বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান সিনাই পর্বতের (এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত এলাকা) সেন্ট ক্যাথরিনকে বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মিসর।
মিশরের গৃহায়ন, উপযোগিতা এবং নগর মন্ত্রণালয় নগর সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
মিশরের গৃহায়ন মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার শেরিফ এল-শেরবিনি গত বৃহস্পতিবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) সেন্ট ক্যাথরিনে পরিদর্শন সফরে গিয়ে জানান, সিনাই পর্বতের সেন্ট ক্যাথরিনের জায়তৌনা এলাকায় ২১টি হোটেল কমপ্লেক্স স্থাপনের কাজ চলছে। যেখানে দর্শনার্থীদের সেবা প্রদানের জন্য মোট ৫৪৬টি হোটেল আবাসিক ইউনিট থাকবে। এগুলো স্থানটিকে একটি বৈশ্বিক গন্তব্যস্থলে পরিণত করবে।
স্থানীয়ভাবে জাবাল মুসা নামে পরিচিত এই পর্বতকে ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমরা একইভাবে শ্রদ্ধা করেন। কোরআন ও বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী এখানেই মুসা (আ.) দশ আদেশ লাভ করেছিলেন। এখানকার জ্বলন্ত গুল্ম থেকে আল্লাহ তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
ষষ্ঠ শতকের সেন্ট ক্যাথরিন মঠও এখানেই অবস্থিত, যা ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মরুভূমির এই নির্জন এলাকায় বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও বাজার নির্মাণ শুরু করেছে মিসর। ২০২১ সালে শুরু করা এই প্রকল্পের নাম ‘গ্রেট ট্রান্সফিগারেশন প্রজেক্ট’ যেটা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। যার মধ্যে রয়েছে হোটেল, ইকো-লজ, কেবল কার ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণ।
মিসরীয় সরকার এই উদ্যোগকে ‘বিশ্বের প্রতি মিসরের উপহার’ হিসেবে দেখলেও এই উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেবেলেয়া নামের প্রাচীন বেদুইন উপজাতি। তাদের বলা হয় ‘গার্ডিয়ান অব সেন্ট ক্যাথরিন’।
এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজের সময় তাদের ঘরবাড়ি ও ইকো-ক্যাম্প ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি কবরস্থান খালি করে গাড়ি পার্কিং নির্মাণ করা হয়েছে!
প্রকল্পটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি তুলেছে গ্রিস। সেন্ট ক্যাথরিন মঠের জমি নিয়ে কায়রো ও এথেন্সের মধ্যে উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। মিসরীয় আদালত রায় দেয়, মঠ রাষ্ট্রের জমিতে অবস্থিত এবং কেবল তাদের ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে।
এই রায়কে অর্থডক্সদের জন্য অস্তিত্ব সংকট বলে মন্তব্য করেন গ্রিক আর্চবিশপ ইয়েরোনিমোস দ্বিতীয়।
ইউনেস্কোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, এই পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের আধ্যাত্মিক বন্ধন জড়িয়ে আছে। যা প্রকল্পের কারণে ধ্বংস হচ্ছে।
গত বছর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচ খোলামেলা চিঠিতে ইউনেস্কোকে আহ্বান জানায় এলাকাটিকে বিপদাপন্ন ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করতে।
সুলতানা দিনা/