মায়ানমারের সামরিক শাসক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অং সান সু চির স্বাস্থ্যের অবনতির খবর সত্য নয় বলে জানানো হয়েছে। তারা দাবি করেছে, সংবাদটিকে ইচ্ছা করে সামনে আনা হয়েছে, যাতে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাংয়ের চীন সফরের বিষয়টিকে আড়াল করা যায়।
জান্তা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, খবরটি অসত্য। চীনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনসহ উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে মায়ানমারের অংশগ্রহণের বিষয়গুলোকে আড়াল করতেই এটিকে সামনে আনা হয়েছে। অং সান সু চির স্বাস্থ্য ভালো রয়েছে।
মায়ানমারের উন্নতির বিরোধীরা খবরটি ছড়িয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। অং সান সু চির স্বাস্থ্য নিয়ে প্রথম উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি যুক্তরাজ্যের এক সংবাদপত্রকে বলেন, তার মায়ের হৃদরোগ আরও তীব্র হয়েছে এবং তিনি জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে সু চিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জান্তা সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে জান্তা সরকার কোনো সাড়া দেয়নি। সু চিকে কোথায় রাখা হয়েছে, কী ধরনের চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন, সে সম্পর্কে কোনো তথ্যও পরিবারের কাছে নেই বলে জানান কিম অ্যারিস।
পরে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ। তিনি বলেন, অং সান সু চিকে মুক্তি দেওয়ার সময় চলে এসেছে। তাকে অনতিবিলম্বে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি নৈতিক ও মানবিক একটি আবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৮০ বছর বয়সী অং সান সু চি বর্তমানে চতুর্থবারের মতো বন্দিজীবন পার করছেন। ১৯৮৯ সাল থেকে তাকে একাধিকবার আটক ও গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান তিনি। এর পর থেকেই সু চি আটক জান্তা সরকারের হাতে। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে খবর এসেছিল, সু চি দাঁতের সমস্যায় ভুগছেন এবং তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। সূত্র: ইরাবতি