ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, গাজায় নরকের দরজা খোলা হচ্ছে। সেখানকার গাজা সিটিতে বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আগামীতে আরও বহুতল ভবন ধ্বংস করা হবে। মূলত গাজা দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ইসরায়েল। সেটিরই ধারাবাহিকতায় করা হচ্ছে এসব।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকায় অন্তত ৪৪ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া গাজা সিটিতে হামলায় অন্তত ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা এখন গাজা সিটির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। আল-জাজিরার খবর বলছে, আবাসিক ভবন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরেও হামলা চালিয়েছে তারা। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক দপ্তর ইউনিসেফ বলছে, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি কল্পনারও বাইরে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় প্রতিদিন অন্তত ২৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুসারে, অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে মোট নিহতের অন্তত ৩০ শতাংশই শিশু। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৬৪ হাজার ২৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৩ জন। গাজার গণমাধ্যম দপ্তর বলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হবে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ।
গাজা অবরোধ করে সেখানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতিও তৈরি করেছে ইসরায়েল। মানুষ না খেতে পেয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। অনাহারে মৃতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
এদিকে নিজেদের হাতে থাকা দুই ইসরায়েলি জিম্মির ভিডিও গতকাল প্রকাশ করেছে হামাস। তাদের মধ্যে একজন বলেছে, তাকে গাজা সিটিতে রাখা হয়েছে। এ মুহূর্তে গাজা সিটিতে বড় পরিসরে আগ্রাসন পরিচালনা করছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসের হাতে এখনো ৪৮ জন জিম্মি আছে। ধারণা করা হয়, তাদের মধ্যে ২০ জন বেঁচে আছেন। সূত্র: রয়টার্স