডোজার এখনো আল-রাফিদ এলাকা থেকে শুরু করে কালাসৌন এলাকা পর্যন্ত সড়ক তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি করতে গিয়ে তারা জলপাই চাষের জমি ধ্বংস করছে। তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী আল-মুঘাইয়ির গ্রামের পূর্বাঞ্চলের এলাকায় বুলডোজার চালাতে শুরু করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা