ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু বিশ্বকাপ নিয়ে অনারের ক্যাম্পেইন, ফোন-ট্যাবলেটসহ পুরস্কার জেতার সুযোগ বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় ফিরল স্পেন ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স টিভিতে আজকের খেলা ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ সিলেটে বালুচাপা দেওয়া ভারতীয় জিরাসহ চোরাইপণ্য জব্দ, গ্রেপ্তার ২ টাঙ্গাইলে কবরস্থানের জায়গা দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন পদ্মায় গৃহবধূ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত সবজির দাম অনেকটা সহনীয়, মাংসের দোকানে এখনো নেই ক্রেতা আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা জয়পুরহাট জেলা যুবদলের সদস্যসচিব বহিষ্কার লোকসভায় তৃণমূলে ভাঙন, মমতাকে ছাড়লেন ২০ সংসদ সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীমান্ত থেকে কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১ মানসিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা মাদারীপুর সদর থানা থেকে ২ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চকরিয়া থেকে অপহৃত ৫ জনকে অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধভাবে প্লাস্টিক পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে  ডিজেল জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল ৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী যন্ত্রের ছোঁয়ায় মাঠে নতুন সম্ভাবনা নোংরা পানিতে সয়লাব খুলনার প্রবেশদ্বার সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
Nagad desktop

বিশ্ব ‘শান্তি অথবা যুদ্ধের’ মাঝে দাঁড়িয়ে

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩১ এএম
আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০৬ এএম
বিশ্ব ‘শান্তি অথবা যুদ্ধের’ মাঝে দাঁড়িয়ে
চীনে গতকাল দেশটির পিপল'স লিবারেশন আর্মির অনার গার্ড সদস্যরা কুচকাওয়াজ চলাকালে মার্চ করেন। বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল কুচকাওয়াজটি । ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব শান্তি অথবা যুদ্ধ- যেকোনো একটা বেছে নেওয়ার মাঝে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গতকাল বুধবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তিতে কুচকাওয়াজ আয়োজন করেছিল চীন। সেখানেই এ হুঁশিয়ারি দেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, নজিরবিহীন শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে পুরো বিষয়টির মধ্য দিয়ে। এক মঞ্চে বিশ্বের বহুল আলোচিত এই তিন দেশের নেতাই শুধু হাজির হননি, আয়োজনটিতে নিজেদের সর্বাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক রসদও দেখিয়েছে চীন।

এমন একটি সময়ে কুচকাওয়াজ ও তিন নেতার একই মঞ্চে আবির্ভাবের ঘটনাটি ঘটল, যখন পশ্চিমের নিজেদের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। যুক্তরাষ্ট্র গাজা ও ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ব্যর্থ হয়েছে। পুরো বিশ্বেই যুদ্ধ দুটির প্রভাব পড়ছে। অশান্ত হয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপ করে বিশ্বের দেশগুলোকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। অনেক দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এর আগে একাধিকবার বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন। গতকালের আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা আবারও সেদিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

কুচকাওয়াজে প্রাধান্য পেয়েছে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন। তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ওই আয়োজন চলাকালে উপস্থিত ছিলেন ৫০ হাজারেরও বেশি জনতা। তাদের উদ্দেশে শি বলেন, আজ বিশ্ব যুদ্ধ অথবা শান্তি, সংলাপ অথবা সংঘর্ষ বেছে নেওয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। তিনি আরও বলেন, চীনের জনসাধারণ দৃঢ়ভাবে ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

ছাদখোলা লিমুজিনে চড়ে সেনাসদস্যদের প্রদর্শিত নতুন ও সর্বাধুনিক অস্ত্র পরিদর্শন করেন শি জিনপিং। এ সময় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে পানির নিচে চলতে সক্ষম এমন ড্রোন, রোবট নেকড়ে সবই দেখায় চীন।

আয়োজন উপলক্ষে মুক্ত করা হয় ৮০ হাজার ‘শান্তির’ পাখি। আয়োজনে যে শুধু পুতিন ও কিম ছিলেন তা নয়, উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের ২৫টিরও বেশি নেতা। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাউবো সুবিয়ান্তোও সবাইকে একরকম চমকে দিয়ে হাজির হন কুচকাওয়াজে। তার নিজ দেশে বর্তমানে চলছে বিক্ষোভ।

তবে আসরে প্রাধান্য পেয়েছেন পুতিন ও কিমই। তাদের মাঝেই আসন গ্রহণ করেন শি জিনপিং। অনুষ্ঠান চলাকালে তাদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে দেখা গেছে। এবারই প্রথম তিন নেতা প্রকাশ্যে উপস্থিত হলেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা দিয়ে সহায়তা করার জন্য পুতিন পরে কিমকে ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে কিম বলেন, রাশিয়াকে সহায়তা করার জন্য তিনি সব করতে প্রস্তুত।

ট্রাম্পের অভিনন্দন!

কুচকাওয়াজ চলাকালে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালকে। এক পোস্টে ট্রাম্প তুলে ধরেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের কাছ থেকে স্বাধীনতা নিরাপদ রাখতে চীনকে সহায়তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

শি জিনপিংয়ের উদ্দেশে তিনি আরও লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সময়টিতে ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনকে দয়া করে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাবেন।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এর জবাব দেওয়া হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন না পুতিন। ট্রাম্প বিদ্রূপ করে থাকতে পারেন এমনটাই মনে করছে ক্রেমলিন। সূত্র: রয়টার্স

ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সামাজিক মাধ্যমকে এক পোস্টে বলেছেন, ‘ইরান এবং হিজবুল্লাহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল, আর আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী- তবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই এখনও শেষ হয়নি।’

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েল আপাতত হামলা বন্ধ রেখেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান যদি আবারও আক্রমণ করে, তবে তার জবাব দেওয়া হবে চরম ও ধ্বংসাত্মক শক্তি দিয়ে।’

উদ্বেগজনক একটি সপ্তাহ শেষে উভয় পক্ষই যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসেছে, ঠিক তখনই নেতানিয়াহুর এই হুঁশিয়ারি বার্তা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা হামলা বন্ধ রেখেছি, কারণ তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে আমরা হামলা করার পর তারা আমাদের ওপর আক্রমণ চালানো বন্ধ করেছে। তবে ইরান যদি আবারও আমাদের ওপর হামলা করার ভুল করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেব।’

তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে, পরমাণু বোমা দিয়ে আমাদের ধ্বংস করার ইরানি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমরা একটি ঐতিহাসিক ও আগাম হামলা চালিয়েছি। আমরা সেই তাৎক্ষণিক হুমকি নস্যাৎ করেছি- এবং আমরা অত্যাচারী খামেনিকেও নির্মূল করেছি।’

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।’

হিজবুল্লাহর প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ হাজার হাজার সন্ত্রাসী নিয়ে গ্যালিলিতে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল এবং একই সাথে দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট দিয়ে ইসরায়েলের শহরগুলো ধ্বংস করার ছক করেছিল। আমরা সেই হুমকিও রুখে দিয়েছি এবং নাসরুল্লাহকে নির্মূল করেছি।’

তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এখনও বোফোর্ট রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর মাটির নিচের সুড়ঙ্গ ও অবকাঠামো ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমেই এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জবাবে ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। বৈরুতের সেই হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে গুলি চালানোর পর, আমি আইডিএফকে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) বৈরুতে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে এবং হিজবুল্লাহর অপারেটিভদের নির্মূল করার নির্দেশ দিই। এরপর ইরান যখন ইসরায়েলে আক্রমণ করল, আমি আইডিএফকে ইরানজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার নির্দেশ দিই।’

পোস্টে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে চমৎকার আলোচনার প্রেক্ষিতে, গভীর প্রশংসা ও সম্মানের সঙ্গেই ইসরায়েল তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে‘’

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য মূলত আমেরিকার সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে সামাল দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেন যে, ইসরায়েল যদি যুদ্ধ এভাবে বাড়াতে থাকে, তবে তারা আমেরিকার সমর্থন হারাতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

লোকসভায় তৃণমূলে ভাঙন, মমতাকে ছাড়লেন ২০ সংসদ সদস্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
লোকসভায় তৃণমূলে ভাঙন, মমতাকে ছাড়লেন ২০ সংসদ সদস্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় পরিষদীয় দল আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে। এবার লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হলো। লোকসভায় দলটিতে ভাঙন ধরেছে। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তারা কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোট এনডিএতে যোগ দিতে চাইছেন। 

বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও বীরভূমের সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা গতকাল সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠিও পাঠিয়েছেন।

যতসংখ্যক সংসদ সদস্য বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন (বসিরহাটের সংসদ সদস্য হাজি নুরুলের প্রয়াণের পর ওই আসনটি ফাঁকা রয়েছে)। এ অবস্থায় লোকসভায় দলের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সংসদ সদস্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে রয়েছেন।

এমন এক দিনে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই ভাঙন ধরল, যখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক দিল্লিতে রয়েছেন। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে এককাট্টা দেখাতে বৈঠকে বসেছেন মমতা, সনিয়া গান্ধী, অখিলেশ যাদবরা। ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরল। মমতার হাতছাড়া হয়ে গেল লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল।

তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক হিসাবেই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি। যদিও দলীয় বৈঠকে কাকলির বদলে কল্যাণকে চিফ হুইপ ঘোষণা করেছিলেন মমতা। কিন্তু অধিবেশন না চলার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্পিকারের দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে জানানো হয়নি। ফলে নিজের পদের ‘সদ্ব্যবহার’ করেছেন কাকলি। এ বিষয়ে কল্যাণ বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারের দপ্তরে আগেই জানানো হয়েছিল।’ যদিও বারাসতের সংসদ সদস্যের বক্তব্য, সংসদীয় দলের চিফ হুইপ এখনো তিনিই। দলের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কাকলির।

পরে এ বিষয়ে কাকলি পিটিআই (প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া)-কে বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সংসদ সদস্য এনডিএকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনতার রায় মেনে নিয়েছি। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে এনডিএর সঙ্গেই আমাদের চলা উচিত।’

লোকসভার স্পিকারকে তৃণমূলের বিদ্রোহীদের এই চিঠি পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে আসার আগে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। সূত্রের খবর, সেখানে কাকলি, শতাব্দীর পাশাপাশি ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকাররা। বিদ্রোহীদের তালিকায় ইউসূফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবের নামও ভেসে আসছে। ঘটনাচক্রে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সোমবার সকালে দিল্লিতে গিয়েছেন। দুপুরে ভূপেন্দ্রর বাড়িতে যান তিনিও।

দুপুরের ওই বৈঠকের পর গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লিতে শতাব্দীর বাড়িতে ফের একবার বৈঠকে বসেন বিদ্রোহীরা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীও গিয়েছেন সেখানে। সূত্র: আনন্দবাজার

৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে গড়ে তোলা আটক কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ ছাড়া আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। গত রবিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি সভায় দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর ইন্ডিয়া টুডে অনলাইনের

বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করা তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

শুভেন্দু জানান, রাজ্যের যে ৫৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এখনো কোনো বেড়া নেই, তার মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার অংশে বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) ইতোমধ্যে জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএসএফের কাছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছি এবং উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেক করিডরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, চিকেনস নেক নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পথ, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

সরকারের পুশব্যাক অভিযানের বিষয়টি তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যেসব অবৈধ অভিবাসী ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় পড়েন না, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম মেনে তাদের সরাসরি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গায় এই ধরনের নিয়ম কার্যকর করা হলেও পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। যার ফলে অবৈধ অভিবাসীরা জনগণের করের টাকায় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এখানে থেকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

শুভেন্দু বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর আটক কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৮৩৬ জন বহিষ্কারের অপেক্ষায় আছেন।

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে বহু নথিপত্রহীন অভিবাসী ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় রাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ঘটা এই অনুপ্রবেশের বিষয়টিই সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সফল নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি ছিল।

একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে ইতোমধ্যে আদমশুমারিসংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হবে। শুভেন্দু অধিকারীর তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ এই আদমশুমারির কাজ সম্পূর্ণ হবে এবং এর পর পরই নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শুরু করা হবে।

এআই নিয়ে ব্যস্ত বিশ্ব গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইউনান প্রদেশের বাওশান শহরে অবস্থিত একটি রেয়ার আর্থ (বিরল মাটি) খনি

লিথিয়াম থেকে শুরু করে বিরল খনিজ–কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় খনি, পরিশোধনাগার ও বন্দরের ওপর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। আমদানি-নির্ভরতার কারণে ভারত এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রধান আলোচনার বিষয় এআই। বৃহৎ ভাষাভিত্তিক মডেলগুলো ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ক্ষেত্রের বিশ্লেষণ উন্নত করতে উন্নত এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। বিশ্বের আরেকটি বড় মনোযোগের ক্ষেত্র হলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বায়ু ও পানিদূষণ কমানোর লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক পরিবহনব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সেগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। অর্থাৎ খনিজ উত্তোলনের খনি থেকে শুরু করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাতকারী পরিশোধনাগার এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহকারী নৌপথ–সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়েই এই লড়াই।

লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল খনিজের বিশেষ শ্রেণিগুলো এআইয়ের বিকাশের ভিত্তি। একই সঙ্গে অণুইলেকট্রনিকস, ব্যাটারি এবং অর্ধপরিবাহী শিল্পের মূল উপাদানও এগুলো।

সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলা হয়, কারণ এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তির হার্ডওয়্যার অবকাঠামো এই সম্পদগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

এসব খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ কোনো দেশের জন্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয়, বরং অস্ত্র উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কৌশলগত সুবিধা এনে দেয়। 

পরবর্তী বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা গবেষণাগারে জেতা যাবে না। নতুন আবিষ্কার বা সবচেয়ে আগ্রাসী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও এককভাবে বিজয়ী হবে না। বিজয়ী হবে সেই দেশ বা প্রতিষ্ঠান, যারা খনি, পরিশোধনাগার ও বন্দরগুলোর ওপর সবচেয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। আর বর্তমানে সেই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মালিকানা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের বিরল খনিজের চাহিদা পূরণে সক্ষম সম্পদের ক্রমবর্ধমান অংশ অধিগ্রহণ করছে।

২০২৪ সালে এই ধরনের অধিগ্রহণ গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অন্তত ১০টি চুক্তির মূল্য ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০২৫ সালে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি অর্থ ব্যয় করে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার খনি এবং পরিশোধনাগার কিনে নেয়। এতে তাদের বিদ্যমান প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস জানায়, চীন বর্তমানে বিশ্বের মোট গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। বিরল খনিজ উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিশোধনের প্রায় ৮৭ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে।

২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চীনের খনিজ অধিগ্রহণের পরিমাণ ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনায় কেনা ২ বিলিয়ন ডলারের একটি লিথিয়াম খনি এবং বতসোয়ানায় কেনা ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের একটি তামার খনি।

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তারা গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজের প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রয়োজন হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কাছে রপ্তানি সীমিত করা বা অন্য সরবরাহকারীদের বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল। শুল্কযুদ্ধের উত্তপ্ত পরিবেশে চীন এমন কিছু বিরল খনিজের সরবরাহ সীমিত করেছিল, যেগুলোর ওপর মার্কিন উৎপাদন শিল্প ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

চীনের এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দেয়, কীভাবে কৌশলগত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একই ধরনের বাস্তবতা দেখা গেছে, যখন ইরান হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ, তা নয়। বরং তারা এই নির্ভরতা কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রভাব কমাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য জোট গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ভ্যান্সের ওই বৈঠকে ভারত ও জাপানসহ ৫৫টি দেশ অংশ নেয়।

তিনি বলেন, ‘সস্তা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ দিয়ে আমাদের বাজার সয়লাব করে দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করার সমস্যা আমরা দূর করতে চাই।’ যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ খনিজের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ এবং এর জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার প্রাথমিক তহবিল বরাদ্দ করেছে। 

ভারতের জন্য এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। ইরান যুদ্ধ এবং তেল-গ্যাস আমদানিতে সংকট ভারতের সরকারকে জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য করেছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং ঝুঁকিসংক্রান্ত অতিরিক্ত খরচ এর প্রধান কারণ।

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নয়, বরং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরও জরুরি। কিন্তু সেই রূপান্তর নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহের ওপর, যা ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেই। সূত্র: এনডিটিভি

খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর ১০০ দিন পার হয়ে গেলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এখনো তাদের এই শীর্ষ নেতাকে দাফন করতে পারেনি। 

যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানি রাজনীতিতে এই দীর্ঘ বিলম্ব এখন অন্যতম সংবেদনশীল ও নজিরবিহীন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একই হামলায় নিহত অন্যান্য সামরিক কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাফন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ খামেনির জন্য একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো তা হয়নি। তেহরানের পৌর কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে তার দাফন সম্পন্ন এবং কয়েক দিনব্যাপী দোয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে এই দীর্ঘ বিলম্ব শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই মানায় না। কারণ ইসলামে মৃতদেহ দ্রুত দাফন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সমসাময়িক আলেমরাও মনে করেন, মৃতদেহের প্রতি অসম্মান হওয়ার ঝুঁকি থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়িয়ে চলা উচিত। দাফন না হওয়ায় খামেনির মরদেহের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। একই হামলায় নিহত অন্য কর্মকর্তাদের মরদেহ কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের মরদেহ ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। তবে খামেনির মরদেহের বর্তমান অবস্থা বা অবস্থান নিয়ে কর্মকর্তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

নিরাপত্তা উদ্বেগ ও নিখোঁজ উত্তরসূরি

দাফনের এই অমীমাংসিত প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় রহস্য। খামেনির উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি। বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে যে হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে, সেটির পর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তিনি সামান্য আঘাত পেলেও সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তা সত্ত্বেও তার গুরুতর আহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

মোজতবা খামেনি সুস্থ ও সক্রিয় থাকলে তিনি নিঃসন্দেহে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবেন। ফলে তার যেকোনো বড় পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স বা জনসমক্ষে আসা একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই বাস্তবতা নতুন নেতার জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কারণ একজন সর্বোচ্চ নেতার জানাজা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা প্রদর্শনেরও একটি বড় মাধ্যম। এমন একটি বড় ইভেন্টে নতুন উত্তরসূরির অনুপস্থিতি যেমন ব্যাখ্যা করা কঠিন, ঠিক তেমনি তার উপস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা হয়তো দেশের প্রশাসন এই মুহূর্তে নিতে চাচ্ছে না।

জানাজার রাজনৈতিক দিক

এই বিলম্বের পেছনে একটি রাজনৈতিক মাত্রাও রয়েছে। ইরান বরাবরই এই ধরনের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করে থাকে। এর বড় উদাহরণ ছিল রেভল্যুশনারি গার্ডসের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির জানাজা। তার মরদেহটি কেরমানে দাফন করার আগে বাগদাদ, নাজাফ, কারবালা, মাশহাদ, তেহরান এবং কোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছিল, ওই অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেই ছবিগুলো সরকারের প্রচারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। যদিও কেরমানে দাফনের সময় হুড়োহুড়িতে ৫৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি তখন আড়ালে পড়ে গিয়েছিল। কর্মকর্তারা খামেনির জন্যও ঠিক একই ধরনের এক বিশাল জনসমাগমের আশা করছেন। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে এত বড় একটি আয়োজন করা লজিস্টিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

আপাতত ইরান এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পরও দেশটিতে নতুন উত্তরসূরি নির্বাচন করা হলেও তাকে জনগণের সামনে আনা হয়নি। সাবেক নেতাকে এক ঐতিহাসিক বিদায় জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আর এই সবকিছু নিয়েই এখন চারদিকে নানা প্রশ্ন উঠছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল