উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই আয়োজনে অন্যতম প্রধান অতিথি হিসেবে উনের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন।
এটিকে ২০১৯ সালের পর উনের প্রথম আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এই কুচকাওয়াজে কিমের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উন সহ মোট ২৬ জন রাষ্ট্রপ্রধানের এই আয়োজনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অনুষ্ঠিতব্য এই ‘বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজটি জাপানের বিরুদ্ধে চীনের যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হবে।
আমন্ত্রিত ২৬ জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আছেন। যদিও এই কুচকাওয়াজে যোগদানকারী নেতাদের তালিকায় তাদের নাম আছে কিনা সেটা এখনো জানা যায়নি।
কুচকাওয়াজে চীন তাদের সর্বশেষ অস্ত্রভাণ্ডার প্রদর্শন করবে। যার মধ্যে শত শত বিমান, ট্যাংক ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম থাকবে। এই প্রথমবার চীনের সেনাবাহিনী তাদের নতুন কাঠামো পুরোপুরি প্রদর্শন করতে চলেছে।
অত্যন্ত সাজানো-গোছানো এই কুচকাওয়াজে তিয়ানআনমেন স্কয়ার জুড়ে হাজার হাজার সেনা একসঙ্গে পদযাত্রা করবে। এতে অংশ নেবে চীনের সেনাবাহিনীর ৪৫টি ভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞ প্রবীণ সৈনিকরাও।
৭০ মিনিটের এই কুচকাওয়াজ তত্ত্বাবধান করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১০,০০০-এরও বেশি সেনা এবং শত শত উন্নত অস্ত্র সমন্বিত এই কুচকাওয়াজ জিনপিংয়ের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে আধুনিকীকরণের উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির আওতায় চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি প্রদর্শন করবে।
তাই অনুষ্ঠানটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও পশ্চিমা শক্তিগুলো।
এছাড়া, এবার কিম জং উনের উপস্থিতি এই কুচকাওয়াজকে নতুন মাত্রা দিতে যাচ্ছে। ২০১৫ সালের কুচকাওয়াজ়ে উত্তর কোরিয়া শুধু তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা চো রিয়ং-হে-কে পাঠিয়েছিল।
এবার কিম যদি বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শির পাশে দাঁড়ান, তাহলে তা হবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। একই সঙ্গে এটি শি জিনপিংয়ের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেও বিবেচিত হবে।
সুলতানা দিনা/