কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর একের পর এক দেশ নিন্দা জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে অস্থির করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: কাতারের দোহায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা
যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শর্তে হামাসকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে জানায় যে, এটিই শেষ সুযোগ। সে আলোচনাই চলছিল দোহায়, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে। এমন সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি নিয়ে ইসরায়েল হামাসের দোহার হেডকোয়ার্টারে বিমান হামলা চালায়। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায় নি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারংবার হামাসকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ হামলা মূলত মার্কিন সরকারের পরোক্ষ সমর্থনেই হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দোহায় ইসরায়েলের বিমান হামলা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হয়। কাতারের আকাশে হামলার সময় একটি মার্কিন এফ-১৫এ যুদ্ধবিমানও দেখা গেছে।
দুদিন আগে ট্রাম্প হামাসকে সর্বশেষ হুমকি দিয়েছিল চুক্তির ব্যাপারে। বলেছিল আর কোনো ওয়ার্নিং দেয়া হবেনা। আজ সেই চুক্তি পর্যালোচনারত অবস্থায়ই হামাসের সর্বোচ্চ লিডারের ওপর হামলা করে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র।
সৌদি আরব
সৌদি আরবও কাতারে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তবে আকাশপথ ব্যবহারে ইসরায়েলি বিমানগুলোকে অনুমতি দেওয়ায় রিয়াদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি আরব সবসময়ই ইসরায়েলকে আকাশ সীমা ব্যবহার করে ইরান, সিরিয়া কিংবা ইরাকে হামলা করতে অনুমতি দিয়ে থাকে।
তুরস্কের প্রতিক্রিয়া
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই হামাসের আলোচনাকারী প্রতিনিধিদলকে লক্ষ্য করা প্রমাণ করে, ইসরায়েল শান্তি নয়, বরং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। তারা আরও বলে, “এটি স্পষ্ট প্রমাণ যে ইসরায়েল অঞ্চলজুড়ে সম্প্রসারণবাদী রাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।”
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দোহায় বিমান হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার “মারাত্মক লঙ্ঘন” বলে আখ্যা দেন। তিনি সব পক্ষকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে কাজ করার আহ্বান জানান।
কুয়েত
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলা আন্তর্জাতিক সব আইন ও নীতির লঙ্ঘন। তারা নিরাপত্তা পরিষদকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জর্ডান
জর্ডান ইসরায়েলি আগ্রাসনকে কাতারের জনগণের নিরাপত্তার জন্য “গুরুতর হুমকি” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, তারা কাতারের পাশে আছে এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কাতারের যেকোনো পদক্ষেপে পূর্ণ সমর্থন দেবে।
ইরাক
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দোহায় হামলাকে “কাপুরুষোচিত” উল্লেখ করে কাতারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
মালদ্বীপ
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন ও একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর স্পষ্ট আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলের অবস্থান
দোহা আক্রমণ নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইসরায়েল এটা শুরু করেছে, ইসরায়েল এটা সম্পন্ন করেছে এবং ইসরায়েল এর পূর্ণ দায়ভার বহন করবে।”
ইসরায়েলি এক স্কলার মেইর মাসরি, এক্সে তুরস্ককে ইঙ্গিত করে লিখেন, ‘‘যে দোহায় আক্রমণ করতে পারে, সে আঙ্কারাকেও আক্রমণ করতে পারবে।’’ সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/