আন্তর্জাতিক এয়ারশোর প্রস্তুতি চলাকালে উড্ডয়নের আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুর্ঘটনায় পড়ে একটি পোলিশ এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় পাইলট ক্রাকোভিয়ান নিহত হয়েছেন। ইউরো নিউজের খবর।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সেনাবাহিনীর জেনারেল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনায় জড়িত বিমানটি ছিল পশ্চিমাঞ্চলীয় পোজনানের কাছে অবস্থিত ৩১তম ট্যাকটিক্যাল এয়ার বেসের। এ ঘটনায় কোনো সাধারণ মানুষ হতাহত হননি।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, নিহত পাইলট ন্যাটোর অভিজাত ইউনিট 'টাইগার ডেমো'-র অংশ ছিলেন। দুর্ঘটনার আগে তাকে বিমান থেকে বের হতে বা ইজেক্ট করতে দেখা যায়নি। ঘটনার পর আসন্ন রাদম এয়ারশো ২০২৫, যা এই সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পোলিশ বিমান বাহিনীর এফ-১৬ টাইগার ডেমো এরিয়াল ডিসপ্লে টিমের একটি প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল কমান্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহত পাইলট প্রদর্শনী দলের নেতা ছিলেন। তিনি প্রায় ১,০০০ এফ-১৬ ঘন্টা উড়ার রেকর্ডের মালিক একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা পাইলট ছিলেন। এতদিন তিনি ক্রাকোভিয়ান পোজনানের কাছে ৩১তম ট্যাকটিক্যাল এয়ার বেসের একজন প্রশিক্ষক ছিলেন।
ক্রাকোভিয়ান ডেবলিনের বিমান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং কলোরাডো স্প্রিংসে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী একাডেমি থেকে স্নাতক ছিলেন। যেখানে তিনি চার বছর পড়াশোনা করেছিলেন।
পোলিশ সশস্ত্র বাহিনী তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, এর পাশাপাশি ক্রাকোভিয়ান বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেছিলেন এবং অসংখ্য আন্তর্জাতিক মিশনে উড়েছিলেন।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ দুর্ঘটনাস্থল রাদম বিমানবন্দরে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন-'একজন পোলিশ সেনা পাইলট এফ-১৬ বিমানের দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি সবসময় সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার দেশকে সেবা করেছেন। আমি তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।'
ফায়ার সার্ভিস জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় ৫টা ৩০) বিমানটি রানওয়ে ধরে ছুটে যাওয়ার পর মাটিতে সজোরে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়। দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পাইলটকে বাঁচানো যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, এফ-১৬ যুদ্ধবিমানটি হঠাৎ নাক নিচু করে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুনের গোলার মতো বিস্ফোরিত হয়।
পোল্যান্ড প্রথম ২০০৩ সালে মার্কিন নির্মিত এফ-১৬ ক্রয় করে, যা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাশিয়ার ২০২৩ সালের ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে তার বহর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সুলতানা দিনা/