ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রধান সরকারি ভবনে বোমাবর্ষণ করেছে রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার এটা প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বড় বিমান হামলা। হামলায় দেশটির মন্ত্রিপরিষদের কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানায়, শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শেষ রাত ও রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রায় ৮০৫টি ড্রোন এবং ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মূলত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে, যা পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে এবং পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী। তবে রাজধানী ও তার আশপাশের অঞ্চলেও আঘাত হানা হয়েছে।
এ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ৩২ বছর বয়সী নারী এবং তার দুই মাস বয়সী সন্তান রয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীও আছেন।
হামলায় কিয়েভে অবস্থিত ইউক্রেন সরকারের প্রধান ভবনসহ প্রায় ডজনের বেশি ভবনে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সুইরিদেঙ্কো বলেন, এই প্রথম শত্রুপক্ষের হামলায় সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বকে শুধু কথায় নয়, কাজে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পাল্টা জবাব দিতে হবে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা জরুরি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, এমন হামলা চালানো একটি ইচ্ছাকৃত অপরাধ এবং যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল। তিনি অতি দ্রুত মিত্র দেশের সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার হামলার মাত্রা বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন, তবুও তা এখনো সফল হয়নি।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান টকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃত এবং সচেতনভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তবে মস্কো এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। উভয় পক্ষই বেসামরিক লোকদের টার্গেট করার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, যদিও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
রবিবার ভোরে ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী মিসাইল ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা জানায়। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি দাবি করেছেন, তারা রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে দ্রুজবা তেল পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে। টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, পাইপলাইনে বিস্তৃত অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এই ট্রানজিট পাইপলাইন রুশ তেল হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় সরবরাহ করে। সূত্র: দি টেলিগ্রাফ